ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নে খাল খননের আড়ালে সামাজিক বনায়নের ৩শতাধিক গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত কর্মীর বিরুদ্ধে।
বন বিভাগের ছত্রছায়ায় গুনবহা ইউনিয়নের জামায়াত নেতা গুরদিয়া গ্রামের ইলিয়াস মোল্যা এ গাছ কাটার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দিনের আলোতেই খাল পারের বন বিভাগের লাগানো প্রায় তিন শতাধিক গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। এর সাথে জড়িত রয়েছে সামাজিক বনায়ন বাস্তবায়ন সমিতির সভাপতি মো. হিমায়েত হোসেন মাস্টার ও জামায়াত নেতা ইলিয়াস। এতে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
ভবানীপুরের জাহিদ শেখ বলেন- খাল খননের সময় যান্ত্রিক এস্কোভিটারে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু গাছ অপসারণের অনুমতি দেয় স্থানীয় প্রশাসন কিন্তু সমিতির সদস্য জামায়াত নেতা ইলিয়াস হোসেন দেদারসে খাল পারের প্রায় তিনশত গাছ কেটে মোনায়েম হুজুরের বাড়িতে জমা করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দিয়েছে। সভাপতি ও ওই নেতার কাছে গাছ বিক্রির টাকা রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নদেরচাঁদ প্রেমচাঁদ দাস একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. হিমায়েত হোসেন মাস্টার বলেন- খাল খননের সময় কিছু গাছ এস্কোভিটারে ভেঙে পড়ে সে গাছ গুলো কেটে বনবিভাগ জমা দেওয়া হয়েছে।
ইলিয়াস হোসেনের সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোন একাধিক বার চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নাই।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় দেশব্যাপী নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক নদেরচাঁদ ঘাট এলাকার মধুমতি নদীর একটি মজা খাল পুনঃখননের কাজ চলছে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, উপজেলার প্রান্তসীমায় মধুমতী নদীর নদেরচাঁদ ঘাট থেকে পৌরসভার গুনবহা কামারগ্রাম স্লুইসগেট পর্যন্ত প্রায় ৬ দশমিক ১ কিলোমিটার খাল খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। যান্ত্রিক ও শ্রমিকদের সমন্বয়ে কাজটি বাস্তবায়ন করার কথা রয়েছে ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্ষা ও শুকনো মৌসুমে কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, উৎপাদন খরচ কমবে এবং কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি খালে সারাবছর পানি থাকায় পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাতেও ভূমিকা রাখবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের আড়ালে কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল গাছ কেটে পরিবেশ ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান পরিবেশের ভারসাম্য ভারসাম্য রক্ষায় সামাজিক বনায়নের গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খাল খননের নামে নির্বিচারে গাছ কাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অবিলম্বে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post