শেয়ার বিজ ডেস্ক: দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে রাজধানী ঢাকা। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ও মানসম্মত আবাসনের চাহিদাও। এখন নগরবাসী শুধু একটি ফ্ল্যাট নয়, বরং এমন একটি বাসস্থান খুঁজছেন যেখানে পরিবার নিয়ে স্বস্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করা সম্ভব। বায়ুদূষণ, যানজট, অগ্নিঝুঁকি, সবুজের সংকট এবং ভূমিকম্পের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে রাজধানীতে টেকসই আবাসনের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেড়েছে।
বর্তমানে অনেক আবাসন প্রকল্প নিজেদের পরিবেশবান্ধব বা “সাসটেইনেবল” হিসেবে প্রচার করলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেই মান বজায় থাকে না। পুরোনো নির্মাণপদ্ধতি, নিম্নমানের উপকরণ এবং অপরিকল্পিত নকশার কারণে অনেক প্রকল্পের টেকসই আবাসনের প্রতিশ্রুতি শুধু প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
এমন প্রেক্ষাপটে রাজধানীর মাদানী অ্যাভিনিউ এলাকায় নির্মাণাধীন অনন্ত টেরাসেস (Ananta Terraces) আবাসন প্রকল্পটি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। পরিবেশবান্ধব নকশা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণব্যবস্থার সমন্বয়ে গড়ে তোলা হচ্ছে প্রকল্পটি।
প্রায় ১৫ একর জমির ওপর নির্মিতব্য এ প্রকল্পের প্রায় ৬৪ শতাংশ জায়গা রাখা হয়েছে খোলা ও সবুজ পরিবেশের জন্য। এখানে থাকবে খেলার মাঠ, জগিং ট্র্যাক, জিমনেশিয়াম, বিভিন্ন ক্রীড়া সুবিধা, জলাধার ও সবুজ বাগান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব সুবিধা বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যকর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপনে সহায়ক হবে।
প্রকল্পটিতে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক মডুলার অ্যালুমিনিয়াম শাটারিং প্রযুক্তি, যা বাংলাদেশের আবাসিক নির্মাণ খাতে প্রথমবারের মতো প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ প্রযুক্তি ভবনের কাঠামোগত শক্তি বৃদ্ধি করে, ভূমিকম্পে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে এবং নির্মাণের সময় ও বর্জ্য কমাতে সহায়তা করে।
ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় প্রকল্পটি ৭ মাত্রা পর্যন্ত ভূমিকম্প সহনশীল করে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে উচ্চমানের স্টিল, গভীর ভিত্তি এবং উন্নত কাঠামোগত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ভবনকে আরও নিরাপদ করবে।
অগ্নিনিরাপত্তার দিক থেকেও রাখা হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। প্রতিটি ভবনে ফায়ার-রেটেড দরজা, স্মোক ডিটেক্টর, স্প্রিংকলার ব্যবস্থা, জরুরি সিঁড়ি এবং নিরাপদ বহির্গমন পথ থাকবে।
এ ছাড়া উন্নত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করতে প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্ট এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার ও আরামদায়ক থাকে।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এ ধরনের প্রকল্প রাজধানীর আবাসন খাতে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিত ও টেকসই আবাসনই হতে পারে ভবিষ্যতের ঢাকা নগরজীবনের নিরাপদ ও বাসযোগ্য পথ।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post