নুরুন্নাহার চৌধুরী কলি : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা শেয়ার বিজকে বলেন, ১ জানুয়ারি সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের হাতে কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সাদামাটাভাবে নতুন বই তুলে দেওয়া হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও বুধবার সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। তাই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে একদিন সাধারণ ছুটিসহ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। ফলে ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মাধ্যমিক পর্যায়ের সাড়ে ১১ কোটির বেশি বই এখনও মুদ্রণের বাইরে থাকায় ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির এক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীকে বছরের প্রথম দিনে বইবিহীন অবস্থায় ক্লাসে বসতে হতে পারে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মোট প্রায় ৩০ কোটি বই ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ২১ কোটি ৪৩ লাখের বেশি বই মাধ্যমিক স্তরের। প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি স্তরের অধিকাংশ বই ছাপা ও সরবরাহ সম্পন্ন হলেও মাধ্যমিক স্তরের বই নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বছর শেষ হয়ে গেলেও মাধ্যমিকের সাড়ে ১১ কোটির বেশি বই এখনও ছাপা হয়নি।
যদিও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক শেয়ার বিজকে বলেন, ‘১ জানুয়ারি সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও বুধবার সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবং কোনো পরিবর্তন না এলে নির্ধারিত সময়েই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতেও দেশের সব প্রান্তের সব শিক্ষার্থীর হাতে একযোগে নতুন বই তুলে দিতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এনসিটিবিতে বড় ধরনের রদবদল ঘটে। চেয়ারম্যানসহ একাধিক সদস্য পদত্যাগ করেন। অন্তর্বর্তী সরকার সেখানে নতুনদের পদায়ন করে। এরই মধ্যে নতুন কারিকুলাম বাতিলের দাবি ওঠে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের গল্প ও গ্রাফিতি পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হয়। বইয়ের গল্প রচনা ও পরিমার্জন করার জন্য নতুন করে কাজ করতে হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে। যার কারণে অতিরিক্ত সময় লাগে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয় প্রকাশনা সংস্থাগুলোর কাগজ না পাওয়া এবং ব্যাংক ঋণ পেতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি।
অভিভাবকরা বলছেন, নতুন বছরের শুরুতে যখন বইয়ের পাতায় ছড়িয়ে পড়ে তাজা ছাপার ঘ্রাণ, তখনই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক। রঙিন মলাট, পরিচ্ছন্ন পৃষ্ঠা আর অচেনা গল্প-জ্ঞান ভান্ডারের আহ্বান যেন তাদের নতুন স্বপ্ন দেখায়। নতুন বইয়ের সেই ঘ্রাণে মাতোয়ারা হয়ে শিশুরা পা রাখে আরেকটি শিক্ষাবষেÑযেখানে শেখা মানেই আনন্দ, আর প্রতিটি পাতা খুললেই চোখের সামনে নতুন জগৎ।
এদিকে রাত পোহালেই বিদায় নেবে ২০২৫ সাল। দরজায় কড়া নাড়ছে নতুন শিক্ষাবর্ষ-২০২৬। নতুন শ্রেণি, নতুন ক্লাসরুম আর নতুন বইয়ের গন্ধ ছড়িয়ে দিতে ইতোমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় পাঠানো হচ্ছে নতুন বই।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এবার প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ২৯ কোটি ৮০ লাখ ১১ হাজার ৫৬৬ কপি বই ছাপানোর কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এর মধ্যে মাধ্যমিক, দাখিল, কারিগরির ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ১৮ কোটি ৯ লাখ ৬৬ হাজার ৮৪০ কপি বই ছাপা হবে। আর প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট বইয়ের সংখ্যা ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি।
এনসিটিবির দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাধ্যমিক ও ইবতেদায়ির প্রায় ১০ কোটি বই প্রস্তুত বাকি ছিল। তবে প্রাথমিকের সাড়ে ৮ কোটির বেশি বই ছাপা, বাঁধাই, কাটিং শেষে উপজেলা পর্যায়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) অডিটোরিয়ামে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছিলেন, নতুন বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই চলে যাবে। তবে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দিতে জানুয়ারি মাসটা লেগে যেতে পারে। এর চেয়ে বেশি দেরি হবে না।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post