আমানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম: কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল মডেল জেলা পরিষদ গঠন করতে চান নবনিযুক্ত কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। প্রশাসকের দৃঢ় পরিকল্পনায় মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর কেন্দ বিন্দুতে আছে পুরাতন টিনসেড মার্কেট ভেঙে চার তলা বহুমুখী মার্কেট নির্মাণ কার্যক্রম।
জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ স¤‹্রতি শেয়ার বিজকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান, প্রশাসনিক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ সব মিলিয়ে একটি উন্নত আয়বৃদ্ধিকরণ বহুমুখী প্রতিষ্ঠানের দিকে এগুচ্ছে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ।
শেয়ার বিজ: দায়িত্ব গ্রহণের পর কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদে কী ধরনের পরিবর্তন এনেছেন?
সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ: আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর সর্বপ্রথম গুরুত্ব দিয়েছি শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতায়। আগে যে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা ছিল, সেগুলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এখন প্রতিটি কাজ নথিভুক্ত হচ্ছে, ফাইল মেইনটেন হচ্ছে, কর্মচারীদের আইডি কার্ড, জেলা পরিষদের লোগোসহ নথি ফাইল বুক, খামসহ ঠিকাদারদের আধুনিক বই প্রদান নিয়ম শৃংখলার মধ্যে আনা হয়েছে।
শেয়ার বিজ: চার তলা বিশিষ্ট বহুমুখী মার্কেটি নিয়ে আপনার ভাবনা কী
সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ: এটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই ভবনটি কুড়িগ্রাম জেলা শহরের প্রাণকেন্দ শাপলা চত্বরে অবস্থিত। এটি নির্মাণের মাধ্যমে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এই ভবনটি হবে বাণিজ্যকেন্দ । আমাদের তিন তলা ধরলা জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটেরর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। ফলে দুইটি মার্কেট একটা আর একটার পরিপূরক থাকবে। এই মার্কেটের চার তলায় কমিউনিটি সেন্টার, কনফারেন্স রুম, প্রশিক্ষণ কেন্দ , ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার থাকবে। যা কুড়িগ্রামের সৌন্দর্য-বৃদ্ধিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ব্যপক ভূমিকা রাখবে।
শেয়ার বিজ: জেলা পরিষদের রাজস্ব বৃদ্ধিতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ: আমরা ইতোমধ্যেই কুড়িগ্রাম শহরের খলিলগঞ্জ বাজারে, ফুলবাড়ি উপজেলা, রৌমারী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলার জেলা পরিষদের জায়গা উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই জমিগুলোর উদ্ধার কাজ শেষ হলে সব জায়গায় মার্কেট নির্মাণ করা হবে। এতে করে ওই এলাকায় ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেইসঙ্গে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন খেয়া ও ফেরি ঘাটগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণের মাধ্যমে ইজারা মূল্যহার নিরিক্ষণ করা হবে। এসব ব্যস্তবায়িত হলে জেলা পরিষদের উল্লেখযোগ্য হারে রাজস্ব আয় বাড়বে।
শেয়ার বিজ: শিক্ষা, সংস্কৃতিক ও সামাজিক উন্নয়নে কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছেন?
সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ: আমরা মানবতার পাশে সব সময় থাকব। মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলমান রেখেছি। এ ছাড়া দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবন্ধী, বধির ও অন্ধ জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তা বৃদ্ধি করা হবে। ধর্মীও, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থেকে জেলা পরিষদ আগের তুলনায় বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
শেয়ার বিজ: প্রযুক্তিনির্ভর সেবা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ: আমরা পুরো জেলায় ওয়াইফাই ভিক্তিক একটি ডিজিটাল সাপোর্ট সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা করছি। এতে শিক্ষার্থী, তরুণসহ সর্বস্তরের মানুষ তথ্যপ্রযুক্তির সেবা পাবেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্থানীয় পর্যায়ের এই উদ্যোগ জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
শেয়ার বিজ: নারী সমাজকে আত্মনির্ভরশীল করতে কী উদ্যোগ নিয়েছেন?
সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ: এই জেলার অর্ধেক নারী জনগোষ্ঠী। তারা অনেক পিছিয়ে আসেন। অধিকাংশ নারীরা পুরুষের ওপর নির্ভরশীল। অনেক নারী পুরুষ অবিভাবক হীনতায় দারিদ্র্যতার জীবনযাপন করছেন। আমরা এই জেলার নারীদের সেলাই ও কারুপণ্য শিল্পের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত করে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলব। এই নারীরা নিজেদের পায়ে দাঁড়িয়ে সমৃদ্ধ করবেন আমাদের জেলাকে।
শেয়ার বিজ: বেকার যুব সমাজের জন্য কী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন?
সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ: এই জেলার বেকার যুব সমাজকে স¤‹দে পরিণত করতে হবে। জেলা পরিষদের উদ্যোগে ড্রাইভিং, ইলেকট্রিক, মোবাইল সার্ভিসিং, ক¤ি‹উটার সার্ভিসিংসহ বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করে তাদের উপযুক্ত তৈরি করা হবে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কর্মে যুক্ত থাকারও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেয়ার বিজ: অবকাঠামো উন্নয়নে কী ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন?
সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ: কুড়িগ্রাম কেন্দ ীয় শহীদ মিনারের পিছন দিয়ে জেলা পরিষদের উদ্যোগে একটি নতুন বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হবে। এতে শহরের যানজট কমবে এবং জেলা পরিষদের মার্কেটসহ অন্য সব স্থাপনার উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাবে। জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণকে আধুনিক পরিবেশবান্ধব করে ফুলের বাগান, নান্দনিক স্থাপনা তৈরি করা হবে। শহরের দৃশ্যমান স্থানে আল্লাহ পাকের নিরানব্বইটি নামের একটি মনোরম মিনার নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শেয়ার বিজ: ডাকবাংলো ও অন্যান্য স¤‹দের উন্নয়ন নিয়ে কী পরিকল্পনা আছে।
সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ: কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ চত্বরে একটি ও জেলার নয় উপজেলায় নয়টি জেলা পরিষদের ডাকবাংলো আছে। এগুলোকে আয়বর্ধক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। এগুলোকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর করে ফুলের বাগানসহ মনোমুগ্ধকর ফোয়ারা নির্মাণ করা হবে। ডাকবাংলোর ওয়াই ফাই সিস্টেমের আওতায় থাকবে গোটা জেলা।
শেয়ার বিজ: কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদকে নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ: আমাদের লক্ষ্য স্কষ্টÑকুড়িগ্রাম জেলা পরিষদকে দেশের সেরা এবং একটি রোল মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। প্রশাসনিক সচ্ছতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আত্বনির্ভরশীল এই চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা এগিয়ে যাব। বিশেষ করে চারতলা মার্কেট নির্মাণ কাজ শেষ হলে জেলা পরিষদের আয়বৃদ্ধির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার পাশাপাশি বাড়বে কর্মসংস্থান। এক কথায় পরিকল্পিত উন্নয়ন, কঠোর প্রশাসনিক সংস্কার এবং একাধিক অবকাঠামোর বিনিয়োগের সমম্বয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ দেশের একটি উন্নত আয়বর্ধকর অন্যতম আধুনিক জেলা পরিষদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post