শেয়ার বিজ ডেস্ক: বর্ষার আগমনী বার্তার মধ্যেই রাজধানীজুড়ে শুরু হয়েছে উন্নয়নকাজের নামে ব্যাপক রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। সমন্বয়হীন পরিকল্পনা, দীর্ঘসূত্রতা এবং খোঁড়াখুঁড়ির পর সময়মতো সংস্কার না করায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে যানজট, ধুলাবালি, জলাবদ্ধতা ও দুর্বিষহ জনদুর্ভোগ।
রাজধানীর ধানমণ্ডি, উত্তরা, বারিধারা, নতুনবাজার, মোহাম্মদপুর, বসিলা ও আদাবরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও রাস্তা কাটার পর মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও সড়কের একাংশজুড়ে পড়ে আছে মাটি, বালু ও নির্মাণসামগ্রী। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে সড়ক, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল এবং বাড়ছে যানজট।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ফাইবার অপটিক্যাল কেবল স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজে কোনো সমন্বয় নেই। একটি সংস্থা কাজ শেষ করার আগেই অন্য সংস্থা একই এলাকায় নতুন করে রাস্তা কাটছে। ফলে একবার সংস্কার করা সড়কও আবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
নগরবাসী আরও জানান, নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়ার পরও তারা কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না। অনেক এলাকায় নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও সড়ক ব্যবস্থাপনার ঘাটতি পূরণে স্থানীয় সোসাইটিগুলোকে নিজ উদ্যোগে কাজ করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে উত্তরা, বারিধারা ও নতুনবাজার এলাকায় উন্নয়নকাজের কারণে সড়কের বড় অংশ অচল হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে মোহাম্মদপুর, কাদেরাবাদ ও বসিলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত সড়ক, ধুলাবালি ও জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে রয়েছেন বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন-এর প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান বলেন, বিভিন্ন সেবা সংস্থার বড় প্রকল্প চলমান থাকায় সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তা কাটার পর সংস্কারেও বিলম্ব হচ্ছে। পরিস্থিতি উন্নয়নে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর মাধ্যমে কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সব মিলিয়ে পরিকল্পনার অভাব, সমন্বয়হীনতা ও দীর্ঘসূত্রতায় রাজধানীর সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম এখন নগরবাসীর জন্য নতুন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post