পারভীন লুনা, বগুড়া: পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের বিশেষ নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বগুড়ায় খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘দেশব্যাপী নদী, নালা, খাল ও জলাধার খনন’ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের হারিয়ে যাওয়া জলাশয়গুলো পুনরুদ্ধারে সরকারের যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, এই উদ্যোগ তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গতকাল সোমবার বিকেলে নিজের পৈতৃক নিবাস বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে ‘নশিপুর চৌকিরদহ খাল’ খনন ও পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন তিনি সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পানির উৎস সংরক্ষণ করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশজুড়ে নদী ও খাল খননের যে প্রতিশ্রুতি আমরা নির্বাচনের আগে দিয়েছিলাম, তা এখন বাস্তবায়নের পথে।’
তিনি আরও বলেন, খালটির খনন কাজ সম্পন্ন হলে নশিপুরসহ আশপাশের এলাকার কৃষকরা সেচ সুবিধা পাবেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, খাল খননের পাশাপাশি এগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা জরুরি।
গাবতলীর নশিপুর চৌকিরদহ খালটি দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে ভরাট হয়ে থাকায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করত। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে আসবে এবং স্থানীয় কয়েক হাজার একর ফসলি জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, নদী-নালা ও খাল সচল রাখা মানেই দেশের অর্থনীতির প্রবাহ সচল রাখা। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজšে§র জন্য বাসযোগ্য ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সরকারের এ পরিবেশবান্ধব ও কৃষি
সহায়ক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বাগবাড়ীসহ পুরো গাবতলী এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রকল্প উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সফরসূচি অনুযায়ী, বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী বগুড়া জজ আদালতে ‘ই-বেইলবন্ড’ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নবনির্মিত আইনজীবী সমিতি ভবনের উদ্বোধন করেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় তিনি নবগঠিত ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’-এর ফলক উšে§াচন করেন এবং এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের ঘোষণা দেন।
দিনের দ্বিতীয় ভাগে প্রধানমন্ত্রী গাবতলী উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। এর মধ্যে রয়েছেÑ খাল খনন কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন। কর্মসূচি শেষে তিনি গাবতলীতে নিজ পৈতৃক নিবাস পরিদর্শন করেন।
এদিন বিকেলে পুনরায় বগুড়া শহরে ফিরে বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন ও বায়তুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। সফর শেষে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে তিনি বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে (আরডিএ) কিছুক্ষণ যাত্রাবিরতি করেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে বগুড়া শহর ও আশপাশে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। সকাল থেকেই শহরের প্রবেশমুখগুলোতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় করেন। কড়া নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে ফেলা হয় পুরো শহর।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post