আগামী মাস থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় চালু হবে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএসের তিন জায়ান্ট বিকাশ, নগদ, রকেটের আন্তঃলেনদেন সেবা। এছাড়া ব্যাংকেও টাকা পাঠানো যাবে। লেনদেন খরচও সহনীয় পর্যায়ে- বিকাশ, রকেট ও নগদ পরস্পরের মধ্যে বা এমএফএস থেকে ব্যাংক ও পিএসপিতে হাজারে খরচ সাড়ে ৮ টাকা। সোমবার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ধরনের সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল। এ জন্য ‘বিনিময়’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মও চালু করা হয়। বিনিময়ের আওতায় এই সেবা চালু হলেও শেষ পর্যন্ত সেটি জনপ্রিয় হয়নি। সরকারের পতনের পর সেই সেবা বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশে নগদ অর্থ লেনদেন কমানোর জন্য এনপিএসবি অবকাঠামো ব্যবহার করে সব ব্যাংক, এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ও লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃলেনদেন চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) বা লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হলো এমন একটি সেবা মাধ্যম, যা ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ড থেকে ডিজিটাল লেনদেন গ্রহণে ব্যবসায়ীদের সহায়তা করে। পিএসপিগুলো ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে লেনদেনের মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করে। এক এমএফএস থেকে অন্য এমএফএস বা অন্যত্র টাকা পাঠানোর ব্যাপক চাহিদা বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যবস্থা চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেটি কার্যকর হলে গ্রাহকেরা স্বস্তি পাবেন। তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করলে এটি ক্যাশলেস অর্থব্যবস্থায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
আমাদের মনে আছে, বৈশ্বিক অতিমারী কভিডের সংক্রমণ ঠেকাতে সাধারণ ছুটির সময় দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের আয় কমে গিয়েছিল। প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। এ নিয়ে বড় বিপাকে পড়েছিল সাধারণ মানুষ। ওই সময় দেখা গেছে, যাদের এমএফএস বা মোবাইল ব্যাংক হিসাব আছে, তাদের আয় হ্রাসের হার কম। অর্থাৎ তারা অপেক্ষাকৃত কম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
কভিড নিয়ন্ত্রণে ঘোষিত ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক তৎপরতা কম থাকায় সীমিত আয়ের কর্মজীবীরা স্বাভাবিকভাবেই অরক্ষিত মানুষ তখন আরও অসহায় পড়েছিলেন। তবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কল্যাণে দরিদ্র মানুষেরা লেনদেন করতে পেরেছেন। অনেক তৈরি পোশাক কারখানা শ্রমিকদের মজুরি দিয়েছে এমএফএসের মাধ্যমে। সমাজের বিত্তবান মানুষ একই পদ্ধতিতে গরিবদের সহায়তা করেছেন। সে জন্য দেখা গেছে, যাদের মোবাইল ব্যাংক হিসাব আছে, তারা অতটা ক্ষতিগ্রস্ত হননি। ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার বিস্তার ঘটানো গেলে, সামাজিক সুরক্ষার টাকা ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেয়া হলে হতদরিদ্ররাও উপকৃত হবেন। পাশাপাশি বিগত কয়েক বছরে দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে নারী-পুরুষের ব্যবধানও কমেছে। এমএফএসে লেনদেনের খরচ যৌক্তিক হওয়ায় অনেকেই এটা ব্যবহারে আগ্রহী হবেন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত, এ খাতে স্বচ্ছতা ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post