নিজস্ব প্রতিবেদক: একসময় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হামি ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন, দীর্ঘ অচলাবস্থা এবং নেতৃত্ব সংকট কাটিয়ে নতুন ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চায় কোম্পানিটি।
১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হামি ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি (আগের নাম ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড) বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ‘হামি’ টিকারে লেনদেন হচ্ছে। কোম্পানিটি বর্তমানে চামড়া ও আনুষঙ্গিক পণ্য খাতের পাশাপাশি কারখানার আংশিক অংশ ভাড়া এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।
২০২৪ সালের মার্চে কোম্পানিটির নাম পরিবর্তন করে ইমাম বাটনের পরিবর্তে হামি ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি করা হয়। একই সময়ে ঔষধ ও রসায়ন খাত থেকে স্থানান্তর করে কোম্পানিটিকে বিবিধ খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কোম্পানির সূত্রে জানা যায়, মূল উদ্যোক্তা বা মালিকপক্ষ দেশত্যাগ করায় একসময় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) হস্তক্ষেপে সাধারণ শেয়ারহোল্ডার এএসএম হাসিব হাসানের কাছে কোম্পানির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
তবে সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএসএম হাসিব হাসানের আকস্মিক মৃত্যুর পর কোম্পানিটির কার্যক্রমে আবারও স্থবিরতা নেমে আসে। নতুন বোর্ড পুনর্গঠন এবং নেতৃত্ব নির্ধারণে জটিলতা তৈরি হয়। বর্তমানে একমাত্র শেয়ারহোল্ডার পরিচালক কোম্পানির পরিচালন ব্যয় ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এরই মধ্যে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিএসইসি একটি টিম গঠন করে। পরে প্রতিনিধিদল ঢাকায় কোম্পানির প্রধান কার্যালয় এবং চট্টগ্রামে অবস্থিত কারখানা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে কোনো ধরনের অনিয়ম না পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করা হয় বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
লোকসান কাটিয়ে পুনরায় ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কোম্পানির রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আরঅ্যান্ডডি) টিম বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন পণ্য উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। এ জন্য আধুনিক অটোমেটিক মেশিন ক্রয় এবং জুতা তৈরির ইউনিট সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। কোম্পানিটি প্রাথমিকভাবে পুরুষ ও নারীদের জুতা, ব্যাগ, ওয়ালেটসহ বিভিন্ন ধরনের চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যও রয়েছে বলে জানিয়েছে কোম্পানির সূত্র।
যদিও বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আর্থিক খাতের চ্যালেঞ্জের কারণে শিল্প খাত চাপের মধ্যে রয়েছে, তারপরও নতুন ব্যবসায়িক পরিকল্পনার মাধ্যমে কোম্পানিটিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post