বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৬ জিলকদ ১৪৪৭
  • ♦ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শেয়ার বিজ
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ
➔ ই-পেপার
No Result
View All Result
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ
No Result
View All Result
শেয়ার বিজ
No Result
View All Result

তারুণ্যে বদলাবে বাংলাদেশ

শেয়ার বিজ নিউজ শেয়ার বিজ নিউজ
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬.২:২৮ অপরাহ্ণ
বিভাগ - জাতীয় ➔ প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
A A
7
VIEWS
Share on FacebookShare on TwitterShare on Linkedin

আবদুল্লাহ আল মামুন মাসুম : স্বাধীনতার পর কেটে গেছে প্রায় পঞ্চাশ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে আমরা অনেক কিছু পেয়েছি। আবার অপ্রাপ্তি বা বঞ্চিতের তালিকাও অনেক দীর্ঘ। এখন আমরা নবরূপে যাত্রা করেছি, একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে জাতির সামনে। নতুন সম্ভাবনা ও নতুন মাত্রা মূলত পুরোনো হতাশা ভুলে নতুন উদ্যমে নতুন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ বা রাষ্ট্রের ইতিবাচক পরিবর্তন ও স্বাদ পূরণের পথে এগিয়ে যাওয়া। নবযাত্রার প্রধান কাণ্ডারির কাছে আজ মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।  পৃথিবীতে নতুন সভ্যতার যে উত্থান ঘটেছে, সেখানে আগে উত্থান ঘটেছে চিন্তার ক্ষেত্রে। প্রথমে চিন্তার বিপ্লব হয়েছে। তারপর বাস্তব সামাজিক বিপ্লব হয়েছে বা রাষ্ট্রীয় বিপ্লব হয়েছে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে অবহেলিত অঞ্চল থেকে নতুন চিন্তার বিকাশ ঘটেছে।

গ্রিসের কথা ধরুন। গ্রিক সভ্যতা, গ্রিক ভাষা এটা আরামাইক। অর্থাৎ ব্যাবিলনীয় যে সভ্যতা, সেই সভ্যতা থেকে, সেই ভাষা থেকে গ্রিক ভাষা এবং ব্যাবিলনীয় ভাষা। আরামাইক থেকে আরবের দিকে যে লাইনটা এলো এটা হিব্রু এবং ইউরোপের দিকে যে লাইনটা গেল এটা হচ্ছে গ্রিক। গ্রিকরা শত শত বছর ধরে আতঙ্কিত থাকত যে, কখন পার্সিয়ানরা তাদের দেশ দখল করে নেয়। কারণ তখনকার যে পারস্য, এই পারস্যের শক্তি ছিল বিশাল। গ্রিসে ইতিহাসে সেখানে প্রথমে সক্রেটিস, পিথাগোরাস প্লেটো, প্লেটোর পরে অ্যারিস্টটল এবং অ্যারিস্টটলের পরে আলেকজান্ডার। আলেকজান্ডারের যে আগমন, আগমনের আগে সেখানে চিন্তার ক্ষেত্রে একটা পরিবর্তন এলো। মানুষ নতুনভাবে ভাবতে শিখল। অর্থাৎ প্রত্যেকটা সভ্যতার বিকাশের আগে এই যে নতুনভাবে ভাবনার যে শক্তি, এই শক্তিটা এসেছে। তখন গ্রিক ছিল একটা অবহেলিত অঞ্চল। সবসময় আতঙ্কিত থাকত যে কখন ইরানিরা দখল করে নেয় এবং একবার চেষ্টাও করেছিল জয়ের জন্য তারা বেঁচে যায় এবং পারস্য যে নৌবহর, সেই নৌবহরই ভূমধ্যসাগরে রাজত্ব করত। তার মধ্যে সক্রেটিস, সক্রেটিসের শিষ্য হচ্ছেন প্লেটো, প্লেটোর শিষ্য হচ্ছেন অ্যারিস্টটল। তারা একটা নতুন চিন্তা, নতুন ভাবনা। সেই সময়কার মতো ভাবনা দিলেন। ভাবনার ক্ষেত্রে একটা পরিবর্তন এলো। গ্রিকরা ভাবতে শিখল। আর আলেকজান্ডার জয় করলেন এশিয়া এবং আলেকজান্ডার হচ্ছেন প্রথম ইউরোপীয়ান যিনি এশিয়া জয় করলেন। এর আগে কোনো ইউরোপীয়ান এশিয়াতে আসেনি।

হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরবের সেই ‘অবহেলিত’ ভূমিকে এমন এক আদর্শিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছিলেন, যা মাত্র এক শতাব্দীর মধ্যে আটলান্টিক থেকে সিন্ধু নদ পর্যন্ত জ্ঞান ও বিজ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেয়। তাঁর প্রবর্তিত পদ্ধতি ছিল বলা যায় আগে মানুষের চিন্তার পরিবর্তন করা, তারপর সমাজের। আরব উপদ্বীপ যখন অন্ধবিশ্বাস, গোত্রীয় সংঘাত আর চরম অনাচারে লিপ্ত ছিল, ঠিক সেই সময়ে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাব ঘটে। তাঁর অবদান কেবল ধর্মীয় ছিল না, বরং তা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ সামাজিক, রাজনৈতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিপ্লব। ইসলামের প্রথম বাণীই ছিল ‘ইকরা’ বা ‘পাঠ করো’। তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরজ (আবশ্যিক)’। এই একটি নির্দেশ যাযাবর আরবদের জ্ঞানমুখী করে তোলে। এটিই পরবর্তীতে বাগদাদের ‘বাইতুল হিকমাহ’ বা জ্ঞানগৃহ প্রতিষ্ঠার মূল প্রেরণা ছিল।

মধ্যযুগ ইউরোপ ছিল কুসংস্কারাচ্ছন্ন এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা এক অঞ্চল। অথচ সেখান থেকেই আধুনিক সভ্যতার জন্ম হয়। ক্রুসেডের সময় এবং অটোমানদের বিজয়ের ফলে গ্রিক ও আরবদের সংরক্ষিত প্রাচীন জ্ঞান ইউরোপে পৌঁছাতে শুরু করে। এরপর মুদ্রণ যন্ত্র আবিষ্কার হওয়ায় জ্ঞান আর গির্জার কুক্ষিগত থাকল না। ‘রেনেসাঁ’ বা নবজাগরণ মানুষকে শেখাল যে মানুষই পৃথিবীর কেন্দ্র (Humanism)। এরপর গ্যালিলিও, নিউটন এবং ফ্রান্সিস বেকন পর্যবেক্ষণ ও গণিতের মাধ্যমে মহাবিশ্বকে বোঝার ডাক দিলেন। একেই আমরা বলি ‘সায়েন্টিফিক রেভল্যুশন’।

**ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বাংলাদেশ:** পৃথিবীতে এই মুহূর্তে অবহেলিত অঞ্চলের অন্যতম বাংলাদেশ। এখানেই আমাদের সম্ভাবনা শতভাগ। বাংলাদেশ সময়টা এখন অসাধারণ ভালো। কারণ আমরা আছি ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের মাঝ বরাবর। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনসাংখ্যাতাত্ত্বিক লভ্যাংশ হলো কোনো দেশের জনসংখ্যার এমন এক অবস্থা, যেখানে নির্ভরশীল মানুষের (শিশু ও বৃদ্ধ) তুলনায় কর্মক্ষম মানুষের (১৫-৬৪ বছর) সংখ্যা বেশি থাকে। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ, যা সাধারণত একটি জাতির জীবনে একবারই আসে বলা হয়। বাংলাদেশ বর্তমানে এই সুযোগের ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। তবে এই জনসংখ্যা নিজে থেকেই লভ্যাংশ হবে না; একে সম্পদে রূপান্তর করতে সমাজ ও রাষ্ট্রের কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

**তারুণ্য শক্তি না বোঝা:** বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয় ৭২.৮ বছর। এই প্রায় তিয়াত্তর বছরের জীবনে শৈশব, কৈশোর, প্রৌঢ়ত্ব ও বার্ধক্য বাদ দিলে মাঝের সময়টুকু হচ্ছে তারুণ্য। জাতিসংঘ ১৮ বছর থেকে ২৪ বছর সময়টাকে তারুণ্য বলে সংজ্ঞায়িত করেছে। আমাদের শৈশব-কৈশোর কাটে মা-বাবার তত্ত্বাবধানে। প্রৌঢ়ত্ব কাটে পেশাগত আর পারিবারিক জীবনের চক্রে; বার্ধক্য চলে যায় শারীরিক নানা অবস্থা আর জীবনের হিসাব মেলাতে। বাকি রইলো তারুণ্য। এই সময়ে এসে মানুষ কৈশোরের সীমা পার হয়ে যুব বয়সের দরজায় দাঁড়ায়। এক ধরনের স্বাধীনতার স্বাদ পায় এ সময়টায়। মুশকিলটা হয় তখনই। উদ্দাম বল্গাহারা হয়ে পড়ে অনেকে। আসলে তারুণ্য এক বিশাল শক্তি। এই শক্তিকে আত্মনিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেই সম্ভব নিজের ও অন্যের কল্যাণে কিছু করা। আর গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে গেলেই হবে সর্বনাশ! যতটা না অন্যের, ততোধিক নিজের।

নিজের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেবার, মেধাকে বিকশিত করার, ভুল থেকে শেখার শ্রেষ্ঠ সময় এটি—কথার কথা না, রীতিমতো বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠেছে এসেছে ব্যাপারটা। সময়ের প্রক্রিয়া বোঝা, পরিণতি ও সম্ভাব্যতা অনুমান, অমীমাংসিত বিষয়ের উত্তর খোঁজার কাজ করে থাকে আমাদের মস্তিষ্কের সম্মুখভাগ বা ফ্রন্টাল লোব। এই অংশটি পরিপক্ক হয় মোটামুটি মধ্য বিশে, অর্থাৎ তারুণ্যে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষণামতে, মধ্য বিশ মানুষের ভেতরে নিয়মানুবর্তিতা এবং গুছিয়ে কাজ করার দক্ষতা বিকশিত হওয়ারও উপযুক্ত সময়। তাই এই সময়ের সিদ্ধান্ত ও কাজ জীবনের গতিপথে ফেলে সুদূরপ্রসারী প্রভাব। কাজেই আপনি যদি তরুণ হয়ে থাকেন—পরিতৃপ্ত-সুখীজীবনের অধিকারী তাহলে বার্ধক্যে উপনীত হয়ে ব্যর্থ জীবনের জন্য কপাল চাপড়াবেন, নাকি হবেন তা নির্ভর করছে তারুণ্যকে আপনি কীভাবে কী কাজে ব্যয় করছেন তার ওপর।

‘লাইফ ইজ আ পার্টি, ক্র্যাশ ইট’—পশ্চিমা সংস্কৃতির এই প্রতিপাদ্যকে আপন করে নিতে দেখা যাচ্ছে এদেশের তরুণদেরও; যা তাদের প্ররোচিত করছে উদ্দেশ্যহীনভাবে ছুটে চলতে। আবার এক ধরনের আত্মবিধ্বংসী প্রবণতা দেখা যায় কারও কারও মধ্যে, যেখানে মেধা নষ্ট করা স্মার্টনেসের লক্ষণ এবং লতাগুল্মের মতো লক্ষ্যহীন ভেসে বেড়ানোতে দোষের কিছু নেই। ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘গো-এওয়ে মেন্টালিটি’। ভাবখানা এমন—জীবনকে অবলীলায় ছুটে দাও; তারপর কোনো রকমে একটা চাকরি জুটিয়ে নিতে পারলেই হয়ে গেল। এসবই ভোগবাদী পশ্চিমা ভাবধারা অনুকরণের প্রভাব, ‘ইনডিভিজ্যুয়ালিজম’ এবং ‘খাও দাও ফুর্তি করো’ যার মূল প্রতিপাদ্য।

অথচ প্রাচ্যে একসময় কৈশোর থেকেই শারীরিক, মানসিক, আত্মিক, সামাজিক ফিটনেস অর্জনের শিক্ষা শুরু হয়ে যেত। ফলে তারুণ্যে তাদের খেই হারিয়ে ফেলার সুযোগ থাকত না। সেবার মানসিকতা গড়ে উঠত তরুণদের মধ্যে। অর্থপূর্ণ জীবন গঠন করাই হতো তাদের ধ্যানজ্ঞান। পুঁজিবাদিতা, ভোগবাদিতা আর পণ্যদাসত্ব কেনোজলের মতো ঢুকে এলোমেলো করে দিচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে। যার পরিণতি হলো হতাশা অস্থিরতা স্ট্রেস। বস্তুর প্রতি ক্রমবর্ধমান আসক্তি তৈরি হচ্ছে, কিন্তু কিছুতেই মিলছে না তৃপ্তি। লাইক, কমেন্ট আর শেয়ারের চক্করে ব্যক্তিগত জীবন হয়ে যাচ্ছে পাবলিক প্রপার্টি। বাড়ছে উদ্বেগ-বিষণ্ণতা। নেশা, এমনকি আত্মহত্যার মতো দুঃখজনক পন্থায় মুক্তি খুঁজছে অনেক তরুণ। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে আত্মহত্যা-প্রবণতা সবচেয়ে বেশি ১০ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে।

তরুণ প্রজন্মের মূলবাধা: তরুণ প্রজন্ম আসলে ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের শিকার। একটা আগ্রাসন হচ্ছে ডিজিটাল, আরেকটা আগ্রাসন হচ্ছে তামাক। ধোঁয়ার আগ্রাসন। এই দুটো আগ্রাসন এবং তৃতীয় আগ্রাসন হচ্ছে পানীয়ের আগ্রাসন। যেটা দিয়ে তারা আমাদের তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এবং শুধু তা না আমাদের এই সোনার দেশকে ছাইদানি বানানোর চিন্তা করছে তারা।

ডিজিটাল আগ্রাসনে আমাদের চোখকে জিম্মি বানিয়ে ফেলা হয়েছে একটা ছোট্ট পর্দার কাছে। তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশ এখন সারাক্ষণ কাটায় ডিজিটাল মিডিয়াতে স্মার্টফোনে। এর মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া আছে, নাটক আছে বা সিনেমা আছে, অনেক কিছু আছে। সবকিছু মিলিয়ে তার জীবনটা এখন স্ক্রিনময়। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে থাকার ফলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নির্ভরতা তৈরি হয়। মনোযোগের ক্ষমতা কমে যায়। পড়াশোনা বা কাজে মন বসে না। দ্রুত বিরক্তি ও অস্থিরতা বাড়ে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে Attention span কমে যায়। আর হচ্ছে সিগারেট এবং ই-ভেপিং। তরুণদের মস্তিষ্ক সাধারণত ২৫ বছর পর্যন্ত বিকাশমান থাকে। সিগারেট বা ভেপে থাকা নিকোটিন এই বিকাশে বাধা দেয়। স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ কমে যায়। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়। পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায়। ভবিষ্যতে আসক্তির ঝুঁকি বাড়ে।

সবশেষ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জীবনযাত্রাজনিত রোগ বা ‘লাইফস্টাইল ডিজিজ’ যেমন: টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার, পিসিওএস এবং হৃদরোগ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে একটি বৈশ্বিক উদ্বেগ, যা এখন আমাদের দেশেও দেখা যাচ্ছে। এর কারণগুলো কেবল ব্যক্তিগত অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে না, বরং আধুনিক সমাজব্যবস্থা এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আধুনিক তরুণদের খাদ্যাভ্যাসে প্রাকৃতিক খাবারের চেয়ে প্রক্রিয়াজাত খাবারের (Processed Food) আধিক্য বেশি। পিৎজা, বার্গার, চিপস এবং চিনিযুক্ত পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে ট্রান্স-ফ্যাট এবং রিফাইন্ড সুগার থাকে। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে অগ্ন্যাশয় (Pancreas) থেকে ইনসুলিন নিঃসরণে জটিলতা তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস থেকে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয় যা তরুণ বয়সেই ডায়াবেটিসের মূল কারণ। বর্তমান সময়ের তরুণরা শারীরিকভাবে যতটা না সক্রিয়, তার চেয়ে বেশি ডিজিটাল সক্রিয়। পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিনোদন সবই এখন স্ক্রিন-নির্ভর। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শরীরের ‘মেটাবলিক রেট’ বা ক্যালরি পোড়ানোর ক্ষমতা কমে যায়। কায়িক পরিশ্রমের অভাব হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দেয় এবং পেশিকে দুর্বল করে ফেলে; যা স্থূলতা বা ওবেসিটির দিকে ঠেলে দেয়। মানুষের শরীরের একটি প্রাকৃতিক ঘড়ি রয়েছে যাকে **সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm)** বলা হয়। নীল আলোর (স্মার্টফোন বা ল্যাপটপ) প্রভাবে রাতে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে ঘুমের চক্র ভেঙে যায়। রাত জাগার ফলে মাঝরাতে খাওয়ার প্রবণতা **(Midnight Snacking)** তৈরি হয়। শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়ায় কোষগুলো নিজেদের মেরামত করতে পারে না, যা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ **(Chronic Inflammation)** সৃষ্টি করে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে তরুণরা প্রতিনিয়ত ক্যারিয়ার, সোশ্যাল মিডিয়া ইমেজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য নিয়ে চাপের মধ্যে থাকে। এই মানসিক চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোন দীর্ঘসময় ধরে উচ্চমাত্রায় থাকে। এই হরমোন পেটের মেদ বাড়াতে এবং উচ্চ রক্তচাপ তৈরি করতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। অনেকেই এই চাপ সামলাতে ধূমপান বা অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়েন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

**তরুণদের করণীয় কী:** জীবনের একটি মহৎ লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং লক্ষ্য অর্জনে মনোযোগী হোন। আসলে অনেক তরুণেরই এখন জীবনের লক্ষ্য নেই। আবার অনেকের লক্ষ্য স্রেফ চাকরি বা পেশা। আসলে লক্ষ্য শুধু পেশা না, পেশার চেয়েও বড় কিছু। আপনি ডাক্তার হতে চান—লক্ষ্য হওয়া উচিত ভালো ডাক্তার হয়ে মানুষের কল্যাণ করা। এটা যদি করতে পারেন তাহলে অর্থ-সম্মান-খ্যাতি সবই আসবে বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে।

আপনি যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যে সাবজেক্টে ভর্তি হয়েছেন সেখানে ১ম হওয়ার যোগ্যতাও আপনার আছে। এখন প্রয়োজন এই যোগ্যতার ওপর আস্থা রাখা এবং ১ম হওয়ার জন্য যা যা করণীয় তা করা। মনে রাখবেন, ক্লাসে ১ম হলে প্রশস্ত হয়ে যাবে আপনার সাফল্যের পথ। কারণ আপনার সিভিতে যখন রেজাল্টের ঘরে থাকবে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট তখন নিয়োগদাতারা একটু তো নড়েচড়ে বসবেনই! আপনার নেটওয়ার্কিং যত ভালো হবে তত তৈরি হবে নতুন নতুন সুযোগ। এ জন্য মানুষের সঙ্গে মিশতে হবে, বাড়াতে হবে বাস্তব সামাজিক যোগাযোগ।

সেবাকে নিছক ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’ ভেবে অবজ্ঞা করবেন না। সাম্প্রতিককালের চিকিৎসাবিজ্ঞানী-মনোবিদদের চমকপ্রদ সব গবেষণা-প্রতিবেদনগুলো বলছে, ঘরের খেয়ে সত্যিই যারা বনের মোষ তাড়াতে পারেন, অর্থাৎ কোনো রকম প্রতিদানের প্রত্যাশা ছাড়াই চারপাশের মানুষ ও সমাজের কল্যাণে নিয়মিত কাজ করে যান, তাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ুর সম্ভাবনা বাড়ে। কমে হতাশা-বিষণ্ণতা-একাকিত্বের অনুভূতি। তাদের পেশাজীবনেও সৃষ্টি হয় অনবদ্য সাফল্য-সম্ভাবনা।

মেডিটেশন আপনাকে রাখবে প্রশান্ত-প্রত্যয়ী, করবে লক্ষাভিসারী। লক্ষ্য অর্জনে কখন কী করতে হবে তা বোঝার একটা সহজত ক্ষমতা সৃষ্টি হবে। আপনি পায়ে পায়ে এগিয়ে যাবেন লক্ষ্যের পথে। সৎ সঙ্গে মেধার বিকাশ হয়। নিজের গুণ ও শক্তি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এ জন্য বলা হয়, ‘একা হলে ব্যক্তি, সঙ্গে এলে শক্তি!’ আপনি যদি সঙ্ঘে একাত্ম থাকেন তাহলে জীবনে চলার পথে পড়ে যেতে গেলে অজস্র হাত এগিয়ে আসবে আপনাকে তুলে ধরতে।

**রাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ:** তরুণদের মধ্যে স্ক্রিন আসক্তি, ধূমপান-ভেপিং, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইল ডিজিজ বাড়ার পেছনে শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক ও নীতিগত কারণও রয়েছে। তাই এসব সমস্যা সমাধানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আছে। রাষ্ট্রকে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পণ্যের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা উচিত। তামাক ও ভেপিং পণ্যের কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে বিক্রি নিষিদ্ধ করা, জাঙ্ক ফুড ও উচ্চ চিনিযুক্ত পানীয়ের বিজ্ঞাপন সীমিত করা, এসব নীতির লক্ষ্য হলো ক্ষতিকর অভ্যাসের ব্যবহার কমানো।

সচেতনতা বাড়লে তরুণরা নিজেরাই অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়াতে পারে। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি। গণমাধ্যমে স্বাস্থ্য সচেতনতা, ধূমপান, স্ক্রিন আসক্তি ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যের ক্ষতি সম্পর্কে প্রচারণা এখনই করা দরকার। তরুণদের মানসিক চাপ অনেক সমস্যার মূল কারণ। স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিটেশন, কাউন্সেলিং সেবা বাধ্যতামূলক করা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা হটলাইন জরুরি।

রাষ্ট্র যদি কেবল রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো উন্নয়নে মনোযোগ দেয় এবং জনস্বাস্থ্যের নীরব মহামারিক (Lifestyle Disease) উপেক্ষা করে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কর্মক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে, যা ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুবিধা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে এক বড় বাধা। সুস্থ জাতি গঠনের জন্য রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে **‘Health in All Policies’** বা প্রতিটি নীতিতে স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

ভালো ভাবনায় মন ভালো থাকে। আর ভালো মনের লোকটি ভালো কথা বলেন। ভালো কাজ করেন। তার আচরণ-অভ্যাসও হয় সুন্দর মার্জিত শুদ্ধ। চূড়ান্তে এটাই তাকে দেয় শান্তি আর উদ্দাম-আশাবাদ। দেয় প্রত্যাশিত সাফল্য ও সমৃদ্ধি। ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন সমষ্টি এমনকি জাতির বেলায়ও তা সত্যি। আসুন তাই ভালো ভাবি। সচেতনভাবে, সব সময়।

ভালো ভাবি—নিজেকে নিয়ে, অন্যকে নিয়ে, চারপাশকে নিয়ে এবং অবশ্যই নিজের দেশ ও জাতিকে নিয়ে। আমার-আপনার-আমাদের সবার। সম্মিলিত ভালো ভাবনায় চলুন জয় করি সব নেতিবাচকতা, দুর্ভাবনা ও শঙ্কা। রচনা করি কাঙ্ক্ষিত মানবিক মহামানুষের ভিত। গড়ে তুলি এক মমতাময় বাংলাদেশ।

স্বাভাবিকভাবেই শুদ্ধাচারী জাতি নির্মাণে শুদ্ধাচারের চর্চা শুরু হতে হবে পরিবার থেকে। কারণ ব্যক্তির শুদ্ধাচার চর্চার লালনভূমি তার পরিবার। পরিবারে শুদ্ধাচারের চর্চা শুরু হলে তা ছড়িয়ে পড়বে চারপাশে, সমাজে। তার প্রভাব পড়বে জাতীয় জীবনে। ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজ শুদ্ধাচারী হলেই দুর্নীতি ও অনাচারমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠবে। সম্পদের সুষম বণ্টন হবে। সাধারণ মানুষ ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অগ্রগতি থেকে লাভবান হবে। অনেক সময় তীব্র আবেগ ও ভালোবাসায় আমরা গেয়ে উঠি—এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি/ সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি। আবার সেই আমরাই প্রতিদিন কত অবলীলায় অপরিচ্ছন্ন করে তুলছি এই জন্মভূমিকে। প্রকৃতির যত্নে গড়ে ওঠা জল-স্থল দিন দিন পরিণত হচ্ছে আবর্জনার ভাগাড়ে। শুদ্ধ ভাবমূর্তি আর সৌন্দর্যই নয়, অপরিচ্ছন্নতার সাথে সাথে ব্যাহত হচ্ছে দেশবাসীর সার্বিক সুস্থতাও। চিকিৎসাবিজ্ঞানের আধুনিক গবেষণা ও তথ্য-উপাত্তই বলছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সাথে রয়েছে আমাদের শারীরিক-মানসিক সুস্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক। তাই আজ আমাদের তরুণদের শেখাতে হবে তাদের শারীরিক, মানসিক, আত্মিক, সামাজিক তথা সম্পূর্ণ সুস্থ ও দক্ষ ভালো মানুষ হতে হলে দেহ-মনের আবর্জনামুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক আবর্জনাও পরিষ্কার করতে হবে।

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
Previous Post

তারুণ্যের হাত ধরেই বদলাবে বাংলাদেশ

Next Post

ভালো মানুষ ভালো দেশ, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ

Related Posts

জাতীয়

ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র

সংবাদপত্রের মার্কেটিংয়ের দুই যুগ
জাতীয়

সংবাদপত্রের মার্কেটিংয়ের দুই যুগ

হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ ইউনূস সরকার: সিপিবি
জাতীয়

হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ ইউনূস সরকার: সিপিবি

Next Post

ভালো মানুষ ভালো দেশ, বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ

Discussion about this post

সর্বশেষ সংবাদ

বছরের প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজারে বড় উত্থান

সূচকের উত্থানে চাঙা পুঁজিবাজার, প্রথম ঘণ্টায় লেনদেন ২৪৯ কোটি টাকা

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যে নিবন্ধনের সুযোগ ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত: পোস্টাল ভোট

ইসির ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প উঠছে একনেকে

আবাসন খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপের নির্দেশ

আবাসন খাতে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বারোপের নির্দেশ

জ্বালানি মজুত রোধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

স্থিতিশীল পরিবেশ ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হবে না

পতনের বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে পুঁজিবাজার

টানা দরপতনের পর ডিএসইতে হাজার কোটির লেনদেন




 

আর্কাইভ অনুসন্ধান

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  

প্রকাশক ও সম্পাদক ✍ মীর মনিরুজ্জামান

তথ‌্য অ‌ধিদপ্ত‌রের নিবন্ধন নম্বরঃ ৪৮

একটি শেয়ার বিজ প্রাইভেট লি. প্রতিষ্ঠান

(প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রয়োজন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে)

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

বিএসইসি ভবন (১০ তলা) ॥ ১০২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ॥ ☎ 01720123162, 01768438776

  • ♦ বাংলা টেক্সট কনভার্টার

Copyright © 2025 Daily Share Biz All right reserved. Developed by WEBSBD.NET

No Result
View All Result
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ

Copyright © 2025 Daily Share Biz All right reserved. Developed by WEBSBD.NET