মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন: যে কোনো দেশের সরকারকে রাজস্ব আদায় করার জন্য ট্যাক্স এবং ট্যারিফ এই দুইটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়। ট্যাক্সকে বাংলাতে বলা হয় ‘কর’, আর ট্যারিফকে বলা হয় ‘শুল্ক’। অর্থনীতিতে কর ও শুল্কের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কর ও শুল্কের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো: কর আরোপ করা হয় কোনো ব্যক্তির আয় বা স¤‹দের উপর, আর শুল্ক আরোপ করা হয় আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের উপর। প্রতিটি দেশের সরকার দেশের অভ্যন্তরে জনগণের আয়ের উপর, উৎপাদিত পণ্য ও সেবার উপর কমবেশি কর আরোপ করে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের উপর শুল্ক আরোপ করে। একটি দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য কর ও শুল্ক দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাদেশের কর শুল্কনীতি সুষ্ঠ ও ন্যায্য নয়। বিগত সরকারগুলো গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষের কাছ থেকে উচ্চহারে কর আদায় করেন, অন্যদিকে কর ছাড় দিয়েছেন উচ্চবিত্ত ধনীদের। বাংলাদেশে ধনীদের তুলনায় গরিব-মধ্যবিত্তরা অধিক কর দেয়। এদেশে গরিবদের ওপর ট্যাক্স বাড়ানো হয় আর ধনীদেরকে ছাড় দেওয়া হয়, দীর্ঘদিন ধরে এই নীতিতে দেশ চলছে। বছরের পর বছর একদিকে ধনী শিল্পপতিরা কর ফাঁকি দিচ্ছে, অন্যদিকে গরিব মধ্যভিত্তদের ঘাড়ে অতিরিক্ত কর শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে করে পুঁজিপতিরা হাজার কোটি টাকার মালিক হচ্ছে, আর গরিবরা নিষ্কেষিত হচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে ৫৪ হাজার কোটি টাকা। যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ১০.৪৮ শতাংশ বেশি। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলেছেন, রাজস্ব আদায়ের ভরাডুবির মধ্যও শুল্ক ছাড়ে সরকারের উদারতা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে অর্থ সংকট আরো তীব্রতর হবে। যার ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতিতে পড়েছে নতুন সরকার। সেজন্য চলতি অর্থবছরে সরকার ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জন্য ভ্যাট খাতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। যা গত অর্থবছরের তুলনায় ১৩,১৯৫ কোটি টাকা বেশি। যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৪ থেকে ৫ শতাংশ, সেখানে ভ্যাটের প্রবৃদ্ধি কীভাবে ১৯.১৭ শতাংশ অর্জিত হবে। তাছাড়া ভ্যাট ও কর-শল্ক খাতে যথাযত সংস্কার হয়নি। বরং বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের নামে কারও কারও এজেন্ডা বাস্তবায়ন হয়েছে।
এনবিআরের তথ্য বলছে, মোবাইল ফোন কো¤‹ানি, ফ্রিজ-এসি, টেক্সটাইল, বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান শুল্ক ছাড়ের সুযোগ নিয়েছে। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরে দেশীয় মোবাইল ফোন উৎপাদনে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে ২৮২৯ কোটি টাকা। সরকারের যুক্তি ছিল, এতে কম দামে মোবাইল ফোন মিলবে। বাস্তবে বাজারে তার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। একইভাবে পোলট্রিশিল্পে শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছে ১৫২৪ কোটি টাকা। অথচ বাজারে এর কোনো প্রভাব পড়েনি, ডিম-মুরগির দাম না কমে উল্টো বেড়েছে। সরকার যখন শুল্ক ছাড় দেয় তখন ভোক্তা সেই সুবিধা পায় না। এর ফল ভোগ করে ব্যবসায়ী চক্র। একদিকে কর ছাড় অন্যদিকে ভর্তুকি দেওয়ার কারণে সরকারের কোষাগার খালি হচ্ছে। বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বাণিজ্য ও শিল্প খাতে ভর্তুকি দেওয়ার কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন ধারণের মানের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে করে জনগণের উপর এক অদৃশ্য করের বোঝা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। অন্যদিকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যে অতিরিক্ত কর-শুল্ক আরোপ করার কারণে জিনিসপত্রের দাম অতিরিক্ত হারে বাড়ছে। এতে মানুষের পকেটের টাকা দিন দিন ক্ষয় হচ্ছে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মানুষের আয় বৃদ্ধি পায় না। আয় না বাড়লেও পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তখন ভোক্তাদের আরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়।
বাংলাদেশে কর নীতির প্রদান সমস্যা হচ্ছে ব্যক্তিগত আয়কর ফাঁকি, আমদানি-রপ্তানিতে বাণিজ্যে কর ফাঁকি, নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে কম হারে কর-শুল্ক প্রদান, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি, আন্ডার ও ওভার ইনভয়েস, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কর মওকুফ সুবিধা আদায়। আবার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর জালের বোঝা এত বেশি যা মানুষের পক্ষে দৈনন্দিন জীবনের ওপর মারাত্মক প্রভাব বিস্তার করছে।
বিগত হাসিনা সরকারের সময়ে বিদেশ থেকে চড়া দামে জ্বালানি তেল গ্যাস আমদানি, দুর্নীতি ও টাকা পাচার, মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় এবং বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি বাবদ অতিরিক্ত টাকা ব্যয় হয়। যার কারণে সরকারের রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি হয়। হাসিনা সরকার বাধ্য হয়ে বিদেশ থেকে ঋণ নেয়। অতিরিক্ত টাকা পাচারের ফলে তৎকালীন সময়ে ডলার ও ব্যাংকে টাকার সংকট সৃষ্টি হয়। চাপে পড়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসিনা সরকারকে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও আমদানি করা সকল পণ্যে অত্যাধিক হারে কর-শুল্ক বাড়িয়ে দিতে হয়। কোনো ঘোষণা ছাড়াই অযোক্তিক হারে বাড়িয়েছে, যার ফল ভোগ করতেছে সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত জনগণ। হাসিনা সরকারের দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার খেসারত দিচ্ছে সাধারণ গরিব জনগণ। অতিরিক্ত কর-শুল্ক আরোপ করায় বাজারে দ্রব্যমূল্যের দাম অতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পেয়ে গরিব নিম্নবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। জনগণ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। অর্থনৈতিক সংকট এবং টাকার সংকটের কারণে ইউনূস সরকারও সেই পথে হেঁটেছে।
বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে পরোক্ষভাবে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ে, বিশেষ করে আমদানি করা পণ্যের (চিনি, তেল, জ্বালানি) ক্ষেত্রে ডলারের দাম বৃদ্ধি ও বাড়তি শুল্ক আরোপের কারণে।
উদাহরণস্বরূপ: চিনি, ভোজ্যতেল ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে কাস্টমস ও ভ্যাট বাবদ সরকারের আয় বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ সৃষ্টি করে। চিনির দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ হচ্ছে শুল্ক ও ভ্যাট ভ্যাট বৃদ্ধি করা। বর্তমানে চিনিতে ২৯ টাকা কেজিতে সরকারকে ভ্যাট-শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। চিনি ৪ বছর আগেও বিক্রি করা হতো ৬০ টাকা কেজি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে সরকার ভ্যাট ও শুল্ক বাড়িয়ে দিলে চিনির দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। তার উপর আবার সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা সরকারের সঙ্গে কারসাজি করে কয়েক দফা দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। তেল, চিনিসহ নিত্যপণ্যের ব্যবসায়ীরা অনেক শক্তিশালী। সুতরাং সরকার যদি অতিরিক্ত ভ্যাট-শুল্ক তুলে নেয় তাহলে চিনির অতিরিক্ত দাম কমে যাবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পূর্বে ১ লিটার ডিজেলের ক্রয়মূল্য ৫১ টাকা। সরকার ২০২৩ সালে জ্বালানি তেলের ওপর ৪৫ শতাংশ কর আরোপ করলে এক লাফে দাম বেড়ে ১০৮ টাকা হয়ে যায়। একসঙ্গে ৪৫ শতাংশ কর আরোপ বিশ্ব ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
বিদেশি ফলমূল এখন বিলাসি পণ্যের শামিল হয়ে উঠেছে। দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে ফল খাওয়া জরুরি হলেও উচ্ছ মূল্যের কারণে তা ক্রমেই নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। অতিরিক্ত শুল্ক ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ফল খাওয়া কমিয়ে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
ফল আমদানিতে উচ্চ কর-শুল্প আরোপ ও ডলারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচ বেশি পড়ছে। ২০২১–২২ অর্থবছরে আপেল, কমলা, আঙ্গুর ও আনারের উপর মোট শুল্ককর ছিল ৮৯.৩২ শতাংশ। আর ২০২৩–২৪ অর্থবছরে দ্বিতীয় দফায় আবার বাড়ানোর ফলে মোট শুল্ককর হয়েছে ১৩৬.২০ শতাংশ। সরকার ডলার সংকটে ফল আমদানি নিরুৎসাহ করতে এনবিআর ১৩৬.২০ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করে। ফলে আমদানিকারককে প্রতি ১০০ টাকার ফল আমদানিতে সরকারকে শুল্ককর দিতে হচ্ছে ১৩৬ টাকা। এসব শুল্কের মধ্য রয়েছে ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, স¤‹ূরক শুল্ক ও কাস্টম শুল্ক। বাজারে বর্তমানে আপেল বিক্রি হচ্ছে ৩৭৫ থেকে ৪৫০ টাকা। কমলার বাজার দর ২৮০ থেকে ৩৫০ টাকা। আঙ্গুর বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। মানভেদে খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ২২০০ টাকা। এনবিআর সূত্রে জানা যায়, শুল্ক ছাড়া ১ কেজি আপেলের ক্রয়মূল্য ৯০ টাকা। ১ কেজি মাল্টার দাম ৮০ টাকা। প্রতি কেজি আঙ্গুরের দাম ১২০ টাকা। মোবাইলে ৪৫ শতাংশ স¤‹ূরক শুল্ক এবং মুঠোফোনে ১০০ টকার মধ্য ৫৬ টাকা ট্যাক্স। অন্যদিকে ব্র্যান্ড বা নন ব্র্যান্ড যে কোনো ধরনের পোশাক কিনুন না কেন তার উপরও ভ্যাটের হার দ্বিগুণ করা হয়েছে। অসুখ হলে প্রতি ঘরে ঘরে প্রত্যেক মাসে ওষুধ খরচ লাগে, সেই ওষুধের উপর বাড়তি মূসক আরোপ করা হয়েছে। ফলে এখানেও কয়েক বছর যাবত খরচ বেড়ে গেছে। বাচ্চাকে জুস বা রেস্টুরেন্ট থেকে কোনো খাবার কিনে দেবেন এতেও বাড়তি ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। বাচ্চাদের জন্য আমদানি করা শিশু খাদ্যেও রয়েছে করের বোঝা।
চাল, ডাল, তেল, দুধ, মসলা থেকে শুরু করে পরিবহন ব্যয় সবখানেই রয়েছে বাড়তি কর-শুল্কের চাপ। তেল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি গ্যাসে রয়েছে উচ্চহারে শুল্ক ও ভ্যাট। যার ফলে পূর্বের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি টাকা জ্বালানি ক্রয়ে ব্যয় করতে হচ্ছে। নতুন কর বিধিমালা অনুযায়ী থাকার জন্য ফ্ল্যাট-প্লট ও জায়গা ক্রয়ে ২৪ গুণ বা তার চেয়ে বেশি কর বাড়ানো হয়েছে। ক্রেতাকে জমি, ফ্ল্যাট কিংবা স্থাপনা নিবন্ধনের জন্য শুধু কর হিসেবেই কাঠাপতি ৩ লাখ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হবে। পূর্বে ছিল ১৬,৫০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা।
কর আদায় বাড়াতে জমি রেজিস্ট্রেশনে উৎস করও বাড়ানো হয়েছে। জমির অস্বাভাবিক মৌজা মূল্যবৃদ্ধির কারণে জমি ক্রয়-বিক্রয়ের পরিমাণ কমে গেছে। পড়ালেখায় ব্যবহƒত খাতা-কলমেও অতিরিক্ত শুল্ক-ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। হাসিনা সরকারের সময়ে নানাভাবে করের জাল বিস্তৃত করা হয়েছে। বাড়তি মূসক ও শুল্কের চাপে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত উচ্চ মূল্যস্ফীতির যাঁতাকলে নাকাল হচ্ছে।
কারণ শুল্ক ও মূসক সমাজে বসবাসরত ধনী-গরিব সবাইকে দিতে হয়। বিলাসি ও শৌখিন পণ্য এবং তামাক জাতীয় পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কÑআরোপ করা যায়। কিন্তু নিত্যপণ্যে উচ্চ হারে ভ্যাট ও শুল্ক আরোপ কাম্য নয়। নানা কারণে গত কয়েক বছর নিত্যপণ্যের বাজার ছিল রীতিমতো পাগলা ঘোড়া। দামের চোটে বছরজুড়ে গড় মূল্যস্ফীতি ঠেকেছে দুই অঙ্কের ঘরে।
খরচ বাড়লেও মানুষের আয় বাড়েনি তেমন। উল্টো চাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্য খুইয়ে ধুঁকছেন অনেকে। এর মধ্য পুনরায় পণ্যদ্রব্য ও সেবায় নতুন শুল্ককর আরোপ নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হবে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক করের পরিমাণ না বাড়িয়ে এর আওতা বাড়ানো উচিত। বিভিন্ন খাতে অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা কর দেয় না। আবার অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী আছেন যারা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে কর ফাঁকি দেয় এবং কর ছাড় সুবিধা লাভ করে। তাই নতুন সরকারকে ব্যবসায়ীদের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করে তাদেরকে নিয়মিত কর দানে বাধ্য করতে হবে। পাশাপাশি উচ্চ করহার কমিয়ে আনতে হবে। বিভিন্ন খাতে অনেক ব্যবসায়ী আছেন যারা নিয়মিত কর-শুল্ক দেয় না। তারা ঠিকমত ট্যাক্স প্রদান করলে সরকারের রাজস্ব আয় বহুগুণ বাড়বে। তবে বিগত সরকারগুলো সেই পথে না হেটে যারা নিয়মিত কর-শুল্ক দিচ্ছেন তাদের উপর আরও কর-শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। এতে ব্যবসা বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, বাড়বে কর ফাঁকির প্রবণতা। সরকারের উচিত প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবায় কর-ভ্যাট কমিয়ে করের আওতা বৃদ্ধি করা। কর-শুল্ক বাড়ালে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়বে, এটা কোনো সরকারই বুঝে না। যে কর দেয় না তার কাছ থেকে কর আদায়ের মুরদ নেই। দুর্নীতি করে টাকা পাচারকারীকে ধরা হয় না। আর অর্থবছরের মাঝপথে এসে শুল্ক-কর বাড়িয়ে দেবেন, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। এই বাজেটে কারও পকেট ভারী হবে আর কার সংসারে বাড়বে টান। সরকার যদি আমদানি শুল্ক কমানোর পথে না হাটে তাহলে বাজারে স্বস্তি আসবে না। উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্য জনজীবন যখন বিপর্যস্ত সেই সময় পুনরায় কর বৃদ্ধি জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় আরেক দফা বাড়িয়ে তাকে আরও সংকটময় করে তুলবে। সেজন্য নিত্যপণ্যের উপর শুল্ক না বাড়িয়ে বিদেশি শৌখিন পণ্যের করহার বাড়ানো উচিত। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করার জন্য নতুন সরকারকে বিভিন্ন ধরনের ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে সরকারি রাজস্ব সংস্থা এনবিআরে কর্মরত দুর্নীতিবাজ অফিসারদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। রাজস্ব আদায়ের জন্য নতুন নতুন করদাতা চিহ্নিত করে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকানোর জন্য মাঠপর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করতে হবে।
প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট
প্রিন্ট করুন






Discussion about this post