নিজস্ব প্রতিবেদক : আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ আলম সারওয়ারকে ৫ কোটি টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ‘আইএফআইসি গ্যারান্টেড শ্রীপুর টাউনশিপ গ্রিন জিরো কুপন বন্ড’ সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগে তাকে এ শাস্তি দেয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশনের ৯৮০তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ জুলাই ৯৬৫তম কমিশন সভায় জালিয়াতি অভিযোগের ভিত্তিতে শাহ আলম সারওয়ারের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট প্রক্রিয়া শুরুর সিদ্ধান্ত নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
একই মামলায় ব্যবসায়ী ও সাবেক সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান এবং বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামকে পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ থেকে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়। সালমান এফ রহমানের ছেলে আহমেদ সায়ান ফজলুর রহমানকেও একই শাস্তির আওতায় আনা হয়।
এছাড়া বিএসইসির সাবেক কমিশনার শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ এবং আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্টের সাবেক সিইও ইমরান আহমেদকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। জরিমানার অংশ হিসেবে সালমান এফ রহমানকে ১০০ কোটি টাকা, আহমেদ সায়ানকে ৫০ কোটি টাকা এবং ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিংকে ১০ লাখ টাকা গুনতে হয়।
বন্ড জালিয়াতির বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৫০০ কোটি টাকার বন্ডটির ইস্যুকারী ছিল রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেড (এসটিএল)। অথচ বিভিন্ন প্রচারণায় ‘আইএফআইসি আমার বন্ড’ নাম ব্যবহার করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভুল ধারণা সৃষ্টি করা হয়Ñযেন এটি সরাসরি আইএফআইসি ব্যাংক কর্তৃক ইস্যুকৃত।
বিএসইসির ভাষ্য অনুযায়ী, আইএফআইসি ব্যাংক ছিল বন্ডের জামিনদার আর আইএফআইসি ইনভেস্টমেন্ট ছিল অ্যাডভাইজার ও অ্যারেঞ্জার। কিন্তু বন্ডকে ব্যাংকের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে অসৎ উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ আহ্বান করা হয়েছিল; যা প্রতারণার শামিল।
উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএফআইসি ব্যাংকে ২০১৫ সাল থেকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। গত বছর ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটিতে স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর বিভিন্ন পরিদর্শনে উঠে এসেছে, সালমান এফ রহমান পদে থাকার সময় ব্যাংকটি থেকে নামে-বেনামে বিভিন্ন কায়দায় অর্থ তুলে নেন। এর ফলে লোকসানে পড়েছে সরকারি-বেসরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকটি।
চলতি বছরের মে মাসের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, ২০২৩ সালে ব্যাংকটি ৩০০ কোটি টাকা ও ২০২২ সালে ৩৪৪ কোটি টাকা নিট মুনাফা করে। গত বছরের ডিসেম্বরে ব্যাংকটির ঋণের পরিমাণ ছিল ৪৪ হাজার ৬৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১৭ হাজার ১৮২ কোটি টাকা বা ৩৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ ইতোমধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে।
আইএফআইসি ব্যাংকে ২০১৫ সাল থেকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছিলেন সালমান এফ রহমান। ব্যাংকটি থেকে তিনি ২০২০ সালে ৪৪০ কোটি টাকা নিলেও ২০২১ সালে কোনো টাকা নেননি। এরপর ২০২২ ও ২০২৩ সালে নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করে এই সময়ে প্রায় তিন হাজার টাকা তুলে নেন। এতে ব্যাংকটিতে ৬ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা আটকে পড়েছে। আরও বিভিন্ন নামে ব্যাংকটি থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার সুবিধাভোগী তিনি।
অপরদিকে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে সরকার পতনের পর গত বছরের ১৩ আগস্ট সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন সালমান এফ রহমান।
বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমানের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা হয়েছে। ২০০৯ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান আইএফআইসি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেন। তখন তার হাতে ছিল ব্যাংকের ৩০ শতাংশ শেয়ার।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post