নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবসে বড় উত্থানের পর দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দেশের পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। তবে মূল্যসূচক কমলেও লেনদেন হয়েছে হাজার কোটি টাকার ওপরে।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ এদিন যে কয়টি শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে, তার প্রায় দ্বিগুণ প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে। ফলে এক্সচেঞ্জটির সব মূল্যসূচক নিম্নমুখী হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, টানা তিন কার্যদিবসের উত্থানের পর বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ মুনাফা তুলে নিতে বিক্রির চাপ বাড়ান। ভোটের আগে দুই দিন এবং ভোটের পর প্রথম কার্যদিবসে বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। সেই সুযোগে মুনাফা তুলতে গিয়ে বাজারে মূল্য সংশোধন দেখা দেয়।
আজ সোমবার লেনদেনের শুরুতে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় ৫০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে প্রথম আধাঘণ্টা পর বিক্রির চাপ বাড়লে অধিকাংশ শেয়ারের দর কমতে শুরু করে। এতে দাম কমার তালিকা বড় হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে দাম বেড়েছে ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের, বিপরীতে কমেছে ২১৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির। এর মধ্যে ২৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার একদিনে সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত বেড়েছে।
ভালো লভ্যাংশ দেওয়া (১০ শতাংশ বা তার বেশি) ৮৪টি কোম্পানির শেয়ারদাম বেড়েছে, কমেছে ১১১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩টির। মাঝারি মানের কোম্পানির ২৬টির দর বেড়েছে, কমেছে ৪৮টির। ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত ৪২টি কোম্পানির শেয়ারদাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৫৯টির। মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৩টির দর বেড়েছে এবং ১২টির কমেছে।
দাম কমার প্রভাবে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৫৮৯ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১১৮ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৩৬ পয়েন্টে নেমেছে।
সব সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৩ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৮ কোটি ৬ লাখ টাকা কম। তবুও টানা দুই কার্যদিবস হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেনের নজির গড়ল বাজারটি।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ার। কোম্পানিটির ৬৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ঢাকা ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে সিটি ব্যাংকের লেনদেন ৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৭ পয়েন্ট বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২২৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৬টির দর বেড়েছে, ৯০টির কমেছে এবং ২২টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় কম।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post