নিজস্ব প্রতিবেদক: রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড বিগত পাঁচ অর্থবছরে অতিরিক্ত পরিশোধিত কর বাবদ প্রায় ৬০ কোটি ১৭ লাখ টাকা রিফান্ড বা ফেরত দাবি করেছে।
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চট্টগ্রামের কর অঞ্চল বরাবর পাঠানো চিঠির সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
চিঠিতে আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে দ্রুত প্রতিকার চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সরকার নির্ধারিত একটি নির্দিষ্ট মার্জিন বা কমিশনের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করে। কিন্তু কর কর্তৃপক্ষ তাদের আয়ের ওপর কর না ধরে পুরো বিক্রয় মূল্যের ওপর ০.৬০ শতাংশ হারে কর কেটে নিচ্ছে। প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে যেখানে প্রকৃত কর হওয়ার কথা ১৫ পয়সা, সেখানে এনবিআর কেটে নিচ্ছে ৬২ পয়সা। অর্থাৎ, প্রতি লিটারেই কোম্পানিটি ৪৭ পয়সা করে অতিরিক্ত কর দিয়েছে। একইভাবে কেরোসিনে ৪৮ পয়সা, অকটেনে ৫৮ পয়সা এবং পেট্রোলে ৫৬ পয়সা করে বাড়তি কর কাটা হয়েছে। পাঁচ বছরের (২০২১-২০২২ থেকে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষ) হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের রিফান্ড বা ফেরতযোগ্য করের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬০ কোটি ১৭ লাখ ৪৩ হাজার ৩৭৩ টাকা। এই বিশাল অংকের টাকা ফেরত না পাওয়ায় কোম্পানির স্বাভাবিক আর্থিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী মেঘনা পেট্রোলিয়াম একটি পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি হিসেবে ২০ শতাংশ হারে করপোরেট কর দেওয়ার যোগ্য। কিন্তু বিপণন মার্জিনের তুলনায় উৎসে কর কর্তনের হার অনেক বেশি হওয়ায় বছর শেষে কোম্পানিটি লাভের চেয়ে করই বেশি পরিশোধ করছে।
আমলাতান্ত্রিক ও আইনি জটিলতা নিরসনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি জানিয়েছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষ।
প্রিন্ট করুন











Discussion about this post