নিজস্ব প্রতিবেদক : পতনের ধাক্কা সামলে আস্তে আস্তে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে গতকাল রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে গতকাল আগের কার্যদিবসের তুলনায় ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা কমেছে। এদিকে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর বেড়েছে।
ডিএসইর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৩১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৪৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯২ পয়েন্টে ওঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৭৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে লেনদেনে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ডিএসইতে গতকাল লেনদেন আগের কার্যদিবসের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
ডিএসইর তথ্যমতে, গতকাল লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানি এবং ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৯৫টি কোম্পানি এবং মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৩টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ১৪৭টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে ৬৫টি ফান্ড ও কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল।
এদিকে বিভিন্ন ক্যাটেগরির মধ্যে ‘এ’ ক্যাটেগরির ২১৮টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১১৫টি কোম্পানি ও ফান্ডের দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ৬৮টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিন শেষে অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর।
একইভাবে ‘বি’ ক্যাটেগরির ৮০টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ৪১টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ৮টি ফান্ড ও কোম্পানির দর।
‘জেড’ ক্যাটেগরির ৯৭টি কোম্পানি ও ফান্ডের মধ্যে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি ফান্ড ও কোম্পানির দর বেড়েছে। এর বিপরীতে ৩৮টি ফান্ড ও কোম্পানির দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ২২টি ফান্ড ও কোম্পানির দর।
এদিকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বেশিরভাগ ফান্ডের ইউনিটের দর কমেছে। লেনদেন হওয়া ৩৬টি ফান্ডের মধ্যে মাত্র ১২টি ফান্ডের ইউনিট দর বেড়েছে, বিপরীতে ৮টি ফান্ডের ইউনিট দর কমেছে। দিনশেষে অপরিবর্তিত ছিল ১৬টি ফান্ডের ইউনিট দর।
ডিএসইতে গতকাল মোট ১৯ কোটি ৮৪ লাখ ২৬ হাজার ৪৩টি শেয়ার ও ইউনিট এক লাখ ৮৮ হাজার ৯০৭ বার হাতবদল হয়েছে। এর জের ধরে দিনশেষে ডিএসইতে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৬১৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৬৯৬ কোটি ৮০ টাকা।
লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো: সিভিও পেট্রোলিয়াম, সোনালি পেপার, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, তৌফিকা ফুডস, ওরিয়ন ইনফিউশন, ডমিনেজ স্টিল, খান ব্রাদার্স পিপি, কে অ্যান্ড কিউ, বিএসসি এবং প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০ কোম্পানি: এক্সিম ব্যাংক, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, এসআইবিএল, এবি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স, সিভিও পেট্রোলিয়াম, রিলায়েন্স ১ম মিউচুয়াল ফান্ড, রহিমা ফুডস এবং ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স।
দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি: ট্রাস্ট ব্যাংক ১ম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ইনটেক লিমিটেড, মিথুন নিটিং, এমএল ডায়িং, আইএসএন লিমিটেড, আনলিমা ইয়ার্ন, সেলভো কেমিক্যাল, এশিয়াটিক ল্যাব, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড এবং আলহাজ টেক্সটাইল।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনের শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ সক্রিয় ছিল। ব্যাংক ও বিমা খাতের শেয়ারদর বৃদ্ধিতে বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। মধ্যম মানের লেনদেনের সঙ্গে সূচকের ধারাবাহিক উত্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়িয়েছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকদের মতে, গতকাল পুঁজিবাজারের এই তেজিভাব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। আগামীদিনগুলোয় বাজারের এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূচক বাড়ার পাশাপাশি পুঁজিবাজারে লেনদেনেরও পরিমাণ বেড়েছে। এটি বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দেয়। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, আগামী দিনগুলোতেও এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় থাকবে।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post