নিজস্ব প্রতিবেদক : নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত ছাত্রলীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আল নাহিয়ান খান জয়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচায, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মো. বায়জিদ, গাজিপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. মাসুদ রানা এরশাদ, সাভারের বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ সভাপতি মো. আতিকুর রহমান ও নারায়ণগঞ্জের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমানের নাম রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংকগুলোয় চিঠি দিয়ে এই আট ছাত্রলীগ নেতার ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের তথ্য চায় বিএফআইইউ। চিঠিতে বলা হয়, এসব ব্যক্তির নামে কোনো ব্যাংকে হিসাব থাকলে বা কোনো লেনদেন সংগঠিত হলে বা এছাড়া কোনো তথ্য থাকলে তা বিএফআইইউকে পাঠাতে হবে।
চিঠিতে প্রত্যেক ব্যক্তির নাম, বাবা-মায়ের নাম, স্থায়ী ও বর্তামান ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক এই দলটির ছাত্র-সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একই সঙ্গে এই ছাত্রসংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ওই বছরের ২৩ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে, বিশেষ করে বিগত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হত্যা, নির্যাতন, গণরুমকেন্দ্রিক নিপীড়ন, ছাত্রাবাসে সিট বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়নসহ নানা ধরনের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং এ সম্পর্কে প্রামাণ্য তথ্য দেশের সব প্রধান গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং কিছু সন্ত্রাসী ঘটনায় সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের অপরাধ আদালতেও প্রমাণিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, গত ১৫ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ জনগণকে উš§ত্ত ও বেপরোয়া সশস্ত্র আক্রমণ করে শত শত নিরপরাধ শিক্ষার্থী ও ব্যক্তিদের হত্যা করেছেন এবং আরও অসংখ্য মানুষের জীবন বিপন্ন করেছেন। এ ছাড়া সরকারের কাছে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক, ধ্বংসাত্মক ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post