নিজস্ব প্রতিবেদক: গত তিন বছরে দেশে প্রায় ৪০০টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, বর্তমানে অনেক কারখানা আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী জাতীয় বাজেটে সরকারের কাছে বিভিন্ন নীতি সহায়তা চেয়েছে তারা।
আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে অনুষ্ঠিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান এসব তথ্য তুলে ধরেন। সভায় এনবিআর চেয়ারম্যানসহ বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ এবং বিজিবিএ-এর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শুল্কজনিত প্রভাবে রপ্তানি আয় কমছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পোশাক রপ্তানি আয় ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। ফলে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না, এতে স্থায়ী ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং সামগ্রিক উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ আয়কর কর্তন অব্যাহতি, রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৬৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং তা পাঁচ বছরের জন্য স্থির রাখা। এছাড়া সোলার পিভি সিস্টেম ও ইটিপিসহ বিভিন্ন কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে ঋণের সুদের হার ১২ থেকে ১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০১৭ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং গত পাঁচ বছরে বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।
এছাড়া ২০২৪ সালে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি এবং বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রাম বন্দর-এর ট্যারিফ ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি এবং ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ধাপে ধাপে রপ্তানি প্রণোদনা প্রায় ৬০ শতাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে, যা খাতটির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর নীতি সহায়তা না পেলে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post