নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর কারাঙ্গীরচর থেকে আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে মা কুলসুম বেগম তার আট মাস বয়সী কন্যাশিশু লামিয়া আক্তারকে হামের টিকা দিতে নিয়ে এসেছেন। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আজ থেকে দুশ্চিন্তা কিছুটা কমলো। আশপাশে হামের রোগী বাড়ায় মেয়েকে নিয়ে অনেক চিন্তায় ছিলাম। মেয়েকে টিকা দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। যদিও কষ্ট করে অনেক সময় নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। তারপরও সার্বিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল।’
আজিমপুর মাতৃসদন ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বাচ্চাদের যত্নসহকারে হামের টিকা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মী তাহমিনা আক্তার।
তিনি বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে টিকা কার্যক্রম শুরু করেছি। এলাকার অভিভাবকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শিশুদের নিয়ে আসছেন। আমরা একে একে সবাইকে টিকা দিচ্ছি।’
গত ৫ এপ্রিল দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। দ্বিতীয় দফায় গত ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ চারটি সিটি করপোরেশনে (ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল) একযোগে এই কার্যক্রম শুরু করে সরকার।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর আওতায় মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৪৫৬ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ডিএসসিসি এলাকাজুড়ে সর্বমোট ৫৪০টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৯০টি স্থায়ী এবং ৪৫০টি অস্থায়ী কেন্দ্র হিসেবে সেবা দেবে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে। এই কর্মসূচি চলবে আগামী ১১ মে পর্যন্ত।
সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন টিকাদান কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, লম্বা লাইনে অভিভাবকরা দাঁড়িয়ে আছেন, সবার কোলে ছোট শিশু। কেউ কেউ আবার বাচ্চাকে বোঝাচ্ছেন টিকায় কোনো ব্যথা নেই। কেউ বলছেন টিকা নিলে খেলনা কিনে দেবেন।
নাসরীন সুলতানা নামের এক নারী বলেন, ‘আমার নাতনির বয়স চার বছর। এমনিতে সুস্থ, কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু হামের কথা শুনে তাকেও টিকা দিতে নিয়েছি।’
শিশুদের টিকা দিতে পেরে এভাবেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অধিকাংশ অভিভাবক। তারা বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ও অনেকেই মারা যাচ্ছে; গণমাধ্যমে এমন খবর দেখে এবং টিকা দেওয়া হবে মাইকিং শুনে তারা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে এসেছেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমদাদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সাধারণ মানুষ তাদের সন্তানদের টিকা দিতে কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাচ্চাদের টিকা দিচ্ছেন। কয়েকটি কেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড় ছিল। সাধারণ মানুষ যাতে সুষ্ঠুভাবে তাদের আদরের সন্তানকে টিকা দিতে পারেন সে জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিকারও কোনো ঘাটতি নেই।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, রাজধানীতে হামের টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং শতভাগ শিশুর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
সরকার ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনতে চায় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার বিশ্বাস আগামী ছয় মাস ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে সঠিকভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারলে হাম-রুবেলা থেকে আমরা স্থায়ী সাফল্য অর্জন করতে পারব ইনশাআল্লাহ।’
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post