শেয়ার বিজ ডেস্ক: ভারতের দখল করা জম্মু ও কাশ্মীর সরকার সেখানকার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৫৮টি বেসরকারি স্কুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ১৭ এপ্রিল সরকারি কর্মকর্তারা এই তথ্য জানিয়েছেন। এই পদক্ষেপের ফলে ভারত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটিতে এ ধরনের সরকারি দখলে নেওয়া স্কুলের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০০-এ।
২০১৯ সালে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন’-এর অধীনে জামায়াতে ইসলামী হিন্দকে বেআইনি ঘোষণা করার পর থেকে সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এসব স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, কমিটিগুলোর মেয়াদের সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছিল অথবা সদস্যদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক রিপোর্ট ছিল।
শিক্ষা দপ্তর থেকে জেলা প্রশাসকদের (ডেপুটি কমিশনার) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা স্কুলগুলোর ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেন এবং পাঠদান কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় তা নিশ্চিত করেন। আদেশে বলা হয়েছে, ‘এনইপি ২০২০-এর নিয়ম অনুযায়ী মানসম্মত শিক্ষা বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
কর্তৃপক্ষকে এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির প্রতিটি প্রস্তাবিত সদস্যের নিয়োগের আগে বাধ্যতামূলকভাবে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা ভেরিফিকেশন প্রয়োজন হবে। কর্মকর্তাদের দাবি, শিক্ষার গুণমান রক্ষা এবং সরকারি নিয়মনীতি মেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
ক্ষতিগ্রস্ত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই ফালাহ-ই-আম ট্রাস্ট (এফএটি) দ্বারা পরিচালিত হতো, যা একসময় এই অঞ্চলে স্কুলের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করত। নিষেধাজ্ঞার আগে জম্মু ও কাশ্মীরে জামায়াতে ইসলামী প্রায় ৩৫০টি স্কুল পরিচালনা করত, যেখানে প্রায় ১ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করত। যদিও ট্রাস্টটি নিজেকে একটি অরাজনৈতিক সংস্থা হিসেবে দাবি করে এবং কোনো বৈষম্য ছাড়াই শিক্ষা প্রদানের কথা বলে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে উত্তর কাশ্মীরের একটি স্কুলের বাইরে পুলিশ কর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। ভিডিওটির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা না গেলেও, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে পুলিশের সহায়তায় এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এই পদক্ষেপটি জম্মু ও কাশ্মীরে রাজনৈতিক বিতর্কের জš§ দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমালোচকরা সংবিধানের ৩০ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে সংখ্যালঘু অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিজস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালানোর অনুমতি দেয়।
ওমর আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন সরকারের এই পদক্ষেপকে কিছু বিরোধী নেতা ‘মাত্রাতিরিক্ত হস্তক্ষেপ’ বলে অভিযুক্ত করেছেন। অন্যদিকে, প্রশাসনের দাবিÑবেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সংগঠনকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে দেওয়া যেতে পারে না।
এর আগে ২০২৫ সালে, প্রশাসন জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত ২১৫টি স্কুল দখল করেছিল।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post