শেয়ার বিজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য একটি সম্মানজনক পথ খুঁজছে বলে দাবি করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের প্রতিনিধিদের পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা শুরুর আগে ওই দাবি করেছে তেহরান। শনিবার ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবর এএফপি।
মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, আমাদের সামরিক সক্ষমতা আজ এক প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং শত্রুপক্ষ বর্তমানে যুদ্ধের যে চোরাবালিতে আটকা পড়েছে, সেখান থেকে মানসম্মান নিয়ে বাঁচিয়ে পালানোর পথ খুঁজছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে পাকিস্তানে। এই আলোচনায় অংশ নিতে ইতোমধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা¤ে‹র প্রতিনিধি হিসেবে স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদে যাচ্ছেন। যদিও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মাঝে সরাসরি আলোচনার কোনো সম্ভাবনা নেই। আর শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আদৌ কোনো আলোচনা হবে কি না, সেটিও স্কষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা¤ে‹র পাঠানো প্রতিনিধিদল শনিবার ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমানে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। তবে তেহরান বলেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ত্রিদেশীয় আঞ্চলিক সফরের অংশ হিসেবে ইসলামাবাদে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তার সরাসরি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা নেই।
এদিকে আরব সাগরে ইরানের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরের একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে গতিরোধ করে পুনরায় ইরানের দিকে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। গতকাল রোববার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ‘এমভি সেভান’ নামক জাহাজটিকে আরব সাগরে আটকে দেওয়া হয়। গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস পিঙ্কনি’ থেকে উড্ডয়ন করা একটি মার্কিন নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার জাহাজটিকে গতিরোধ করে।
বর্তমানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নির্দেশনা অনুযায়ী জাহাজটি পুনরায় ইরানের দিকে ফিরে যাচ্ছে এবং মার্কিন প্রহরায় সেটিকে সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এমভি সেভান’ নামের এই জাহাজটিসহ মোট ১৯টি জাহাজের ওপর আগে থেকেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ছিল। শতকোটি ডলারের ইরানি তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পাচারের অভিযোগে এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে আরব সাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর এই হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post