নিজস্ব প্রতিবেদক: সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে গতকাল সোমবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও শেষদিকে মাত্রাতিরিক্ত বিক্রির চাপে দাম কমার তালিকা বড় হয়েছে। এতে মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। সেইসঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে এ বাজারটিতেও মূল্যসূচক কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ায় লেনদেনের একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে যায়। কিন্তু লেনদেনের শেষদিকে বিভিন্ন খাতের শেয়ারের বিক্রির চাপ বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের বড় একটি অংশ, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সার্বিক বাজারে। অবশ্য এর মধ্যেও দাম বাড়ার প্রবণতা ধরে রাখে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি।
এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১০২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৩টির। আর ৬৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অপরদিকে বীমা খাতের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে ৩৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে এবং পাঁচটির দাম কমেছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৬টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৩টির দাম কমেছে এবং ৩৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ১২টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬১টির এবং আটটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫৯টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে আটটির দাম বেড়েছে এবং ১০টির দাম কমেছে ও ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৫ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৫৬ পয়েন্টে নেমে গেছে।মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯৫৬ কোটি ১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৮২ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৬ কোটি ৪১ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪৮ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকার। ৩১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, শাহজিবাজার পাওয়ার, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ এবং খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ।
অন্য পুঁজিবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ৩৫ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২১৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮০টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১০টির এবং ২৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মত, পুঁজিবাজারে শেষ বেলার বিক্রির চাপ মূলত বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদি মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতার ফল। দিনের শুরুতে বাজারে ইতিবাচক ধারা থাকলেও শেষ সময়ে বড় কিছু শেয়ারে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় সূচক নিম্নমুখী হয়েছে। তবে এটিকে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বাজারে আস্থা ও তারল্য আরও শক্তিশালী হলে এমন চাপ সামাল দিয়ে বাজার আবার স্থিতিশীল অবস্থানে ফিরতে পারবে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post