নিজস্ব প্রতিবেদক: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য খাতের কোম্পানি বিডি থাই ফুডের অ্যান্ড ভেবারেজ লিমিটেডের একজন পরিচালক তার হাতে থাকা ১০ লাখ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএসইর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির পরিচালক মোহাম্মদ আবুল কালাম বর্তমানে তার কাছে থাকা মোট ২ কোটি ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৬৬৬টি শেয়ারের মধ্যে থেকে ১০ লাখ শেয়ার বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঘোষণার তারিখ থেকে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিদ্যমান বাজারদরে পাবলিক মার্কেটের মাধ্যমে তিনি এসব শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন করবেন।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালকের শেয়ার কেনাবেচার ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ পরিচালকদের শেয়ার বিক্রি বা কেনার সিদ্ধান্ত অনেক সময় কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, আর্থিক অবস্থান কিংবা ব্যক্তিগত বিনিয়োগ কৌশলের বিষয়ে বাজারে বিভিন্ন ধরনের বার্তা দেয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিচালকের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা মানেই কোম্পানির মৌলভিত্তিতে নেতিবাচক কিছু ঘটছেÑএমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আর্থিক প্রয়োজন, বিনিয়োগ পুনর্বিন্যাস কিংবা অন্য ব্যবসায়িক পরিকল্পনার কারণেও উদ্যোক্তা বা পরিচালকরা শেয়ার বিক্রি করে থাকেন।
ডিএসইর নিয়ম অনুযায়ী, কোনো উদ্যোক্তা পরিচালক তার শেয়ার বিক্রির আগে বাজারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে বাধ্য। একইভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লেনদেন সম্পন্ন হলে তাও পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগকারীদের অবহিত করতে হয়।
এদিকে, বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেড দেশের খাদ্যপণ্য খাতে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটি বিভিন্ন ধরনের প্রসেসড ফুড, স্ন্যাকস, পানীয় ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে কোম্পানিটির শেয়ার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে বিভিন্ন কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ঘোষণা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি একদিকে যেমন ব্যক্তিগত বিনিয়োগ কৌশলের অংশ হতে পারে, অন্যদিকে বাজার পরিস্থিতিও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেনের ওঠানামা, বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে এ ধরনের ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন নজর রাখবেনÑনির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিচালক ঘোষিত শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন করেন কি না এবং এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে কোনো প্রভাব পড়ে কি না। পাশাপাশি কোম্পানিটির ভবিষ্যৎ আর্থিক প্রতিবেদন, লভ্যাংশ ঘোষণা এবং ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ পরিকল্পনাও বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে থাকবে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু পরিচালকের শেয়ার বিক্রির ঘোষণার ওপর নির্ভর না করে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি, আয় প্রবৃদ্ধি, পরিচালন দক্ষতা এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post