নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম বলে জানিয়েছে ট্রাসপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারের সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫’ প্রকাশ করেন।
বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচক (করাপশন পারসেপশনস ইনডেক্স বা সিপিআই) ২০২৫ অনুযায়ী সূচকে অন্তর্ভুক্ত ১৮২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের স্কোর ২৪। নিম্নক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম, যা দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে চতুর্থ সর্বনিম্ন স্কোর ও অবস্থান।
সূচকে ৮৯ স্কোর পেয়ে ২০২৫ সালে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ডেনমার্ক। ৮৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ফিনল্যান্ড এবং ৮৪ স্কোর পেয়ে তৃতীয় স্থানে সিঙ্গাপুর। আর ৯ স্কোর পেয়ে যৌথভাবে তালিকার সর্বনিম্নে অবস্থান করছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া। ১০ স্কোর পেয়ে নিম্নক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভেনেজুয়েলা এবং ১৩ স্কোর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে ইয়েমেন, লিবিয়া ও ইরিত্রিয়া।
সূচকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই এক পয়েন্ট স্কোর বৃদ্ধির পেছনে জুলাই অভ্যুত্থানের ফলে সূচিত গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সুশাসন অর্জনে অব্যবহিত ইতিবাচক সম্ভাবনার প্রভাব কাজ করেছে।
সিপিআই ২০২৫ অনুযায়ী, ১০০-এর মধ্যে বৈশ্বিক গড় স্কোর ৪২, যেখানে বাংলাদেশের স্কোর ২৪, যা বৈশ্বিক গড় স্কোরের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের গড় স্কোর ৪৫-এর তুলনায় ২১ পয়েন্ট কম। বাংলাদেশের স্কোর সর্বশেষ ১৪ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন, যা ২০২৩ সালের অনুরূপ।
টিআইবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা গভীর উদ্বেগজনক বলেই প্রতীয়মান হয়। তাছাড়া বাংলাদেশ এই সূচক অনুযায়ী, এমন দেশগুলোর মধ্যে আছে, যারা দুর্নীতির লাগাম টানতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
সিপিআইতে দুর্নীতির ধারণার মাত্রা শূন্য থেকে ১০০-এর স্কেলে নির্ধারণ করা হয়। এই স্কেলে শূন্য স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতা সর্বোচ্চ এবং ১০০ স্কোরকে সর্বনিম্ন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমাদের এই প্রত্যাশা ছিল, এই মেয়াদে তারা একটা ভিত্তি তৈরি করবে। সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্যই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তারা রাষ্ট্র সংস্কার করে ফেলবে এই প্রত্যাশা, কিন্তু আমাদের ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের এই ‘ব্যর্থতার’ সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘পুরোনো সংস্কৃতিতে ফিরে আসার’ বিষয়টিও যুক্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, সারা দেশে দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য, গ্রেপ্তার বাণিজ্য-এগুলো কারা করেছে? আমলাতন্ত্রের মব কারা করেছে?
রাজনৈতিক মন্ত্রী নন, অরাজনৈতিক উপদেষ্টারাই যে এখন মন্ত্রণালয় চালান, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে একজন সাংবাদিক জানতে চান, আমলাদের দুর্নীতির সঙ্গে উপদেষ্টাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো যোগ পাওয়া গেছে কি না।
ইফতেখারুজ্জামান তখন বলেন, মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টাদের কারো কারো দুর্নীতি আলোচিত হয়েছে। … সরকার কোনো অবস্থান নেয়নি, প্রকাশ্যে বলেইনি যে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন কিছু টানাহেঁচড়া করেছে, ‘অনুসন্ধান করছি বা করব’ এরকম বলেছে; কিন্তু বাস্তবে কিছু হয়নি।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post