নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রায় ২৫৭ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি মামলায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানসহ ১৫ আসামির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) তদন্ত প্রতিবেদন জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে আলোচিত কারসাজির ঘটনায় দুদকের মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সম্প্রতি বিএসইসি পৃথকভাবে এ বিষয়ে তদন্ত করে। গতকাল সোমবার দুদক টিম সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র জব্দ করেছে।
গত বছরের ২৫ জুন শেয়ারবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ২৫৬ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
এ ঘটনায় বিএসইসিও পৃথক তদন্ত করে। দুদকের মামলার তদন্তের ধারাবাহিকতায় তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন ওই প্রতিবেদন জব্দ করেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মো. আবুল খায়ের (ওরফে হিরু), তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, মো. জাহেদ কামাল, মো. হুমায়ুন কবির ও তানভির নিজাম।
আসামিদের বিরুদ্ধে ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দ্রুত আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ১৭ ধারা লঙ্ঘন করে নিজেদের বিও অ্যাকাউন্টে অনৈতিক ও অবৈধ লেনদেন, ফটকা ব্যবসা, জুয়া ও গুজবের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কারসাজি করেছেন।
এতে আরও বলা হয়, নির্দিষ্ট কিছু শেয়ারের কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে দাম বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করা হয় এবং তাদের ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামি মো. আবুল খায়ের (ওরফে হিরু) ও তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান ক্যাপিটাল গেইনের নামে অর্জিত ২১ কোটি ১৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকার উৎস গোপনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করেন। তার ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে।
সাকিব আল হাসানের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে বলা হয়, তিনি প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালি পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে বিনিয়োগের মাধ্যমে কথিত কারসাজিতে যোগসাজশ করেন এবং ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইনের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তদন্ত কার্যক্রম চলমান থাকে। সাকিব আল হাসান ২০১৮ সালে দুদকের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন, তবে ২০২২ সালে তাকে আর এ পদে না রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post