নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামী ব্যাংকে চাকরিচ্যুতির আশঙ্কায় দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা বয়কট করে ব্যাংকটির কর্মীদের একাংশ। বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরতে তারা সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করে। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই সংবাদ সম্মেলন। এতে ব্যাংকটির কিছু কর্মকর্তা অংশ নেন। এ সময় মাহমুদ হুমায়ন সিকদারসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, আমরা ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তার পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি। আমাদের চাকরি ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ব্যাংকটি ‘বিশেষ দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা’ নামের একটি প্রহসনমূলক পরীক্ষার আয়োজন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গতকাল বিকাল সাড়ে ৩টায় এই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। তবে তারা ইসলামী ব্যাংকের এই পরীক্ষা বয়কট করেন।
তারা বলেন, এক মাস আগেও ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ একই পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করেছিল। আমরা রিট করলে উচ্চ আদালত সেই পরীক্ষা স্থগিত করেন এবং ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী পদোন্নতি পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু গত ২২ সেপ্টেম্বর পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ২৭ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা আয়োজনের ঘোষণা দেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
গত শুক্রবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এবং ঢাকা প্রেস ক্লাবে সমাবেশ ও প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই পরীক্ষা বয়কটের ঘোষণা দেয় ইসলামী ব্যাংকের কর্মীদের একটি অংশ।
এর কারণ হিসেবে তারা জানান, সেই পরীক্ষার নোটিশে উল্লেখ করা হয়-পরীক্ষায় অংশগ্রহণ চাকরিতে বহাল থাকা ও ক্যারিয়ার উন্নতির পূর্বশর্ত, আর অনুপস্থিতদের জন্য আর কোনো সুযোগ থাকবে না। এই অবস্থায় তাদের মধ্যে ভয় ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়। তাদের ধারণা এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য চাকরি থেকে বাদ দেয়া। এটি সরাসরি সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭, ২৯ ও ৩১ লঙ্ঘন করছেÑ যেখানে সমতা, সমঅধিকার এবং সমান কর্মসংস্থানের নীতি সংরক্ষিত।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর সামনে ‘নিয়োগ পরীক্ষা চলছে, ভ্রাম্যমাণ আদালত কার্যকর আছে’ শিরোনামের ব্যানার ছিল। অথচ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল এটি দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা। এখানেই প্রমাণিত হয়েছে যে এটি আসলে পরীক্ষার আড়ালে ছাঁটাইয়ের কৌশল।
জানা গেছে, হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং ১৩৯৭৪/২০২৫-তে আদালত স্পেশাল কম্পিটেন্সি পরীক্ষার পরিবর্তে প্রমোশনাল পরীক্ষা আয়োজনের রুল জারি করেন। বাদী কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়। যদি বাংলাদেশ ব্যাংক হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বিগত ২৫ সেপ্টেম্বর তারিখের বাদী কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদন নিষ্পত্তি করে থাকে, তবে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি এর তিন দিন আগে ২২ সেপ্টেম্বর কীভাবে সার্কুলার জারি করল তা সবার কাছে বিস্ময়।
হাইকোর্টের রায় হয়েছে ২৭ আগস্ট, যেখানে বলা হয়েছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে। অথচ কর্তৃপক্ষ এতদিন পরে এসে বাদীর আবেদন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নিষ্পত্তির কথা বলছে।
এই নিষ্পত্তির বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকবে কিনা তা জানতে চান সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকরা। তারা বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ কি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের ঈর্ষা-প্রণোদিত। যদি চাকরির নিরাপত্তা কেবল ব্যাংকের লাভ-লোকসানের ওপর নির্ভর করে এবং কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় ছাঁটাই করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ ব্যাংক আসলে কীভাবে ব্যাংকারদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।
তারা বলেন, আমরা সবাই নিয়ম মেনে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-তে যোগ দিয়েছিলাম। ৭ থেকে ৮ বছর ধরে নিরলস শ্রম দিয়ে ব্যাংকের উন্নয়নে অবদান রেখে আসছি। কেউ সরকারি চাকরির সুযোগ ছেড়েও এখানে এসেছেন। এত বছরের শ্রম-ঘাম দেয়ার পর এখন আমাদের পথে বসানোর অপচেষ্টা চলছে। শুধু সাড়ে পাঁচ হাজার কর্মকর্তা নন-তাদের সঙ্গে কয়েক লাখ পরিবারের জীবিকা জড়িত। আজ সবার চোখে দুঃখ, অনিশ্চয়তা ও সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কা।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post