নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের খসড়া মহাপরিকল্পনা বাতিল করে নতুন, স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছে নাগরিক সমাজ। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রণীত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬–২০৫০) গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং পরিবেশ ও সামাজিক প্রভাব উপেক্ষা করে তৈরি করা হয়েছে।
আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রতিবেশ ও উন্নয়ন বিষয়ক কর্মজোট (বিডব্লিউজিইডি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। এতে ক্লিন, বেলা, সিইপিআর, ইটিআই বাংলাদেশ, জেট-নেট বিডি, লিড, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্যে ক্লিনের নেটওয়ার্ক অ্যাডভাইজার মনোয়ার মোস্তফা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়মিত রাষ্ট্র পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও তারা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জ্বালানি পরিকল্পনা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোনো অর্থবহ জনপরামর্শ ছাড়াই এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খসড়া পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বাস্তব অংশ মাত্র ১৭ শতাংশ হলেও কাগজে তা ৪৪ শতাংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানো এবং ২৫ বছর পরও এলএনজি, কয়লা ও তেলের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ নির্ভরতার প্রস্তাব দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
বিডব্লিউজিইডির সদস্যসচিব হাসান মেহেদী বলেন, কোনো জনশুনানি বা উন্মুক্ত আলোচনার সুযোগ না দিয়েই এত গুরুত্বপূর্ণ একটি জাতীয় পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা পূর্ববর্তী সরকারের অস্বচ্ছ নীতির পুনরাবৃত্তি।
বক্তারা আরও বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হবে, বাড়বে ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি আমদানি ব্যয় ও কার্বন নিঃসরণ—যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে ইপিএসএমপি ২০২৫ স্থগিত ও বাতিল, নাগরিক সমাজ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে নতুন পরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু এবং ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়নের জোর দাবি জানানো হয়।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, বর্তমান খসড়া মহাপরিকল্পনা কার্যকর হলে আগামী কয়েক দশক ধরে জনগণকে উচ্চ বিদ্যুৎমূল্য, বাড়তি কর ও ভর্তুকির চাপ এবং অপূরণীয় পরিবেশগত ক্ষতির খেসারত দিতে হবে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post