শেয়ার বিজ ডেস্ক: ইবোলা ভাইরাস সাধারণত আক্রান্ত মানুষ বা প্রাণীর শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্কর্শে আসার মাধ্যমে ছড়ায়। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চজ্বর, বমি এবং শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ইবোলায় গড় মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি)-তে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া বুন্দিবুগিও স্ট্রেনের ইবোলা প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) প্রধান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গবেষণাধীন বা পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন ও ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করছেন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নেতারা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইসাস জানান, নতুন প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর ডিআরসিতে ৫০০ জন আক্রান্ত ও ১৩০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাবের ঘোষণা দেওয়ার পর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেছে।
ডিআরসির ইতুরি প্রদেশে কাজ করা আন্তর্জাতিক উদ্ধার কমিটির (আইআরসি) স্বাস্থ্যবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক ড. মেসফিন টেকলু টেসেমা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, শনাক্তের চেয়ে আক্রান্তের সংখ্যা সম্ভবত অনেক বেশি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ডিআরসির সঙ্গে দক্ষিণ সুদানের সীমান্ত বেশ উš§ুক্ত ও অরক্ষিত। ফলে দক্ষিণ সুদানে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়া কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু সেখানকার জনস্বাস্থ্য অবকাঠামো দুর্বল। রোগীদের সেবা দেওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য গ্লাভস, মাস্ক ও গগলসের মতো মৌলিক সুরক্ষামূলক সরঞ্জামের তীব্র সংকট রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইবোলা অত্যন্ত মারাত্মক রোগ। চিকিৎসা সুবিধা থাকার পরেও বুন্দিবুগিও স্ট্রেনে মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ। যেখানে স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল এবং রোগীরা হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি করছে, সেখানে মৃত্যুর হার অনেক বেশি হতে পারে।
স¤‹্রতি ভাইরাসটির জিনগত নকশা প্রকাশ করেছেন ডিআরসি ও উগান্ডার বিজ্ঞানীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স¤‹্রতি কোনো প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমণের মাধ্যমে এ প্রাদুর্ভাবের সূচনা হয়েছে, যাকে ‘স্কিলওভার ইভেন্ট’ বলা হয়। এরপর তা মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়েছে।
যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজি অধ্যাপক ডেভিড ম্যাথিউস বলেন, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, কারণ এতে বোঝা যাচ্ছে প্রাদুর্ভাবের উৎস শনাক্ত করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতে পারে, যেমন অতীতেও হয়েছে। যদি বারবার প্রাণী থেকে নতুন সংক্রমণ ঘটত, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যেত।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওয়ার্ল্ড হেলথ অ্যাসেম্বলিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিআরসিতে নিযুক্ত ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি অ্যান আনসিয়া বলেন, ‘আমার মনে হয় না দুই মাসের মধ্যে আমরা এ প্রাদুর্ভাব শেষ করতে পারব। এ মুহূর্তে কোনো পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন বা চিকিৎসা প্রয়োগ করা যেতে পারে তা বিশেষজ্ঞরা খতিয়ে দেখছেন।’
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংস্থাটি স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তার জন্য ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে ৪০ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করেছে। এ ছাড়া সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় ১২ টন জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী ও পিপিই পাঠানো হয়েছে। কোনো ধরনের পরীক্ষা, ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা এ প্রাদুর্ভাবে কার্যকর হতে পারেÑসে বিষয়ে পরামর্শ নিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে।
ইবোলা ভাইরাস সাধারনত আক্রান্ত মানুষ বা প্রাণীর শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্কর্শে আসার মাধ্যমে ছড়ায়। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, বমি এবং শরীরের ভেতরে ও বাইরে রক্তক্ষরণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ইবোলায় গড় মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post