মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: লাভ বা লোকসানের হিসাব নয়, এবার উল্টো হিসাব কষছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। যে দরে শেয়ার ও ইউনিট কেনা ছিল আবার সেই দরে ফেরার প্রত্যাশায় রয়েছেন তারা। তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, কেনা দরে গেলেই হাতে থাকা শেয়ার বা ইউনিট বিক্রি করে পুঁজিবাজার থেকে বের হতে চান তারা। কারণ পুঁজিবাজারের টানা পতনে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এসব বিনিয়োগকারী। সম্প্রতি প্রতিদিনই গড়ে প্রায় ১৮ পয়েন্টের বেশি কমছে ডিএসইর সূচক। এতে আতঙ্কে রয়েছেন সব ধরনের বিনিয়োগকারী।
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, তাদের প্রত্যাশা ছিল বাজেটের পর পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াবে। বাজার তার স্বরূপে ফিরে আসবে। কিন্তু হয়েছে তার উল্টো। বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার পরও এর প্রভাব পড়ে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বাজেটের পর ডিএসইর প্রধান সূচকের পতন হয়েছে ২৯৫ পয়েন্ট। এই সময়ের মধ্যে মোট লেনদেন হয়েছে ২১ কার্যদিবস। এর মধ্যে সূচকের পতন হয়েছে ১৪ কার্যদিবস। বাকি দিনগুলোতে নামমাত্র সূচকের উত্থান হয়েছে। গড় হিসাব করলে এ সময়ের মধ্যে প্রতিদিন সূচকের পতন হয়েছে ১৮ দশমিক ২৩ শতাংশ।
বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে লুৎফর রহমান নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, দীর্ঘদিন থেকে পুঁজিবাজারে পতন চলছে। ভেবেছিলাম বাজেটের পর বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু এই ধারণা ভেস্তে গেছে। প্রতিদিনই পুঁজি হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। এখন অপেক্ষায় আছি শেয়ারগুলো কবে কেনা দরে যাবে। এই দর পেলেই শেয়ার সেল করে বাজার থেকে বের হয়ে যাব। কারণ লোকসান ভারী করতে আর ভালো লাগছে না।
পতনের লাগাম টানার জন্য বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা রাখা হয়েছে। বাজেটে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি যদি নগদের থেকে বেশি বোনাস লভ্যাংশ দেয়, তাহলে ঘোষিত লভ্যাংশের ওপর ১০ শতাংশ কর দিতে হবে। পাশাপাশি কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে শুধু বোনাস লভ্যাংশ দেয়, সেক্ষেত্রেও ওই কোম্পানিকে ১০ শতাংশ লভ্যাংশ প্রদান করতে হবে।
বাজেট প্রণোদনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানকে মুনাফার কমপক্ষে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে হবে। আর ৭০ শতাংশ রিটেইন আর্নিং, রিজার্ভ প্রভৃতি হিসাবে রাখা যাবে। যদি কোনো কোম্পানি এরূপ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রতি বছর রিটেইন আর্নিং, ফান্ড, রিজার্ভে সরবরাহ করা অংশের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে।
এদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এতে বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রত্যাশিত প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান উৎসাহিত করতে স্টক ডিভিডেন্ডের ওপর ১০ শতাংশ করারোপ করা হয়েছে।
এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো থেকে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ড আয়ের করমুক্ত সীমা দ্বিগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী তথা সামগ্রিক পুঁজিবাজার উন্নয়নে এই করমুক্ত আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর দ্বৈতকর প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও পুঁজিবাজার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে না।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলেন, এখন পুঁজিবাজারে যে পরিস্থিতি কোনোভাবেই সূচকের পতন হওয়া উচিত নয়। কারণ এখন তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার এবং ইউনিটের দর বিনিয়োগযোগ্য রয়েছে।
জানতে চাইলে ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, পুঁজিবাজারে শেয়ারের দর হ্রাস-বৃদ্ধি স্বাভাবিক ঘটনা। যে কোনো কারণে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির শেয়ারের দর কমতেই পারে। তবে এখন বাজারে যে পরিস্থিতি চলছে এটা আশানুরূপ নয়। তবে আমি বলব, এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধারণ করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে না পুঁজিবাজার হচ্ছে ধৈর্যের জায়গা।




