নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের পুঁজিবাজার নতুন সরকার এলে ভালো হবেÑবিনিয়োগকারীদের এমন তীব্র আকাক্সক্ষা থাকলেও নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের দিনে দেখা গেল উল্টো চিত্র। গতকাল মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) উভয় বাজারেই সূচক পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। নির্বাচনের পর টানা উত্থানের ধারার পর এদিন বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেওয়ায় বাজারে চাপ তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
গতকাল বিকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রীসহ ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। তবে আশা থাকলেও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটার দিনে বাজারে ইতিবাচক সাড়া মিলেনি। বরং গত দুই সপ্তাহের উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতির পর বিনিয়োগকারীদের ‘প্রফিট টেকিং’-এর প্রবণতা সূচককে নিচের দিকে ঠেলে দেয়।
ডিএসইতে দিনের শুরুতে সূচক কিছুটা বাড়লেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিম্নমুখী হয়। লেনদেন চলাকালে একাধিকবার সূচকের ওঠানামা দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত পতনই স্থায়ী হয়। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৮ দশমিক ৯৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৭০ পয়েন্টে। শরিয়াহভিত্তিক সূচক কমে ১ হাজার ১১৭ পয়েন্টে এবং ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ নেমে আসে ২ হাজার ১২৬ পয়েন্টে।
ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৩১টির, কমেছে ২৩৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির। লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা কম।
অন্যদিকে সিএসইতেও সূচক পতন হয়েছে, যদিও লেনদেন বেড়েছে। সিএসসিএক্স সূচক ১৪ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৫২৬ পয়েন্টে নামে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমে দাঁড়ায় ১৫ হাজার ৫১৩ পয়েন্টে। সিএসইতে ২৩১টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়; এর মধ্যে ৯৪টির দাম বাড়ে, ১১০টির কমে এবং ২৭টি অপরিবর্তিত থাকে। লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১ কোটি ৯ লাখ টাকা, যা আগের দিনের তুলনায় বেশি।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল স্কয়ার ফার্মা, এসিআই, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংকসহ কয়েকটি বড় মূলধনি কোম্পানি। দর বৃদ্ধির তালিকায় ছিল এবি ব্যাংক, সোনারগাঁও টেক্সটাইল ও প্রিমিয়ার ব্যাংক। অন্যদিকে দরপতনের শীর্ষে ছিল বে-লিজিং, ফনিক্স ফাইন্যান্স, মাইডাস ফাইন্যান্স ও সাইফ পাওয়ার।
এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইএক্স সূচক এক দিনেই ২০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল এবং সিএএসপিআই সূচকও বড় উত্থান দেখেছিল। সেই তুলনায় সরকার গঠনের দিন বাজারে সংশোধন প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ হলেও সামনের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণ ও সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা আরও স্পষ্ট বার্তা প্রত্যাশা করছেন। সেই দিকনির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post