নিজস্ব প্রতিবেদক: দক্ষিণ জনপদের পদ্মা সেতু খুলে দেয়ার প্রস্তুতির মধ্যে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করবে এমন ১৩ রুটের বাস ভাড়া নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। গতকাল বৃহস্পতিবার বিআরটিএ পরিচালক (প্রকৌশল) শীতাংশু শেখর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ঢাকা-ভাঙ্গা-মাদারীপুর-বরিশাল রুটে চলাচলকারী বাসে একজন যাত্রীর ভাড়া হবে ৪১২ টাকা ৩২ পয়সা, ঢাকা-রাজৈর-গোপালগঞ্জ রুটের বাসে ভাড়া দাঁড়াবে ৫০৪ টাকা ২১ পয়সা; আর ঢাকা-গোপালগঞ্জ-খুলনা রুটের বাসে প্রতি যাত্রীর ভাড়া ৬৪৯ টাকা ৩৬ পয়সা, ঢাকা-জাজিরা-শরীয়তপুর রুটে ২১৮ টাকা ৫৩ পয়সা, ঢাকা-বরিশাল-পিরোজপুর রুটে ৫৩৪ টাকা ২০ পয়সা, ঢাকা-গোপালগঞ্জ-পিরোজপুর-বাগেরহাট রুটে ৬২৮ টাকা ২৫ পয়সা এবং ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী রুটে ৫০১ টাকা ৫২ পয়সা।
একইভাবে ঢাকা-ভাঙ্গা-মাদারীপুর রুটের বাস ভাড়া ৩২৭ টাকা ৫০ পয়সা, ঢাকা-গোপালগঞ্জ-খুলনা-সাতক্ষীরা রুটে ৬৩৩ টাকা পাঁচ পয়সা, ঢাকা-ভাঙ্গা-ফরিদপুর রুটে ২৮৮ টাকা ৩৯ পয়সা, ঢাকা-মাদারীপুর-বরিশাল-ভোলা-চর ফ্যাশন রুটে ৬৫৩ টাকা ৮৬ পয়সা, ঢাকা-বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু-শরীয়তপুরের ভাড়া ২১৯ টাকা ৮৮ পয়সা এবং ঢাকা-মাদারীপুর-বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা রুটে যাত্রীপ্রতি বাস ভাড়া দিতে হবে ৬৯৪ টাকা ২৯ পয়সা।
প্রতিটি রুটের জন্য বাসের ঢাকা স্টেশন ধরা হয়েছে সায়েদাবাদ। এই ভাড়ার ক্ষেত্রে ঢাকাকে শুরুর প্রান্ত এবং গন্তব্যকে শেষ প্রান্ত ধরে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানায় বিআরটিএ। পদ্মার বুকে নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার কোটি টাকায় ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুর কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এরপর ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে বসে প্রথম স্প্যান। মাঝে ২২টি খুঁটির নিচে নরম মাটি পাওয়া গেলে নকশা সংশোধনের প্রয়োজন হয়। তাতে বাড়তি সময় লেগে যায় প্রায় এক বছর।
কভিড-১৯ মহামারি আর বন্যার মধ্যেও কাজের গতি কমে যায়। সব বাধা পেরিয়ে অক্টোবরে বসানো হয় ৩২তম স্প্যান। এরপর বাকি স্প্যানগুলো বসানো হয়ে যায় অল্প সময়ের মধ্যে। ঠিক পাঁচ বছরের মাথায় পূর্ণ আকৃতি পায় সেতু, যুক্ত হয় পদ্মার দুই পাড়। দেশের বৃহৎ এই অবকাঠামো আগামী ২৫ জুন সকাল ১০টায় উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।




