শেয়ার বিজ ডেস্ক: লবণাক্ত মাটি, বিশুদ্ধ পানির সংকট আর জলবায়ু পরিবর্তনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করছে বাগেরহাটের উপকূলীয় জনপদ। এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়ে টেকসই সমাধান নিয়ে কাজ করছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি।
ব্র্যাকের সঙ্গে অংশীদারিত্বে ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘অপরাজেয় দেশ’ কর্মসূচির মাধ্যমে বাগেরহাটের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মোংলা ও রামপাল উপজেলায় জলবায়ু সহনশীলতা, জীবিকা উন্নয়ন এবং পরিবেশগত টেকসইতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৪৬ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।
পানির সংকটে টেকসই সমাধান
লবণাক্ততার কারণে বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় ১৫টি কমিউনিটি-ভিত্তিক বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ১৮০টি গৃহভিত্তিক ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণই এগুলোর ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করছেন, যা প্রকল্পটির টেকসইতা নিশ্চিত করছে।
কৃষিতে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি
প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কৃষককে দেওয়া হয়েছে জলবায়ু সহনশীল বীজ, জৈব সার ও বায়োপেস্টিসাইড। পাশাপাশি ৩০টি প্রদর্শনী প্লটে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা দেখানো হচ্ছে। সৌরচালিত সেচ পাম্প ব্যবহারের ফলে কৃষিতে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা ও উৎপাদন ব্যয় কমেছে।
জীবনে পরিবর্তনের গল্প
শরণখোলার সুমি বেগম ও মোরেলগঞ্জের রেণুকা রানী মিস্ত্রির মতো নারীরা এখন কৃষিকাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। কেউ আবার প্রশিক্ষক হিসেবে অন্যদেরও জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে উৎসাহিত করছেন।
জ্ঞানভিত্তিক কৃষি সহায়তা
‘অ্যাডাপটেশন ক্লিনিক’-এর মাধ্যমে কৃষকদের রোগবালাই, মাটি ব্যবস্থাপনা ও পোকামাকড় দমন বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ভয়েস এসএমএসের মাধ্যমে আবহাওয়া ও জোয়ার-ভাটার তথ্যও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের কাছে।
টেকসই ভবিষ্যতের পথে
কমিউনিটির অংশগ্রহণে পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি উন্নয়ন ও অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। ‘অপরাজেয় দেশ’ দেখিয়ে দিচ্ছে, সঠিক উদ্যোগ ও জ্ঞানভিত্তিক সহায়তায় জলবায়ু চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু উপকূলীয় অঞ্চলের জীবনমান উন্নয়নেই নয়, বরং বাংলাদেশের জলবায়ু অভিযোজন কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post