নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই দর বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে সপ্তাহজুড়ে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। তবে বড় মূলধনের বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমেছে। এতে ডিএসইর বাজার মূলধন আড়াই হাজার কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে।
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২০৫টির শেয়ার ও ইউনিটের স্থান হয়েছে দর বাড়ার তালিকায়। বিপরীতে দর কমেছে ১৪৫টির। আর ৪০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৯৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। আগের সপ্তাহে কমে ৫ হাজার ১২৪ কোটি টাকা।
বাজার মূলধন কমলেও গত সপ্তাহে প্রধান মূল্যসূচক বেড়েছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ১১ দশমিক ১২ পয়েন্ট বা দশমিক ২১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৫২ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ। অপর দুই সূচকের মধ্যে ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে বেড়েছে ৭ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৫ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বা দশমিক ৫১ শতাংশ।
তবে বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গত সপ্তাহজুড়ে কমেছে ১৯ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বা ১ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি কমে ১৫ দশমিক ৪০ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৬ শতাংশ।
এদিকে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনের গতি বেড়েছে। সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৮৩০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন বেড়েছে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা বা ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ।প্রথম পৃষ্ঠার পর
সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৭৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যা মোট লেনদেনের ৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিংয়ের শেয়ার প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ৩০ কোটি ২৭ লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মুন্নু সিরামিক।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ দশ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে এনসিসি ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, এপেক্স স্পিনিং, লাভেলো আইসক্রিম, আরডি ফুড, একমি পেস্টিসাইড এবং সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত সপ্তাহে বেশিসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বাড়লেও বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর দর কমে যাওয়ায় বাজার মূলধনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে ডিএসই-৩০ সূচকের পতন থেকে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীদের বড় ও মৌলভিত্তিক কোম্পানিগুলোর প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমেছে। তবে একই সঙ্গে সার্বিক লেনদেন বৃদ্ধি এবং অধিকসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের দর বাড়া বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামনের সপ্তাহগুলোয় বড় মূলধনের কোম্পানিগুলোর দর স্থিতিশীল হলে বাজারে ইতিবাচক ধারা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post