নিজস্ব প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে দেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার এপ্রিলের শুরুতে শপিংমল ও দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশনা দেয়। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সেই সময় বাড়িয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত করা হয়। তবে এ সিদ্ধান্তে বৈশাখের বেচাকেনায় বড় ধরনের ধস নেমেছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। সেই অভিজ্ঞতা থেকে কোরবানি ঈদের আগে দুপুরে দোকান খুলে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
দোকান মালিক সমিতির দাবি, এবার বৈশাখে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পণ্য অবিক্রীত রয়ে গেছে। ২০ হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রির লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে বেচাকেনা হয়েছে মাত্র ৭ হাজার কোটি টাকার। তাদের অভিযোগ, সরকারের নির্ধারিত সময়সীমার কারণে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিক্রি অন্তত ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা এখনো দোকান বন্ধের সময় রাত ৯টা কিংবা ১০টা পর্যন্ত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। পাশাপাশি কোরবানি ঈদের আগের এক মাসের প্রথম ১৫ দিনে রাত ১০টা পর্যন্ত এবং শেষ ১৫ দিনে গভীর রাত, অর্থাৎ রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার সুযোগ চান তারা। কেউ কেউ বলছেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের মতো বাংলাদেশেও দুপুরে দোকান খুলে রাত ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খোলা রাখার নিয়ম চালু করা উচিত।
বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুর রহমান টিপু বলেন, ‘আমরা অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছি রাত ৯টা কিংবা ১০টা পর্যন্ত যাতে দোকানপাট খোলা রাখা যায়। কিন্তু জ্বালানির বিষয়টি মাথায় রেখে সরকার এখনো বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি। এবার বৈশাখে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ করার কারণে এবার বেচাকেনা অন্তত ৫০ শতাংশ কমেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এবার ২০ হাজার কোটি টাকার বেচাকেনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম, কিন্তু বিক্রি হয়েছে মাত্র ৭ হাজার কোটি টাকার। অবিক্রীত রয়ে গেছে ১৩ হাজার কোটি টাকার পণ্য।’
কোরবানি ঈদের আগে অন্তত এক মাস দোকান খোলার সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুরুর ১৫ দিন রাত ১০টা পর্যন্ত এবং পরবর্তী ১৫ দিন নন-স্টপভাবে রাত ১২টা-১টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ দিতে হবে। তা না হলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।’
ফ্যাশন হাউস ‘সাদাকালো’র অন্যতম উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন এন্টারপ্রেনিউরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) সভাপতি আজহারুল হক আজাদ বলেন, ‘সন্ধ্যায় সরকারের দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের পর থেকেই আমরা তা পুনর্বিবেচনার জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘সন্ধ্যায় দোকানপাট বন্ধ হওয়ায় এবার বৈশাখের বেচাকেনায় ধস নেমেছে। আমাদের উৎপাদিত অনেক পণ্য অবিক্রীত রয়ে গেছে। এতে আমরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছি। কোরবানি ঈদের আগে সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা উচিত।’
পোশাক ব্র্যান্ড বিশ্বরঙের কর্ণধার বিপ্লব সাহাও একই দাবি জানিয়ে বলেন, ‘সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর আমি নিজেই আমার কোনো শোরুমে যেতে পারছি না। কারণ কোনো কাজে বের হলে তা শেষ করে এসে মার্কেটে যাওয়ার আর সময় থাকে না। তার আগেই মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের টিকে থাকার জন্য, ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার জন্য দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানো জরুরি।’
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post