শেয়ার বিজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) তাদের নতুন প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় আট হাজার অভিবাসীর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে ২০১৪ সাল থেকে মৃতের সংখ্যা ৮২ হাজার ছাড়িয়েছে। এতে অন্তত তিন লাখ ৪০ হাজার পরিবারের সদস্য সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আইওএমের ডিসপ্লেসমেন্ট ট্র্যাকিং ম্যাট্রিক্স (ডিটিএম) এবং মিসিং মাইগ্রেন্টস প্রজেক্টের (এমএমপি) নতুন বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
ডিটিএম সরাসরি ফিল্ড মনিটরিং এবং সরকারি তথ্যের মাধ্যমে অভিবাসন পথ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। আর এমএমপি দাপ্তরিক রেকর্ড এবং মিডিয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করে। প্রতিবেদনগুলো যৌথভাবে দেখিয়েছে, কীভাবে মূল ভূখণ্ডের পরিস্থিতি এবং নীতিগত পরিবর্তন অভিবাসন যাত্রাকে নতুন রূপ দিচ্ছে, যেখানে অনিরাপদ অভিবাসনের মানবিক মূল্য ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া মোয়িতা বলেন, আপাতভাবে মনে হতে পারে যে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপ বিগত বছরগুলোর তুলনায় হ্রাস পেয়েছে, কিন্তু আদতে তা ঘটেনি। তবে সংঘাত, জলবায়ুগত পরিবর্তনের প্রভাব, শ্রমিক চাহিদা এবং বিভিন্ন দেশের পলিসি পরিবর্তনের কারণে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে রুট পরিবর্তন করার প্রবণতা বাড়ছে।
‘আমরা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে রুট পরিবর্তনের প্রবণতা লক্ষ করছি। কয়েক বছর ধরে অভিবাসনপ্রত্যাশীরা যেসব রুট ব্যবহার করতেন, গত বছর সেসব রুট তারা ব্যবহার করেছেন অনেক কম। অনেকেই বিকল্প রুট ব্যবহার করছেন এবং সেসব রুট প্রচলিত রুটগুলোর তুলনায় বেশি দীর্ঘ, খণ্ডিত এবং বিপজ্জনক।’
২০২৫ সালে অনিরাপদ রুটে বিদেশে যাত্রা করতে গিয়ে নিহত হওয়া অভিবাসীর সংখ্যা অবশ্য আগের বছর ২০২৪ সালের তুলনায় কম। আইওএমের হিসেব অনুযায়ী ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছিলেন ৯ হাজার ১৯৭ জন।
তবে মারিয়া মোয়িতা বলেছেন, আইওএমের প্রতিবেদনে ২০২৪ সালের তুলনায় কমসংখ্যক মৃত্যুর উল্লেখ থাকলেও ২০২৫ সালে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যুর সংখ্যা কমেছেÑএমন মনে করার কোনো কারণ নেই।
‘আমাদের জানামতে, গত বছর প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন মানুষ সাগরে নিখোঁজ হয়েছেন। কিন্তু কোনো দেশের সরকার কিংবা অভিবাসনবিষয়ক স্বীকৃত কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি; তাই আমাদের প্রতিবেদনেও এই সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি,’ সংবাদ সম্মেলনে বলেন মারিয়া।
প্রতিবেদন বলছে, আমেরিকা মহাদেশে, মধ্য আমেরিকা হয়ে উত্তরমুখী (যুক্তরাষ্ট্রের দিকে) অভিবাসন যাত্রা ২০২৪ সালের তুলনায় নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপে সামগ্রিকভাবে অভিবাসীদের পৌঁছানোর হার কমলেও অভিবাসনের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। সেখানে সিরীয়দের সংখ্যা নীতিগত ও রাজনৈতিক কারণে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশি নাগরিকরাই এখন আগত অভিবাসীদের মধ্যে বৃহত্তম গোষ্ঠী বা দলে পরিণত হয়েছে।
হর্ন অব আফ্রিকা রুট দিয়ে সৌদি আরবের দিকে অভিবাসন ২০২৪ সালের তুলনায় কিছুটা কমলেও ২০২৩ সালের তুলনায় বেশি রয়েছে। তবে দক্ষিণ ইথিওপিয়ায় শ্রমচাহিদার পরিবর্তনের কারণে পূর্ব আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে প্রবাহ বছরের শেষের দিকে বেড়েছে।
বর্তমানে সীমান্ত সহযোগিতা বাড়ায় পশ্চিম আফ্রিকান আটলান্টিক রুট ব্যবহার করে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছানোর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিন্তু যাত্রাগুলো এখন আগের চেয়ে দীর্ঘ, ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভৌগলিকভাবে আরো ছড়িয়ে পড়েছে।
ডিটিএমের তথ্য বলছে, সীমান্ত এলাকাগুলোয় হাজার হাজার অভিবাসী আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং সুরক্ষার সীমিত সুযোগ নিয়ে আটকে পড়ে আছেন। একই সময়ে প্রত্যাবাসন ও স্থানান্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় পরিষেবাগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া আরো জটিল হয়ে উঠছে।
আইওএম স্পষ্টভাবে বলেছে, অভিবাসনের সংখ্যা কমে যাওয়া মানেই যাত্রা নিরাপদ হওয়া নয়। জীবন বাঁচাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং তথ্যভিত্তিক পদক্ষেপে বিনিয়োগ বাড়ানো অপরিহার্য।
প্রিন্ট করুন









Discussion about this post