নিজস্ব প্রতিবেদক : পতনের ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে দেশের পুঁজিবাজার। গতকাল বুধবার চতুর্থ কার্যদিবসে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে।
এদিন ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৭টির। আর ৭২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৪টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৭টির দাম কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৭টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ২৭টির দাম কমেছে এবং ১৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫৩টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৩টির এবং ২২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৭টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হলেও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৫৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১০৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১৫১ পয়েন্টে উঠে এসেছে।
মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৬৫ কোটি ৪৭ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৮২৪ কোটি ৮৯ টাকা। এ হিসেবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ২৫৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
এ লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে সিটি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ৪২ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছেÑ রবি, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ইনফিউশন, কে অ্যান্ড কিউ, ইস্টার্ন ব্যাংক, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং বিডি থাই ফুড।
এদিকে বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল দিনভর টানা ঋণাত্মক প্রবণতায় নিমজ্জিত থাকার পর লেনদেনের শেষ মুহূর্তে নাটকীয় উত্থান ঘটেছে দেশের পুঁজিবাজারে। বিক্রির চাপ ও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগে ক্লান্ত বাজারে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে একটি গুঞ্জন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে নতুন গভর্নর নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লেনদেনের একেবারে শেষ কয়েক মিনিটে সূচক দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। দিনের অধিকাংশ সময় নেতিবাচক অবস্থানে থাকা সূচক শেষ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরতে সক্ষম হয়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জš§ দিয়েছে।
অন্যদিকে গুঞ্জন সত্যি হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনুসরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন গভর্নর হিসেবে মো. মোস্তাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post