নিজস্ব প্রতিবেদক : রোজার শুরুতে দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেনে খরা অব্যাহত রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর চলতি সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবস লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকার বেশি হলেও সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবস লেনদেন কমে দাঁড়িয়েছে ৫০০ কোটির ঘরে। গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমেছে ৪০ শতাংশ।
মূলত নির্বাচন-পূর্ববর্তী দুই কার্যদিবস ও পরবর্তী এক কার্যদিবসে শেয়ারে যে মুনাফা সঞ্চয় হয়েছে, তা তুলে নিতে শেষ চারদিন বিক্রি বাড়ানোর চাপ দেখা গেছে। এই সময় বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলে নিলেও নতুন করে আর বিনিয়োগ করেনি। যে কারণে পুঁজিবাজারে ধারাবাহিকভাবে লেনদেন কমছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টা সূচক কখনও উত্থান, আবার কখনও পতনে মোড় নিলেও দুপুর ১২টার পর থেকে টানা পতন দেখা যায়। ওই সময়ে শেয়ার ক্রয়ের তুলনায় বিক্রয়ের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এতে অধিকাংশ শেয়ারে দরপতন হওয়ার পাশাপাশি সূচকও নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। দিনশেষে মাত্র ৪৬টি শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ানোর তালিকায় নাম লেখাতে সক্ষম হলেও দাম কমার তালিকায় রয়েছে ৩১৩টি। আর ৩৩টির দাম দিনশেষে অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১২ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৮ পয়েন্টে নেমে গেছে।
পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় বিক্রির চাপে এই দরপতন হয়েছে। ভোটের আগে দুদিন এবং ভোটের পরের প্রথম কার্যদিবস শেয়ারবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। টানা তিন কার্যদিবসের উত্থানে কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বেশ বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এই সুযোগে মুনাফা তুলে নিতে আজও শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে। এ কারণে বাজারে কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে।
এদিকে সবকটি মূল্য সূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ দিনের ব্যবধানে বড় অঙ্কে কমে গিয়েছে। এদিন বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৬০ কোটি টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৩৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৩৭৫ কোটি
৭৮ লাখ টাকা বা ৪০ দশমিক ১৫ শতাংশ। গত রোব, সোম ও মঙ্গলবার ডিএসইতে যথাক্রমে ১ হাজার ২৭৫ কোটি ১০ লাখ, ১ হাজার ২৫৭ কোটি ৪ লাখ এবং ১ হাজার ২২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮০ পয়েন্ট কমে ১৫ হাজার ৩৪৯ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১১৩টির এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।
বাজার পর্যালোচনা করে দেখো যায়, লেনদেনের ভিত্তিতে (টাকায়) প্রধান ১০টি কোম্পানি হলোÑব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, অলিম্পিক ইন্ডা., ঢাকা ব্যাংক, সায়হাম কটন, প্রগতি লাইফ ইন্সু, ওরিয়ন ইনফিউশন, রহিমা ফুড, মুন্নু ফেব্রিকস ওসিটি ব্যাংক।
দর বৃদ্ধির শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলোÑরহিমা ফুড, আইসিবি এমপ্লয়ি প্রভিডেন্ড মি. ফা-১, মার্কেন্টাইল ইন্স, এপেক্স স্পিনিং, বিডি থাইফুড, ইসলামী ব্যাংক, ইন্দো-বাংলা ফার্মা, অলিম্পিক ইন্ডা বিডি থাই ও ব্র্যাক ব্যাংক।
দর কমার শীর্ষে প্রধান ১০টি কোম্পানি হলো-ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স, সুহƒদ ইন্ডা, এনবিএল, এপোলো ইস্পাত, এক্সিম ১ম মি. ফা., বিআইএফসি, টুংহাই নিটিং ও ফনিক্স ফাইন্যান্স।
প্রিন্ট করুন








Discussion about this post