নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তনের আভাস দেখা দেওয়ার মধ্যেই ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারেÑএমন জল্পনার প্রেক্ষাপটে গতকাল সোমবার অনুষ্ঠিত বোর্ড সভা ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক।
এর আগে গতকাল সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলেÑ নবনির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির দাবিÑ এ দিনের পর্ষদ সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের চেষ্টা ছিল, তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় তা আর সম্ভব হয়নি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান থাকাবস্থায় এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, যে গোষ্ঠীকে লাইসেন্স দেওয়ার আলোচনা চলছে বলে শোনা যাচ্ছে, গভর্নর অতীতে সেই গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্ট একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেনÑযা স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, বোর্ড সভায় কোনো চূড়ান্ত লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বরং আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সেই কাঠামো ও নম্বর প্রদানের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বোর্ড সভায় উপস্থিত একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে শেয়ার বিজকে বলেন, এটি ছিল প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপ। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক গঠিত ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাসেসমেন্ট টিম তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, মূলধন কাঠামো, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা কে ম্বর দেবে। সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো পরবর্তী ধাপে লাইসেন্সের জন্য বিবেচিত হবে। এ বিষয়ে সামনে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের নেতারা মনে করছেন, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে চাপের মধ্যে রয়েছে। কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক আমানত সুরক্ষা ও তারল্য সংকটে ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া কতটা প্রয়োজনÑতা নিয়ে বিস্তৃত পর্যালোচনা দরকার বলে তারা মত দেন।
সংগঠনটি পর্ষদসভা স্থগিতের দাবি জানিয়ে বলেছে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিশ্চিত না করে কোনো লাইসেন্স দেওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি চুক্তিভিত্তিক উপদেষ্টা ও পরামর্শক নিয়োগ নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছে। সব মিলিয়ে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স ইস্যুতে আপাতত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনুমোদন ঝুলেই থাকছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৩টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য আবেদন করেছে। এগুলো হলোÑ ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, এর উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক; আমার ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা ২২টি ক্ষুদ্রঋণ দাতা সংস্থা; ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসির উদ্যোক্তা ১৬ ব্যক্তি; বুস্টের উদ্যোক্তা রবি আজিয়াটা লিমিটেড; আমার ব্যাংকের উদ্যোক্তা কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা; অ্যাপ ব্যাংকের উদ্যোক্তা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কয়েক ব্যক্তি। এছাড়া নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যাক্তা বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার; মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসির উদ্যোক্তা ক্ষুদ্রঋণ দাতা সংস্থা আশা; জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যেক্তা ডিবিএল গ্রুপ; মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা আকিজ রিসোর্স; বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বিকাশের শেয়ারধারীরা এবং উপকারী ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা আইটি সলিউশন লিমিটেড।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post