আল-আমিন আজাদ : বিশষ্ট লেখক বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার এক প্রবন্ধে লিখেছেন “একাত্তর সালে আমরা একটা যুদ্ধ করেছিলাম। সে আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ। সে যুদ্ধ ছিল বহিঃশত্র“র বিরুদ্ধে। সে ছিল স্বল্পস্থায়ী। সেই যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি। আজ আমাদের শুরু হয়েছে সত্যিকারের যুদ্ধ—বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ। সেই যুদ্ধ বাইরের শত্র“র বিরুদ্ধে নয়। প্রত্যেকের ভেতরের অশুভ দানবটার বিরুদ্ধে, মিথ্যা অহমিকা -হিংসার বিরুদ্ধে । নিজের অক্ষমতা, পাপ, ক্লেদ, লোভ ও পতনের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ। নিজের লালসা ও অযোগ্যতার বিরুদ্ধে এ সংগ্রাম। আজ আমাদের জাতিকে যদি বাঁচতে ও ঋদ্ধিমান হতে হয়, ভালো মানুষের সমৃদ্ধ দেশে পরিনত হতে হয় তাহলে এ যুদ্ধে জয় করতে হবে। ”
তিনি আরো লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ একবার লিখেছিলেন, উত্তেজনা এবং শক্তি এক নহে। ইহারা পরস্পরবিরোধী। উত্তেজিত মুহূর্তে আমরা সবচেয়ে শক্তিহীন। এখানেও বলা হচ্ছে, রেগে গেলেন তো হেরে গেলেন। কেন হারব? কারণ সেই মুহূর্তে আমরা উত্তেজিত। তাই আমাদের যুক্তি কাজ করছে না। অথচ এর বিপরীতে যদি মনকে আমরা শান্ত ও যুক্তিপূর্ণ ইতিবাচক – মমতা মিশিয়ে আনতে পারি তখন মনের ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের এলেখাটি দৈনিক শেয়ার বিজ কড়চা পত্রিকার ঈদ সংখ্যা ২০২৬ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। এই ঈদ সংখ্যার সম্পাদকীয়ের শিরোনামও ব্যাতিক্রম। ” ভালো মানুষ ভালো দেশ, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ “। ঈদসংখ্যায় প্রকাশিত লেখাগুলো বা সম্পাদকীয় পড়ে অনেক কিছু ভাবনার সুত্রপাত করেছে।আমার মনে হয়েছে বর্তমান বাংলাদেশের সামাজিক ও নৈতিক বাস্তবতা তুলে ধরে “ভালো মানুষ ভালো দেশ, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ” স্লোগানের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন, শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়—নৈতিকতা, মানবিকতা ও শুদ্ধাচারসম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলাই একটি সত্যিকারের উন্নত রাষ্ট্রের ভিত্তি। যুবসমাজকে কেন্দ্র করে শিক্ষা, সামাজিক মূল্যবোধ ও পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা চর্চার ওপর জোর দেওয়ার বিষয়টি লেখাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে “ভালো মানুষ” তৈরির ভাবনাটি পাঠকের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তার জন্ম দেয়।
আমাদের দেশের অনেক মানুষের নেতিবাচক ভাবনা আছে, আমাদের দেশের তরুণদের নিয়ে কিচ্ছু হবে না। কিন্তু আমাদের দেশ বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াবে, এখানে নেতৃত্ব দিবে এদেশের তরুণরা।
একসময় পুরো ইওরোপ বাংলায় উৎপাদিত বস্ত্রের জন্য অপেক্ষা করতো। আরব ও আফ্রিকায় বাংলার পণ্য ছিল খুবই আদৃত। দক্ষিণ এশীয় ও দক্ষিণ পূর্ব এশীয় দেশ থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বাংলার বাণিজ্যের পাশাপাশি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি দিয়েও প্রভাবিত হয়েছে। বাংলা বরাবরই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং ধরে রেখেছে।
সতের এবং আঠারো শতকে বাংলা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী অঞ্চল। বাংলার ভূখণ্ড ছিল কৃষি ও শিল্পের মূলকেন্দ্র। পশ্চিমি সমাজের ধনী হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বাংলা। উর্বর ভূমি, অপরিমেয় কৃষিপণ্য, কম খরচে ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে মোঘল সামরাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠে সুবা বাংলা। সুবা শব্দের অর্থ প্রদেশ। বাংলা স্বয়ংসম্পূর্ণ থাকায় তার কোনো চাহিদা ছিল না। এ কারণে যারাই বাংলায় বাণিজ্য করতে আসতেন তাদের কোনো পণ্যের বদলে মূলত সোনা রুপা নিয়ে আসতে হতো। ফলে বাংলা থেকে পণ্য রফতানি করতে হলে ইওরোপিয়ান, এশিয়ান বা ভারতীয় নাগরিক যিনিই হোন না কেন, তাকে সোনা রুপা বা নগদ অর্থে তা পরিশোধ করতে হতো।
(সংবাদকর্মী)
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post