নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে গতি বেড়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৯ দিনেই দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই ধারা বজায় থাকলে মাস শেষে মোট প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, মাসের প্রথম ১৯ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২১২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ উপলক্ষে কোরবানির পশু কেনা, পরিবারের বাড়তি ব্যয় ও উৎসবের প্রস্তুতির জন্য প্রবাসীরা আগেভাগেই বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। ফলে রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে; যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপরও স্বস্তিদায়ক প্রভাব ফেলছে।
এর আগে গত মার্চ মাসে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স আসে দেশে, যা একক মাসে সর্বোচ্চ। ফেব্রুয়ারিতেও ৩০২ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮৩৪ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২০ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আগের বছর একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ২ হাজার ৩৫০ কোটি ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও প্রভাব ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে এর বিনিময় হার বেড়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠিয়ে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post