নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে প্রথমবারের মতো ফ্রি ট্রেড জোন ও সামরিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৬০০ একর জমিতে ফ্রি ট্রেড জোন ও মিরসরাইয়ে ৮৫০ একর জমিতে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন করা হবে। গতকাল সোমবার বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন এ তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বেজার গভর্নিং বোর্ডের চতুর্থ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান বেজা নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেজা গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন বলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৬০০ একর জমিতে ফ্রি ট্রেড জোন করা হবে। মিরসরাইয়ে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন হবে। সেখানে ইন্ডিয়ান ইকোনমিক জোন হওয়ার কথা ছিল। সেটি বাদ গেছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে বিডার চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা জানেন এখন আমাদের কোন দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো। সে দেশগুলোই আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চুক্তির বিষয়টি একটি পর্যায়ে এলে তখন সরকার তা জানাবে।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) এ মিলিটারি ইকোনমিক জোন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলকে জিটুজি কাঠামো থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গায় খালি আছে, আমরা সেখানের প্রায় ৮৫০ একর জমিতে হবে এ জোন।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশনÑসামরিক অস্ত্র বা সামরিক শিল্পে এর প্রোডাকশন, সেটা নিয়ে অনেক দিন ধরে আলাপ-আলোচনা করছি। এটার এই মুহূর্তে আসলে গ্লোবাল ডিমান্ড আছে। একদম পিওর ইকোনমিক পয়েন্ট অব থেকে চিন্তা করলেও ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি এবং সেখানে বাংলাদেশ একটা পার্টিসিপেন্ট হিসেবে তাদের কাজ শুরু করতেই পারে।
তিনি বলেন, একই সঙ্গে আমরা এটাও দেখেছি যে বৈশ্বিক যে অবস্থা সেখানে আসলে সমরাস্ত্র তৈরির বা কিছু ক্যাপটিভ ক্যাপাসিটি আসলে খুব জরুরি। কারণ যখন সাপ্লাই শর্টেজ হয়, তখন যুদ্ধক্ষেত্রে আপনার কাছে যদি বন্দুকের গুলি না থাকে, সেক্ষেত্রে আপনি আর যুদ্ধে গিয়ে যুদ্ধ করার কোনো সুযোগ নেই। অনেকগুলো রিসেন্ট ওয়ারে দেখা গেছে যে সাপ্লাই শর্টেজ, সেই শর্টেজটা আসলে হাই টেকনোলজি আইটেমে না। শর্টেজটা হচ্ছে বুলেটের। শর্টেজটা হচ্ছে ট্যাংকের এক্সেলে। ওই জায়গাগুলোয় আমরা আসলে কোন রোল প্লে করতে পারি কিনা।
আশিক চৌধুরী বলেন, এটা নিয়ে অনেক দিন ধরে আর্ম ফোর্সেস ডিভিশন বেজা ও চিফ অ্যাডভাইজারস অফিস, মিনিস্ট্রি অব ডিফেন্স সবাই মিলে কাজ করছেন। তা আমরা আজকে এই প্রপোজালটা বেজার গাভনিং বোর্ডে নিয়ে গেছিলাম, যে মিরশরাইতেই প্রায় ৮৫০ একর জমিকে নির্ধারণ করছি। নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আমরা মাস্টার প্ল্যানে এটাকে ইনক্লুড করব। যেটা আসলে ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন হিসেবে এখন থেকে মার্চ হবে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও বলেন, ওই এই জায়গাটা এই মুহূর্তে খালি আছে। এটা ইন্ডিয়ান ইকোনমিক জোন হিসেবে আইডেন্টিফাই করা ছিল। ওই প্রজেক্টটা ক্যানসেল হয়ে গেছে। তো ওই জায়গাটা এভেইলেবল ছিল, আমরা ওই জায়গাটাকে এখন সামরিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন হিসেবে ব্যবহার করব। সেটা আমাদের বেজার মাস্টার প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post