ব্যাংক খাত হলো যে কোনো দেশের অর্থনীতির হৎপিণ্ড। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলোÑবাংলাদেশে এ খাত এখন রুগ্ণ।
অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে দেশের বেশকিছু ব্যাংক এখন সংকটের মুখে রয়েছে। তবে এর মধ্যেও কিছু ব্যাংক অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো করছে। আমাদের সিটি ব্যাংক তার একটি। ২০২৫ সালে আমরা ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার নিট মুনাফা করেছি। এর আগে ২০২৪ সালে সিটি ব্যাংকের মুনাফা প্রথমবারের মতো হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। আমাদের এ সাফল্যের মূল সূত্র হলো করপোরেট সুশাসন ও সময়োপযোগী পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। যে ব্যাংক এটি করতে ব্যর্থ হয়েছে, সেটিই এখন ধুঁকছে।
বিএনপি সরকার গঠন করেছে। দুই দশক পর দলটি এমন এক সময় সরকার গঠন করল, যখন বিশ্ব পরিস্থিতি টালমাটাল। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশ্বের সব হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিয়েছে ও দিচ্ছে। আর বাংলাদেশের অর্থনীতি কয়েক বছর ধরেই মন্দাসহ নানা সংকটের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। সরকারের রাজস্ব আয়ের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সরকারকে চলতে হচ্ছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগে খরা ও কর্মহীনতার মতো সংকট তো আছেই। এ অবস্থায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী বাজেট প্রণয়ন সত্যিকার অর্থেই কঠিন।
নতুন সরকারের প্রথম বাজেট প্রণয়ন উপলক্ষে আমরা এরই মধ্যে এবিবির পক্ষ থেকে এনবিআরের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সেখানে আমরা লিখিতভাবে বেশকিছু দাবির কথা জানিয়েছি। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়টা দাবি হলোÑকরপোরেট করহার কমানো। ভারত, শ্রীলংকা ও নেপালে এ করহার ৩০ শতাংশ হলেও আমাদের ক্ষেত্রে সাড়ে ৩৭ শতাংশ। আবার ব্যাংকগুলোকে পরিচালন মুনাফার ওপর এ হারে কর দিতে হচ্ছে। আমরা এটির যৌক্তিক সমাধান চেয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা করপোরেট করহার ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছি। আমরা বলেছি, পরিচালন নয়, বরং নিট মুনাফার ভিত্তিতে কর নির্ধারণ করতে। কারণ সঞ্চিতির ওপরও একই হারে কর আরোপের কারণে ব্যাংকগুলোকে একই আয়ের ওপর দুইবার কর দিতে হচ্ছে। ব্যাংক খাতে কার্যকর সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সরকারের দায়দায়িত্ব অনেক। বাজেটে এ বিষয়ে আমরা সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতি চাই। এ দেশের ব্যাংকাররা অতীতের মন্দ অভিজ্ঞতায় আর ফিরতে চায় না।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post