নিজস্ব প্রতিবেদক : ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১ কোটি লিটার সয়াবিন তেল এবং ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ২৫৬ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
আবার রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া এবং রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি বা পটাশ সার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সিঙ্গাপুর থেকে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এসব দ্রব্য কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের নিকট ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয়ভাবে উš§ুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে।
এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ১০টি লটে কেনার জন্য (প্রতি লটে ১০ লাখ লিটার করে) স্থানীয়ভাবে উš§ুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তার মধ্যে ১ থেকে ৫ নম্বর লটে প্রতিটিতে সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড এবং ৬ থেকে ১০ নম্বর লটে প্রতিটিতে শবনাম ভেজিটেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড একক দরদাতা হিসেবে দরপত্র জমা করে। দুটি প্রতিষ্ঠানের সব দরপ্রস্তাবই আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।
দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড থেকে প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা ৯৫ পয়সা হিসাবে ৫০ লাখ লিটার ৯২ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এবং শবনাম ভেজিটেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা ৯০ পয়সা হিসাবে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন ৯২ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কিনতে মোট লাগবে ১৮৫ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোজ্যতেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ কোটি লিটার। এ পর্যন্ত ক্রয় চুক্তি সম্পাদন হয়েছে ২ কোটি ৫৫ লাখ লিটার।
এদিকে, বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আরেক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে উš§ুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল (৫০ কেজি বস্তায়) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার জন্য ১০টি লটে (প্রতিটি ১ হাজার মেট্রিক টন করে) স্থানীয়ভাবে উš§ুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১০টি লটের বিপরীতে ২৯টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। প্রত্যেকটি লটে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হয় ঢাকার কেবিসি অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল (৫০ কেজির বস্তায়) প্রতি কেজি ৭০ টাকা ৯৬ পয়সা হিসেবে ৭০ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত ক্রয় চুক্তি সম্পাদন হয়েছে ৩২ হাজার মেট্রিক টন। আর টিসিবির গুদামে মজুত আছে ৫ হাজার ৯৮৬ মেট্রিক টন। চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিল মাসে বিক্রয়ের জন্য প্রায় ৬৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মসুর ডাল প্রয়োজন।
শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে রাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড থেকে ৪০ হাজার টন (১০ শতাংশ+) বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ফার্টিগ্লোব থেকে জিটুজি চুক্তির আওতায় ২০০৭ সাল থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করা হচ্ছে। আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি সভার অনুমোদন নিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে দুই লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ফার্টিগ্লোবের সঙ্গে চুক্তি মোতাবেক সারের মূল্য নির্ধারণ করে ৪০ হাজার মেট্রিক টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার এক কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলারে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ২০১ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রতি টন সারের মূল্য ধরা হয়েছে ৪১০ মার্কিন ডলার।
সেই সঙ্গে বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রোডিনটর্গ) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৫১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮৮৫ টাকা। প্রতি টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫২ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার।
এছাড়া বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরের আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে স্বল্পমেয়াদে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post