বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৬ জিলকদ ১৪৪৭
  • ♦ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শেয়ার বিজ
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ
➔ ই-পেপার
No Result
View All Result
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ
No Result
View All Result
শেয়ার বিজ
No Result
View All Result

কী খাবেন? কেন খাবেন?

শেয়ার বিজ নিউজ শেয়ার বিজ নিউজ
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬.৩:৪৩ অপরাহ্ণ
বিভাগ - স্বাস্থ্য ➔ প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
A A
4
VIEWS
Share on FacebookShare on TwitterShare on Linkedin

ডা. মনিরুজ্জামান:  আশ্চর্য শোনালেও সত্যি, বর্তমানে সারা বিশ্বে মোট মৃত্যুর ৬৩ শতাংশ ঘটছে অসংক্রামক রোগে। আর বাংলাদেশেও ২০১৬ সালে ৬৭ শতাংশ মৃত্যুর কারণ ছিল অসংক্রামক রোগ। এখন এ সংখ্যা অনেক বেড়েছে। যেমন: হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ইত্যাদি। এসব রোগের অন্যতম প্রধান কারণ অবৈজ্ঞানিক ও ভুল খাদ্যাভ্যাস।

অ্যানথ্রোপলজিস্ট বা নৃবিজ্ঞানীরা মনে করেন, আমাদের পূর্বপুরুষেরা ছিলেন প্রধানত তৃণভোজী। প্রাণিজ আমিষ অর্থাৎ মাছ, মাংস, ডিম, দুধ খেতে পেলেও তা ছিল অনেক কম। এর পক্ষে প্রমাণ হিসেবে তারা বলেছেন, মানুষের দাঁতের গঠন মূলত শাকসবজি, ফলমূল ও শস্যদানা খাওয়ার উপযোগী। এ ছাড়াও মানুষের পরিপাকতন্ত্রের ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদান্ত এতটাই দীর্ঘ যে, সেটি আঁশযুক্ত ও উদ্ভিজ্জ খাবারের ধীরে ধীরে হজমপ্রক্রিয়াকে সমর্থন করে।

বর্তমান বিশ্বের একজন প্রভাবশালী ডায়েট বিশেষজ্ঞ, যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশনাল বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রফেসর ইমেরিটাস ও ‘দ্য চায়না স্টাডি’ গ্রন্থের লেখক ড. টি. কলিন ক্যাম্পবেল। দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিবিড় গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতা ও ফলাফল পর্যবেক্ষণ করে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী এত উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, স্থূলতা ও ক্যানসারের মূল কারণ মাত্রাতিরিক্ত প্রাণিজ আমিষ গ্রহণ এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব। বিশ্বের বিভিন্ন জনপদের কিছু ঘটনা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনধারা ড. ক্যাম্পবেলের এই অভিমতকেই সমর্থন করে। 1

পাকিস্তানের উত্তর সীমান্তে হিমালয়ের কোল ঘেঁষে রয়েছে একটি পাহাড়ি জনপদ, যা ‘হুনজা ভ্যালি’ নামে পরিচিত। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত এই পাহাড়ি অঞ্চলটি আধুনিক সভ্যতা থেকে বিচ্ছিন্ন একটি উপত্যকা। এখানকার অধিবাসীরা হুনজা নামে পরিচিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে তারা দীর্ঘজীবনের অধিকারী।

সাধারণ পাকিস্তানিদের গড় আয়ু যেখানে ৬৭ বছর, সেখানে আধুনিক যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা ও উন্নত চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হুনজা জনগোষ্ঠীর গড় আয় ১০০ বছর। কেউ কেউ এমনকি ১২০ বছর পর্যন্ত বাঁচে! তারা নিজেদের উৎপাদিত খাবার খায় আর বরফগলা পানিতে গোসল করে এবং সেই পানিই পান করে। কোনো ধরনের প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খায় না। সেই সুযোগই তাদের নেই।

হুনজাদের অন্যতম প্রধান খাদ্য এপ্রিকট। মনে করা হচ্ছে, এপ্রিকটে রয়েছে ভিটামিন বি১৭ (অ্যামিগডালিন), যা তাদের ক্যানসারমুক্ত রেখেছে। তাদের খাদ্যতালিকায় থাকে প্রচুর তাজা ফল, কাঁচা সালাদ, কাঁচা সবুজ পাতা এবং পূর্ণ শস্যদানা, বাদাম, বীজ ও বিন। আর মাংস থাকে খুবই কম।

তাদের দীর্ঘজীবনের নেপথ্যে আরও রয়েছে প্রচুর শারীরিক পরিশ্রম আর বিশুদ্ধ বাতাসে দম নেওয়ার সুযোগ। উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস তাদের কাছে অচেনা।

এ ছাড়াও পৃথিবীতে পাঁচটি জনপদ আছে, যেখানকার অধিবাসীরা শতবর্ষ বাঁচে এবং তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস প্রায় অনুপস্থিত। এসব জনপদ একত্রে ‘ব্লু জোনস’ (Blue Zones) নামে পরিচিত জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপ, ইতালির সার্ভিনিয়া দ্বীপ, গ্রিসের ইকারিয়া দ্বীপ, কোস্টারিকার নিকোয়া পেনিনসুলা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার লোমা লিন্ডা।

ক্যালিফোর্নিয়ার লোমা লিন্ডা ছাড়া বাকি চারটি জনপদের মানুষেরা প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত। তাদের খাদ্যতালিকায় চর্বির মাত্রা কম এবং আঁশের পরিমাণ থাকে বেশি। মাছ, ভাত বা রুটি, ডাল অল্প, শাকসবজি, সালাদ, ফল, মটরশুঁটি থাকে পর্যাপ্ত। ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে ব্যস্ত থাকে তারা। জীবনযাত্রার এই ধরনই তাদের এসব রোগ থেকে দূরে রেখেছে এবং দীর্ঘায়ু করেছে। আর ক্যালিফোর্নিয়ার লোমা লিন্ডার অধিবাসীরা খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী একটি বিশেষ গোষ্ঠী। ধর্মীয় কারণেই তারা প্রধানত ভেজিটেরিয়ান বা নিরামিষাশী। প্রাণিজ আমিষ তারা এমনিতেই খায় না।

ওপরের ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বর্তমানে এত উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোক, ক্যানসারের পেছনে প্রধান কারণ অতিরিক্ত প্রাণিজ আমিষ ও মানুষের তৈরি খাবার (Man Made Food)। খাদ্যশিল্পের ব্যাপক প্রসারের ফলে বিশ্বব্যাপী প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রচলন বাড়ছে।

খাদ্য যখন প্রক্রিয়াজাত করা হয়, তখন

খাবারের প্রাকৃতিক অবস্থা (Natural State) বদলে যায়। আবার ওভার কুকিং ও রিফাইনিংয়ের ফলেও খাবারের প্রাকৃতিক অবস্থা বদলে যায়। দীর্ঘদিন এই জাতীয় খাবার গ্রহণের ফলে শরীরে বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে একগুচ্ছ রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়, যা উখঝ (Dioxin Like Substance) নামে পরিচিত।

প্রক্রিয়াজাত খাবারের সাথে থাকা চিনি ও সাদা ময়দা খাওয়ার ফলে বাড়ছে স্থূলতা, ফ্যাটি লিভার ডিজিজ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস। আবার কোলেস্টেরল ও স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণের ফলে দেখা দিচ্ছে করোনারি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিস।

মানুষের সঠিক খাদ্যাভ্যাস

মানুষ সৃষ্টির সেরা-আশরাফুল মাখলুকাত। তার রয়েছে স্বাধীনতা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবাধ স্বাধীনতা। চিন্তার স্বাধীনতা, কর্মের স্বাধীনতাসহ পছন্দমতো খাদ্য গ্রহণেরও স্বাধীনতা।

মানুষ ছাড়া প্রতিটি স্থলচর, জলচর, উভচর ও বায়ুচর প্রাণীর জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট খাদ্যসম্ভার। তারা সেই সীমারেখা কখনোই লঙ্ঘন করে না। বলা যায়, প্রতিটি প্রাণীই তার জন্য নির্ধারিত খাবারেই সন্তুষ্ট এবং তা থেকেই সে লাভ করে প্রয়োজনীয় পুষ্টি এবং শক্তি। বছরের ৩৬৫ দিনই চতুষ্পদ প্রাণীর মাংস খেয়েও বাঘ বা সিংহের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। আবার প্রতিদিন সামান্য ঘাস, খড় বা ভুসি থেকেই প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাচ্ছে বিশালকায় গরু।

এখন প্রশ্ন হলো, মানুষের খাবারের সীমারেখা কী? যেহেতু স্রষ্টা মানুষকে সহজাত বুদ্ধি-বিবেক দিয়েছেন, দিয়েছেন হারাম-হালালের জ্ঞান, দিয়েছেন কল্যাণ-অকল্যাণের জ্ঞান; সেজন্যই মানুষকে জানতে হন্তেকোন খাবার তার জন্য উপকারী, কোনটি ক্ষতিকর, কোনটি পুষ্টিকর আর কোন খাবার দেহকে রোগগ্রস্ত করে তুলবে?

আরও জানতে হবে-সে কী খাবে, কী খাবে না; কতটুকু খাবে, কখন খাবে এবং কেন খাবে। খাবার স্রষ্টার দেওয়া অমূল্য নিয়ামত। কিন্তু এই নিয়ামতের যথাযথ ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই খাদ্য সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকেরই প্রাথমিক জ্ঞানটুকু থাকতে হবে।

খাদ্যের উপাদানগুলো

সব ধরনের খাবারকে বিশ্লেষণ করলে ৮টি উপাদান পাওয়া যায়-১, শর্করা, (কার্বোহাইড্রেট), ২. আমিষ (প্রোটিন), ৩. চর্বি (ফ্যাট), ৪. ভিটামিন, ৫. মিনারেল, ৬. ফাইটোকেমিক্যাল, ৭. আঁশ ( প্রোটিন) ও ৮. পানি সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য একজন মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এই ৮টি উপাদান থাকা অত্যাবশ্যক। আর এজন্য প্রয়োজন সুষম খাবার এবং তা হতে হবে সঠিক পরিমাণে। অধিকাংশ মানুষ পারিবারিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে সেটাই শ্রেষ্ঠ খাবার মনে করে পুষ্টিবিজ্ঞানসম্মত সুষম খাবারই হচ্ছে শ্রেষ্ঠ

উপরোক্ত ৮টি উপাদান যথাযথভাবে পেতে হলে আমাদের সর্বপ্রথম জানতে হবে রান্নার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে। প্রতিটি প্রাণী তার খাবার গ্রহণ করে থাকে প্রাকৃতিক অবস্থায়। অর্থাৎ যে খাবার প্রকৃতিতে যে রূপে উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায়, সেভাবেই। মানুষ এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম।

মানুষই একমাত্র সৃষ্টি, যে তার খাবার গ্রহণের পূর্বে কোনো কোনো খাবারের প্রাকৃতিক অবস্থা বদলে ফেলে। এই বদল কখনো আংশিক, কখনো পুরোপুরি। ফলে সেই খাবারের সবগুলো উপাদান থেকে আমরা আংশিক বা কখনো কখনো সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত হই। ফলশ্রুতিতে আমাদের মধ্যে সেসব উপাদানের স্বল্পতা বা অভাব দেখা দেয়। দিনের পর দিন এটা ঘটতে থাকলে

অনিবার্যভাবেই শরীরে সৃষ্টি হয় নানা জটিলতা ও রোগব্যাধি। খাবারের প্রাকৃতিক অবস্থা বদলের ঘটনাটি ঘটে মূলত খাবার রান্না করার সময়। তাই রান্নার পদ্ধতিসমূহ জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবন্ত খাবার বনাম মৃত খাবার (Living Food vs Dead Food) একটি খাবার যে অবস্থায় উৎপন্ন হয়, যদি খাবারটি সেই অবস্থাতেই খাওয়া হয়, সেটাই জীবন্ত খাবার। ভালোভাবে হজম হওয়ার মতো পর্যাপ্ত এনজাইম বা পাচক রস জীবন্ত খাবারে থাকে।

সকল জীবিত প্রাণী ও উদ্ভিদ এনজাইম তৈরি করে। এনজাইম ছাড়া জীবন চলতে পারে না। কিন্তু কোনো খাবার যখন উচ্চ তাপে রান্না করা হয় অথবা প্রক্রিয়াজাত-প্যাকেটজাত করা হয়, তখন সেই খাবারের এনজাইমগুলো নষ্ট হয়ে যায়, এনজাইমগুলো তাদের কার্যকারিতা হারায়। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে সেটাই তখন পরিণত হয় মৃত খাবারে।

যখন কেউ মৃত খাবার খান, তখন এই এনজাইমশূন্য খাবার শরীরে শক্তি ও পুষ্টি জোগানোর বদলে উল্টো শরীরের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে। এই খাবারকে হজম করার জন্য শরীরকে তখন প্রয়োজনীয় এনজাইম তৈরি করতে হয়। শরীর-মন ক্লান্ত, অবসন্ন, উদ্যমহীন, অবসাদগ্রস্ত হওয়ার অন্যতম কারণ দিনের পর দিন অতিরিক্ত পরিমাণে এই মৃত খাবার গ্রহণ।

মৃত খাবার: অধিক তাপ ও দীর্ঘসময় নিয়ে রান্না করা সব ধরনের খাবার (শিঙাড়া, পুরি, পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, কাটলেট, পরোটা, বিরিয়ানি, কাচ্চি), প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, যেমন: চিপস, বিস্কুট, ক্র্যাকার্স, জুস, কেক, পেস্ট্রি এবং ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয় ইত্যাদি। এগুলো যথাসম্ভব পরিহার করার চেষ্টা করুন। এ ছাড়াও অতিসেদ্ধ অর্থাৎ অনেক বেশি সময় নিয়ে রান্না করা শাকসবজিও মৃত খাবারের মধ্যেই পড়ে।

আবার মৃত খাবার হলেও মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, চাল, ডাল ইত্যাদি প্রয়োজনমতো সেদ্ধ করে রান্না করুন। তবে অতিরিক্ত সময় ধরে রান্না করে খাবেন না। কেননা এতে খাদ্যের পুষ্টিমান তো নষ্ট হয়ই, সেই সাথে খাবারটাও হয়ে ওঠে অস্বাস্থ্যকর। জীবন্ত খাবারের উৎকৃষ্ট উদাহরণ সব ধরনের তাজা ফল, সালাদ, গ্রিন জুস, বাদাম, মটরশুঁটি, ছোলা, বিভিন্ন প্রকার বীজ ও বিন, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ ইত্যাদি।

পুষ্টিবিজ্ঞান এবং এনজাইম-বিষয়ক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের একজন নেতৃস্থানীয় গবেষক ড. হাওয়ার্ড এফ লুমিস জুনিয়র। ‘Enzymes: The Key to Health’ বইতে তিনি বলেছেন, খাবারে ভিটামিন-মিনারেল কতটুকু আছে সে ব্যাপারে আমরা খুবই সতর্ক থাকি, কিন্তু এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো খাবারের এনজাইম, যা অক্ষুন্ন রাখার ব্যাপারে আমরা সাধারণত খুব একটা সচেতন নই। ভিটামিন ও মিনারেলের অভাবে স্বল্পমেয়াদি কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় বটে, কিন্তু খাবারের এনজাইমের অভাবে শরীরে সৃষ্টি হয় নানাবিধ দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা।

সুস্বাস্থ্যের জন্য সবার প্রয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাদান, যেমন: এনজাইম, অক্সিজেন, হরমোন, ফাইটোকেমিক্যাল, বায়ো-ইলেকট্রিক্যাল এনার্জি এবং লাইফ ফোর্স বা প্রাণশক্তি। যখন খাবারকে উচ্চ তাপে রান্না করা হয়, তখন উপরোক্ত সব উপাদান ধ্বংস হয়ে যায়। এরপরও ভিটামিন, মিনারেল, ফাইটোকেমিক্যাল কিছুটা যদি থেকেও যায়, তবে তার স্বাভাবিক প্রাকৃতিক অবস্থা অনেকটাই বদলে যায়।

এ ছাড়া সুষম খাদ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান ফাইবার বা আঁশ, যা রেচনের জন্য জরুরি। পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকে শাকসবজিতে। কিন্তু অধিক তাপে রান্না করলে ফাইবার বা আঁশ তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। আর এ কারণেই দেখা যায়, নিয়মিত শাকসবজি খাওয়ার পরও কারো কারো কোষ্ঠকাঠিন্য সারে না।

গবেষকেরা বলছেন, এ কালে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল এবং রোগবালাইবিশেষত অসংক্রামক রোগের হার বেড়ে গেছে পূর্বের যে-কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। এর একটি বড় কারণ ভুল ও অবৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস। বর্তমান সময়ে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় জীবন্ত খাবারের চেয়ে মৃত খাবারের পরিমাণ অনেকাংশে বেশি। আর মৃত খাবার কখনো একজন মানুষকে সুস্থ রাখতে পারে না।

আবার এ কালেও দেখা যাচ্ছে ‘হুনজা উপত্যকা’ ও ‘কু জোনস’ এলাকার অধিবাসীরা শতায়ু হচ্ছেন। এরও অন্যতম প্রধান কারণ তাদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস। তাদের খাদ্যতালিকার বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে তাজা ফল, টাটকা সালাদ ও সবজি, সবুজ লতাপাতা, বাদাম, বীজ ও বিন। অর্থাৎ জীবন্ত খাবার তাদের দিয়েছে শত বছরের নীরোগ জীবন।

সুতরাং সুস্থ কর্মব্যস্ত রোগমুক্ত দীর্ঘজীবনের জন্য আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় জীবন্ত খাবার রাখুন কমপক্ষে ৩০ শতাংশ। যেমন: প্রতিদিন ৩-৪ ধরনের ফল, ৩-৪ ধরনের কাঁচা সালাদ, ৩-৪ ধরনের কাঁচা সবুজ পাতা সহযোগে তৈরি গ্রিন জুস, মুঠোভর্তি বাদাম এবং পরিমাণমতো বীজ ও বিন।

সেই সাথে শাকসবজি অর্ধসেদ্ধ ও অল্প তাপে রান্না করে খাওয়ার অভ্যাস করুন। খাদ্যতালিকায় মৃত খাবারের পরিমাণ সীমিত রাখুন। প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার যথাসম্ভব বর্জন করুন। আপনার সুস্বাস্থ্যপূর্ণ দীর্ঘজীবনের সম্ভাবনা বাড়বে।

আপনার শারীরিক-মানসিক ভালো থাকা সরাসরি যুক্ত খাবার এবং পানীয়ের সাথে। আপনি যা খান সেখান থেকে যে পুষ্টি সংগৃহীত হয় সেটাই আপনার কোষগুলোর মেমব্রেনস, বোনম্যারো, রক্ত, হরমোন, টিস্যু, অঙ্গ, ত্বক, চুল-সবকিছুর গঠন প্রকৃতি নির্ধারণ করে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখিয়েছেন প্রাণীর খাবার তার জিন বৈশিষ্ট্যকে প্রভাবিত করে এবং ডিএনএ-র ধারাক্রম (সিকোয়েন্স) প্রভাবিত হয় বিভিন্ন ধরনের খাবার গ্রহণের মধ্য দিয়ে।

ভিন্ন খাবার গ্রহণের মধ্য দিয়ে ডিএনএ’র ধারাক্রমও প্রভাবিত করা যায়, সংশোধিত পরিমার্জিত করা যায়। আসলে আপনার পেট আপনার মস্তিস্ককেও সংশোধন করতে

পারে। সুষম খাবার, সাত্ত্বিক খাবার শুধু সুস্বাস্থ্য এবং জৈবিক প্রক্রিয়াকেই প্রভাবিত করে না; সুষম স্বাস্থ্যকর খাবার আপনার ভেতরে একটা চমৎকার তৃপ্তির আনন্দ দিতে পারে পেটের সাথে মস্তিষ্কের সংযুক্তির কারণে। লিভার গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইন অর্থাৎ আপনার পরিপাকব্যবস্থা, এককথায় পেট আপনার মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে দারুণভাবে। পেটকে বলা হয় দ্বিতীয় মস্তিষ্ক! কিন্তু কেন? আমাদের নাড়িভুঁড়ি বা পেটে ৫০০ মিলিয়ন নিউরন রয়েছে। স্পাইনাল কর্ডে যে পরিমাণ নিউরন রয়েছে, একই পরিমাণ নিউরন রয়েছে এই পেটে নাড়িভুঁড়িতে। এ কারণে পেটকে বলা হয় দ্বিতীয় মস্তিষ্ক। শুধু তাই নয়, পেটের রয়েছে নিজস্ব মন এবং এটা মস্তিষ্কের যে মন, সে মনের সমানই শক্তিশালী। মজার ব্যাপার হচ্ছে, নিউরনের যে সংকেত প্রবাহ-এটা মাথা থেকে পেটে যায় না, বরং পেট থেকে মাথায় যায়।

টেনশন এবং প্রসেসড ফুড নষ্ট করে পেটের ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য… পেটে রয়েছে বিভিন্ন রসায়ন অণুজীব এবং ৭০ শতাংশ ইমিউন সেল (রোগপ্রতিরক্ষা সেল)। অনেক প্রদাহজাতীয় রোগ সরাসরি সংযুক্ত পেটের পরিবেশ প্রক্রিয়া বা অণুজীবের সাথে, মাইক্রোবায়োমের সাথে।

আমাদের ত্বক, মুখ, পেট এবং শরীরের অন্যান্য জায়গায় ১০০ ট্রিলিয়ন অণুজীব রয়েছে। পেটের ব্যাকটেরিয়া আমাদের ইমিউনিটির জন্য, আমাদের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য যেরকম প্রয়োজনীয়, তেমনি হজম এবং দেহের পরিপাকক্রিয়ায় সহায়তা করে এই ব্যাকটেরিয়া। এবং ক্ষতিকর অনুপ্রবেশকারীদের তাড়িয়ে দেয়।

স্ট্রেস-টেনশন, দূষণ এবং প্রসেসড ফুড (প্রক্রিয়াজাত খাবার) পেটের এই ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে। এবং যখনই এই ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এমন রাসায়নিক উপাদান ছেড়ে দেয় যা প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং রোগাক্রান্ত করে। আমরা যা খাবার খাই তা পেটে অবস্থিত ভালো এবং খারাপ ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্যকে সরাসরি প্রভাবিত করে। শুধু পেটে নয়, পুরো শরীরেও বিস্তার করে খাবারের ভালোমন্দ প্রভাব ডা. প্রেমিসল বেরসিক ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজিস্ট।

তিনি গবেষণা করে দেখেছেন যে, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া অ্যাংজাইটি বা দুশ্চিন্তা বাড়ায়। অপরদিকে উপকারী ব্যাকটেরিয়া এই অ্যাংজাইটি বা দুশ্চিন্তা কমায় এবং খাবার নিউরোট্রান্সমিটার উৎপাদনকেও সরাসরি প্রভাবিত করে। ৯০ শতাংশ সেরোটোনিন রিসেপ্টর যা আমাদের মুড নিয়ন্ত্রণ করে, যেমন: অ্যাংজাইটি, মুড, স্লিপ, অ্যাগ্রেশন-এই ৯০ শতাংশ সেরোটোনিন রিসেপ্টরের অবস্থান হচ্ছে পেটে।

প্রতিদিনের খাদ্যে সবুজ সবজি, মৌসুমি ফল, বাদাম-বীজ রাখুন এজন্য আপনি কী খাচ্ছেন সেই খাবারের প্রভাব আপনার পেটে যেরকম পড়ে এবং পেট থেকে আপনার পুরো শরীরের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। খাবারের ভালো-মন্দ দোষগুণ, এর শারীরিক-মানসিক প্রভাব-এটা নিয়ে এখনকার গবেষকরা যেভাবে গবেষণা করছেন, তাদের অনেক আগে আমাদের মুনি-ঋষিরা, আমাদের অলি-বুজুর্গরা, আমাদের নবী-রসুলরা খাবার সম্পর্কে খুব পরিষ্কারভাবে বলে গেছেন।

এজন্যই হিন্দু ধর্মে খাবারকে বিভক্ত করা হয়েছে তিনটি ভাগে-সাত্ত্বিক, রাজসিক এবং তামসিক। ইসলামে খাবারকে হালাল এবং হারাম দুটো ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। সুস্থ থাকার জন্য যা প্রয়োজন… কী খাচ্ছেন সেদিকে নজর দেয়া। আমরা আধুনিক ভাষায় খাবারকে দুভাগে ভাগ করতে পারি-উপকারী এবং ক্ষতিকর। যে খাবার খেলে শারীরিক মানসিকভাবে আপনি ফিট থাকবেন, সুস্থ থাকবেন সেটা উপকারী খাবার। আর যা আপনার মনোদৈহিক ক্ষতির কারণ হবে সেটা হচ্ছে ক্ষতিকর খাবার।

তাই আপনি কী খাচ্ছেন সেদিকে নজর রাখাটা আপনার সুস্থ থাকার জন্য প্রথম প্রয়োজন। আপনি একনাগাড়ে না খেয়ে যেমন থাকতে পারবেন না, খেতেই হবে আপনাকে আপনার জৈবিক অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে। তাই কী খাচ্ছেন এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি উপকারী খাবার ও প্রাকৃতিক খাবার খানআপনি সুস্থ থাকবেন। আপনার সুস্থ থাকা, রোগমুক্ত থাকা, দীর্ঘায়ু হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

আর যদি ফাস্ট ফুড খান, অস্বাস্থ্যকর খাবার খান, তামসিক খাবার খান, হারাম খাবার খান্ততাহলে অল্প বয়সে ব্যাধির আক্রমণে আপনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারেন। কোনো ডাক্তার, কোনো হাসপাতাল আপনাকে বাঁচাতে সাহায্য করতে পারবে না যদি না আপনি খাবারের ক্ষেত্রে সুস্থ স্বাস্থ্যকর দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ না করেন।

অতএব খাবারের ব্যাপারে তিনটা পয়েন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটা হচ্ছে কী খাবেন, দুই হচ্ছে কতটুকু খাবেন, তিন হচ্ছে কখন খাবেন। সহজ ফর্মুলা হচ্ছে, সুপাচ্য সহজ খাবার গ্রহণ করবেন; অতিরিক্ত মশলা, তেল, ঝাল, ভাজাপোড়া কখনো সখনো খেতে পারেন। কিন্তু এটি অভ্যাসে পরিণত করবেন না।

খাবারের ক্ষেত্রে শাকসবজি, ফলমূল পর্যাপ্ত খাবেন। শাকসবজির ক্ষেত্রে বাঁধাকপি, লাল শাক, ডাঁটা শাক, পুঁইশাক, পাট শাক, পাঁচমিশালি শাক অর্থাৎ শাক এবং আঁশজাতীয় সবজি বেশি খাবেন। সিজনাল ফল খাবেন। আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কুল, আমড়া, চালতা, কলা, আমলকী, পেঁপে, জাম, জামরুল, বেল, কদবেল, জাম্বুরা, আনারস। অর্থাৎ দেশজ ফল।

আয়ুর্বেদের সূত্র হচ্ছে যে অঞ্চলে যে মৌসুমে যে ফল হয়, সেই অঞ্চলে সেই মৌসুমে যে রোগ হয় তার প্রতিষেধক ওই ফলের মধ্যে থাকে। অতএব মৌসুমি ফল যখন যেটা পাওয়া যায় সেই সিজনের রোগ প্রতিরোধের জন্য এটা ওষুধ হিসেবে কাজ করে। অতএব খাবারের ক্ষেত্রে ফলের ক্ষেত্রে দেশজ ফলকেই বেশি গুরুত্ব দেবেন।

খাবারের ক্ষেত্রে মিষ্টিজাতীয় খাবার যত বর্জন করবেন তত আপনার সুস্থ থাকার, প্রাণবন্ত থাকার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। চিনিতে থাকা ফ্রুক্টোজ যকৃতে বিষক্রিয়া ও নানা রোগের কারণ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত চিনি আপনার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। আপনার চর্মরোগ, স্থূলতা যেরকম বাড়ায়, একইভাবে বুদ্ধিমত্তার ওপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং অসংক্রামক ব্যাধি সৃষ্টির প্রধান কারক হচ্ছে এই সাদা চিনি। এ কারণে সুগারের আরেকটি নাম হচ্ছে ‘হোয়াইট পয়জন’।

কৃত্রিম খাবার ফাস্ট ফুড, সফট ড্রিঙ্কস, এনার্জি ড্রিঙ্কস-এগুলো বর্জন করবেন। ফাস্ট ফুড, সফট ড্রিঙ্কস, এনার্জি ড্রিঙ্কস আপনার পেটের উপকারী ব্যাকটেরিয়া বিনাশ করে। পান করুন চা নয় বরং গ্রিন টি যারা চা খান তারা গ্রিন টি খেতে পারেন। কারণ গ্রিন টি-তে ক্যাটাচিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য যৌগ উপাদান রয়েছে, যা ক্যানসার, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে। ব্ল‍্যাক টি যা দুধ-চায়ে ব্যবহার করা হয়, এই ব্ল‍্যাক টি-কে লিকার কড়া করার জন্য বিশেষ তাপমাত্রায় চা পাতাটাকে পোড়ানো হয়। এর ফলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যাটাচিন নষ্ট হয়ে যায়।

তাছাড়া দুধের মধ্যে থাকা কেসেইন নামক প্রোটিন ক্যাটাচিনের উপকারী প্রভাবও নষ্ট করে দেয়। ফলে দুধ-চা ইনসুলিন নিঃসরণের হার কমিয়ে দেয়। অতএব যারা চা খান তারা গ্রিন টি খাবেন। আর যাদের ঘুমের কোনো ধরনের অসুবিধা রয়েছে, তারা কফি-যেকোনো ধরনের কফি বর্জন করবেন। অনিদ্রার সবচেয়ে বেশি প্রবল দেশগুলোতেই কফি বেশি খাওয়া হয়। প্রতিদিনের খাওয়ায় সবজি, শাকসবজি, ফলমূল পর্যাপ্ত থাকবে, মাছ পরিমিত থাকবে। চার পাওয়ালা প্রাণীর মাংস যত কম খান তত ভালো। মাংস খেলে দুই পা ওয়ালা প্রাণীর মাংস ভালো; কিন্তু সব সময়ই পরিমিত।

কতটুকু খাবেন এটাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিমিত খাবেন। রসুলুল্লাহর (সা.) হাদিস এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেছেন, তোমার পাকস্থলীর এক-তৃতীয়াংশ শক্ত খাবার, এক-তৃতীয়াংশ পানীয় এবং এক-তৃতীয়াংশ ফাঁকা রাখো যাতে তুমি ভালোভাবে দম নিতে পার।

অর্থাৎ শক্ত খাবার এক-তৃতীয়াংশ, তরল এক-তৃতীয়াংশ এবং এক-তৃতীয়াংশ ফাঁকা। এটা বোঝারও উপায় আছে। একটু ক্ষুধা থাকতে থাকতে খাবারটা শেষ করা। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার যদি এই নিয়মে আপনি খান তাহলে মৃত্যুর দিনও আপনি তৃপ্তির সাথে খেয়ে মারা যেতে পারবেন।

কখন খাচ্ছেন এটাও গুরুত্বপূর্ণ। এক হচ্ছে, সময়মতো খাবেন। খাবারের সময় সুনির্দিষ্ট করে নেবেন। খাবারের সময় যদি এলোমেলো করেন তো আপনার যে দেহঘড়ি, এই দেহঘড়ির ছন্দ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেটা আপনার পরিপাক ও পুষ্টি প্রক্রিয়াকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। ক্ষুধা, হজম সবকিছুই বিপর্যন্ত হতে পারে। শরীরে ফ্যাট, সুগার এবং কোলেস্টেরল বেড়ে যেতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের জার্নাল ‘সার্কুলেশনে’ সুস্পষ্টভাবে বলা হয়, নিয়মিত সময়মতো খাবার গ্রহণ একটা সুস্থ জীবনাচার সৃষ্টি করে এবং হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে যায়।

অতএব সব সময় চেষ্টা করবেন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সময়মতো খাওয়া। আর যখন খাবেন তৃপ্তির সাথে খাবেন। সকালে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ, দুপুরে তার চেয়ে কম এবং রাতে একদম হালকা। অথচ বৈজ্ঞানিকভাবে সারা পৃথিবীর ডায়েট বিশেষজ্ঞরা এক বাক্যে বলেছেন, রাতে যিনি বেশি খাবেন, যিনি বুফে ডিনার খাবেন, যিনি ডিনারে অতিরিক্ত খাবেন, তার স্বাস্থ্যঝুঁকি যেরকম বাড়ে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদি রোগাক্রান্ত হওয়ারও আশঙ্কা বেড়ে যায়।

ফিজিক্যাল ফিটনেসের জন্য খাবার হচ্ছে সবচেয়ে অনায়াস প্রয়াস, যার জন্য কোনো অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে না। বরং বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস যদি আপনি গড়ে তোলেন, পুষ্টিকর স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস যদি আপনি গড়ে তোলেন, এটা আপনার শারীরিক ফিটনেসের ভিত্তি এতটাই শক্তিশালী করবে যে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে সবচেয়ে কম।

কারণ আপনার অসুখ, আপনার রোগব্যাধি হবে কম। আপনি ভালো থাকবেন। শারীরিক সুস্থতা আপনার মানসিক ফিটনেসটাকে বাড়াবে, বাড়াবে সোশ্যাল ফিটনেস, বাড়াবে আত্মিক ফিটনেস।

সুস্থ খাদ্যাভ্যাসের ধীরে ধীরে অনুসরণ করার চেষ্টা করুন নিজের জীবনে। আজকে থেকেই অল্প অল্প করে হলেও এই সুস্থ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ শুরু করুন। ক্ষতিকর খাবার বর্জন করুন এবং আপনার জন্য পুষ্টিকর উপকারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস আস্তে আস্তে সৃষ্টি করুন। একদিনে হবে না। বিন্দু বিন্দু অবহেলা-অনিয়ম যেমন আপনাকে অসুস্থ করে তোলে দীর্ঘমেয়াদে; একইভাবে ছোট ছোট পদক্ষেপ, ছোট ছোট বর্জন, ছোট ছোট ভালো অভ্যাস গ্রহণ আপনাকে সুস্থ রাখবে আমরণ।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
Previous Post

ভালো মানুষ গড়ার সংগ্রামই আজকের সত্যিকারের স্বাধীনতার যুদ্ধ

Next Post

সচেতন খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি

Related Posts

হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু
জাতীয়

হাম ও উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু

ইউনিসেফ থেকে হামের ১৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পেল বাংলাদেশ
জাতীয়

ইউনিসেফ থেকে হামের ১৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পেল বাংলাদেশ

নতুন রোগ পণ্যাসক্তি
স্বাস্থ্য

নতুন রোগ পণ্যাসক্তি

Next Post
সচেতন খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি

সচেতন খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি

Discussion about this post

সর্বশেষ সংবাদ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যে নিবন্ধনের সুযোগ ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত: পোস্টাল ভোট

ইসির ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প উঠছে একনেকে

আবাসন খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপের নির্দেশ

আবাসন খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপের নির্দেশ

জ্বালানি মজুত রোধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হবে না

পতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে পুঁজিবাজার

টানা দরপতনের পর ডিএসইতে হাজার কোটির লেনদেন

এবার নিজেদের অনিয়ম খুঁজতে বিএসইসির তদন্ত কমিটি

সাউথইস্ট ব্যাংক ক্যাপিটালের কারসাজি তদন্তে বিএসইসি




 

আর্কাইভ অনুসন্ধান

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

প্রকাশক ও সম্পাদক ✍ মীর মনিরুজ্জামান

তথ‌্য অ‌ধিদপ্ত‌রের নিবন্ধন নম্বরঃ ৪৮

একটি শেয়ার বিজ প্রাইভেট লি. প্রতিষ্ঠান

(প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রয়োজন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে)

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

বিএসইসি ভবন (১০ তলা) ॥ ১০২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ॥ ☎ 01720123162, 01768438776

  • ♦ বাংলা টেক্সট কনভার্টার

Copyright © 2025 Daily Share Biz All right reserved. Developed by WEBSBD.NET

No Result
View All Result
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ

Copyright © 2025 Daily Share Biz All right reserved. Developed by WEBSBD.NET