শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিতের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল আবার বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল বুধবার অন্তত দুটি চীনা তেলবাহী জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করে উপসাগরীয় অঞ্চল ত্যাগ করেছে বলে শিপিং ডেটায় দেখা গেছে। খবর: আল আরাবিয়া
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান উত্তেজনা শিগগির প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেন, তিনি আশা করছেন যুদ্ধ ‘খুব দ্রুতই শেষ হবে’। একইসঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এখন বেশ ভালো অবস্থানে আছি।’
হামলা স্থগিতের দাবি ট্রাম্পের
ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে নতুন শান্তি প্রস্তাব আসার পর তিনি সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আজ হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মাত্র এক ঘণ্টা দূরে ছিলাম।’
তবে একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, কোনো সমঝোতা না হলে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন হামলা হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক চাপ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি সচল রাখা এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে শত শত তেলবাহী জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বের হতে পারেনি।
এলএসইজি ও ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, চীনের দুটি সুপারট্যাংকার প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল ইরাকি অপরিশোধিত তেল বহন করে প্রণালি অতিক্রম করেছে।
শান্তির ইতিবাচক বার্তার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও কিছুটা কমেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি নেমে এলেও পরে কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়।
আলোচনায় জটিলতা
ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, ইরানের নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে আলোচনায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘অনেক সময় ইরানের আলোচনাকারীদের অবস্থান পুরোপুরি পরিষ্কার থাকে না।’
অন্যদিকে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালালে কঠোর সামরিক জবাবের মুখে পড়তে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের নতুন শান্তি প্রস্তাবে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের কাছাকাছি এলাকা থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা অর্থ ফেরত দেওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নতুন প্রস্তাবে আগের অবস্থান থেকে বড় কোনো পরিবর্তন নেই।
যুদ্ধবিরতি থাকলেও উত্তেজনা অব্যাহত
এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, তাদের লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা দুর্বল করা। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এখনো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আঞ্চলিক প্রভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও অঞ্চলজুড়ে এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post