নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার সরকার সাজিয়েছেন এক ঝাঁক নতুন মুখ নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এ সরকারের আকার দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। এর মধ্যে ২৫ জন মন্ত্রী, আর ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী।
তবে সরকারের সবচেয়ে দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। পাশাপাশি তিনি শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করবেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ এবং খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেট-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তাদেরকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথবাক্য পাঠ করান।
আমি খসরু মাহমুদ চৌধুরী: তিনি একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সফল ব্যবসায়ী। বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের জন্য তিনি রাজনীতিতে বিশেষভাবে সমাদৃত। গত ২০ বছর বিএনপি যখন ক্ষমতার বাইরে ছিল, তখন দুঃসময়ে দলের হাল ধরেছেন তিনি। সামলিয়েছেন দলের পররাষ্ট্রনীতিও। অতীতে বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দেয়ায় এবার অর্থ মন্ত্রণালয়ও তিনি সফলভাবে সামলাতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।
আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১৯৪৯ সালে চট্টগ্রাম জেলার পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীতে জš§গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম আলহাজ মাহমুদুন্নবী চৌধুরী ও মায়ের নাম মেহেরুন্নেসা বেগম চৌধুরী। তিনি ১৯৬৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন। তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান। এছাড়া তিনি দি চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ও সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব এক্সচেঞ্জের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি চট্টগ্রামে দক্ষিণ কোরিয়ার অনারারি কনসাল, সোনালী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ শিল্প বিভাগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির: পেশায় ব্যবসায়ী আবদুল মুক্তাদিরের সক্রিয় রাজনীতি শুরু হয় ২০১২ সাল থেকে। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। অতীতে তিনি কখনো জনপ্রতিনিধি ছিলেন না। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি-মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
আবদুল মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আবদুল মালিক ১৯৭৯, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সিলেট-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ছিলেন।
১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জš§ নেওয়া খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের বাসা সিলেট নগরের তোপখানা এলাকায়। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির গণমাধ্যমকে বলেন, দল যে আস্থা দেখিয়েছে, তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করব। নিজের দায়িত্ব পালনে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় রাখব।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post