নিজস্ব প্রতিবেদক : আদালতের আদেশে ২০২৫ সালে দেশে-বিদেশে মোট ৩০ হাজার ৩৫১ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মোট ৩৭০টি আদালতের আদেশে এসব সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট জানায়, ২০২৫ সালে আদালতের ২২১টি আদেশে দেশে ৬ হাজার ১৩৭ কোটি ২২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৭ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং বিদেশে ৯৬ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ২৫ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে। ক্রোককৃত স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৬ হাজার ৯৭৯ দশমিক ৪৩ একর জমি, ৯১টি বাড়ি, ৫৯টি ভবন, ১৯২টি ফ্ল্যাট, ৬০টি প্লট, ৪৫০টি গাড়ি, ১৪টি কমার্শিয়াল স্পেস, ১০টি দোকান, ২টি মার্কেট, ২টি জাহাজ এবং একটি শর্টগান। বিদেশে ২টি ফ্ল্যাট, ৮টি গাড়ি ও ২টি বাড়ি ক্রোক করা হয়েছে।
অন্যদিকে আদালতের ২৫৬টি আদেশে দেশে ২৩ হাজার ১৭২ কোটি ৭৮ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯৬ টাকা এবং বিদেশে ৯৪৪ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার ৯১৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
অবরুদ্ধ সম্পদের মধ্যে রয়েছে দেশে ছয় হাজার ৮৪৭টি ব্যাংক হিসাব, ১০৭টি সঞ্চয়পত্র, ৬০ কোটি ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৯৯৭টি শেয়ার, ৪০টি এফডিআর, ৫টি লকার, ৪২১টি কোম্পানির শেয়ার, ৩২১টি পে-অর্ডার, বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ, বিদেশি মুদ্রা (ডলার ও ইউরো) এবং স্বর্ণ।
২০২৫ সালে পূর্ববর্তী বছরের অনিষ্পন্ন ৭১৭টি অনুসন্ধানের সঙ্গে নতুন ৪০০টি যুক্ত হয়ে মোট ৯০৯টি অনুসন্ধান চলমান ছিল। এর মধ্যে ১৬৩টি অনুসন্ধান সম্পন্ন হয় এবং ৪৪৯টি মামলায় রূপ নেয়। পরিসমাপ্তির মাধ্যমে ৪৭টি এবং অন্যান্যভাবে ১৩টি নিষ্পত্তি করা হয়। অর্থপাচার-সংক্রান্ত ৭৩টি অনুসন্ধানের মধ্যে ১৬টি সম্পন্ন হয়েছে। সম্পদ সংক্রান্ত ৪৭৮টি অনুসন্ধানের মধ্যে ৬০টি সম্পন্ন হয় এবং ১৩৭টি মামলায় রূপান্তরিত হয়।
তদন্ত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে মোট ৭৯৪টি তদন্তের মধ্যে ১২৯টি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১০৪টি চার্জশিট দাখিল এবং ২১টি চূড়ান্ত প্রতিবেদন আকারে নিষ্পত্তি করা হয়। সম্পদ সংক্রান্ত ৪৬৮টি তদন্তের মধ্যে ৭০টি সম্পন্ন এবং ৫৪টি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। অর্থপাচার-সংক্রান্ত ১৮৯টি তদন্তের মধ্যে ৫টি সম্পন্ন হয়েছে এবং ৫টি চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।
দুদকের পরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ আরও বলেন, অনুসন্ধান ও তদন্ত পর্যায়ে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত সম্পদের বিষয়ে আদালতে আবেদন করলে আদালত ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন। বিদেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা সম্পদ ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে দুদকের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post