নিজস্ব প্রতিবেদক: হামের ১৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (৬ মে) রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের কাছে এই টিকা হস্তান্তর করেছে ইউনিসেফ।
জানা গেছে, সরকার ইতোমধ্যে ইউনিসেফকে ৮৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করেছে, যার মাধ্যমে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ১০ ধরনের ভ্যাকসিন সংগ্রহের কার্যক্রম চলছে। অর্থপ্রাপ্তি ৯ ও ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সম্পন্ন হওয়ার পর ইউনিসেফ ৩ মে প্রথম চালানে ১৫ লাখ ৫ হাজার ডোজ আইপিভি ভ্যাকসিন সরবরাহ করে।
আগামী ১০ মে’র মধ্যে আরও প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ডোজ এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, বিওপিভি ও পেন্টা ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছাবে বলে জানানো হয়েছে। ইউনিসেফ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুরো ভ্যাকসিন সরবরাহ কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ইপিআই প্রোগ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার এ কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে, কারণ এটি শিশুদের জীবন রক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তিনি বলেন, “ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ভ্যাকসিন ক্রয়ের পূর্ববর্তী উদ্যোগ আমি দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যে বাতিল করি এবং ইউনিসেফকে সরবরাহের জন্য অনুরোধ জানাই।”
মন্ত্রী আরও জানান, সরকার দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় অর্থ ইউনিসেফকে ছাড় করেছে, যাতে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ ক্যাম্পেইনও পরিচালনা করা যায়।
তিনি বলেন, ইউনিসেফের বৈশ্বিক সক্ষমতার কারণে বাকি ৩৫ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত ভ্যাকসিনও সংস্থাটির মাধ্যমে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১৫ মাসের ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৩ মাসের বাফার স্টক থাকবে। বর্তমানে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের দুই বছরের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিশ্বমানের কোল্ড চেইন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভ্যাকসিনের গুণগত মান নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং ইউনিসেফ এ প্রক্রিয়ায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সসহ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post