নিজস্ব প্রতিবেদক : সৌদি আরব-বাংলাদেশ বিজনেস সামিট আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী দ্বিপক্ষীয় এই বিজনেস সামিট উপলক্ষে গতকাল রোববার গুলশানের সিটি ব্যাংক সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদার করতে সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএবিসিসিআই) আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে এই সামিটের মাধ্যমে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এসএবিসিসিআই’র গ্র্যান্ড লঞ্চিং এবং বিজনেস সামিটে যোগ দিতে সৌদির মাজদ আল উমরান গ্রুপের মালিক শেখ ওমর আব্দুল হাফিজ আমির বকশের নেতৃত্বে সৌদি আরবের ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসবেন।
সামিট উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑ৬ অক্টোবর সৌদি প্রতিনিধিদলের সম্মানে ডিনার রিসেপশন। আগামী ৭ অক্টোবর সকাল ১০টায় হোটেল শেরাটনে বিজনেস সামিট অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দুই দেশের উদ্যোক্তা ও বিশেষজ্ঞরা যৌথ বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। একই দিন সন্ধ্যায় চেম্বারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে এবং ৮ অক্টোবর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সমাপনী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী আয়োজন শেষ হবে। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে এসএবিসিসিআই সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রথমবারের মতো একটি আনুষ্ঠানিক ব্যবসায়িক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হলো। এই চেম্বার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এছাড়া বর্তমানে প্রায় ৩০ লাখ বাংলাদেশি সৌদি আরবে বিভিন্ন পেশায় নিযুক্ত। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, টেক্সটাইলসহ নানা খাতে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।
সামিটের আয়োজক সংগঠন এসএবিসিসিআইয়ের সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বিনিয়োগ সম্ভাবনা চিহ্নিত করার লক্ষ্যে সোমবার (৬ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘সৌদি-বাংলাদেশ বিজনেস সামিট’। আশরাফুল হক চৌধুরী বলেন, আগামীকাল প্রতিনিধিদল ঢাকায় অবতরণ করবে। রাতে তাদের সৌজন্যে ডিনার আয়োজন করেছে এসএবিসিসিআই।
আয়োজন সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে বনানীর শেরাটন হোটেলে বিজনেস সামিটের মূল আয়োজন হবে, যেখানে বাণিজ্য উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন। ওইদিন রাতে এসএবিসিসিআইতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সামিটে বাংলাদেশের ২২টি স্টল থাকবে, যেখানে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) একটি স্টল থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে এসএবিসিসিআই’র সহসভাপতি আহমেদ ইউসুফ ওয়ালিদ বলেন, আমাদের চেম্বারের লক্ষ্য শুধু সৌদি বিনিয়োগ আনা নয়, বরং সৌদি আরবে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদেরও যুক্ত করে দুই দেশের ব্যবসায়িক সুযোগ আরও প্রসারিত করা। তিনি বলেন, সৌদি আরবে অনেক বাংলাদেশি সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। আমরা তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই। বাংলাদেশ সম্পর্কে সৌদি আরবের ব্যবসায়ীদের ধারণা খুবই কম। যে ২০ জন বাংলাদেশে আসছেন তাদের বেশিরভাগই প্রথমবারের মতো আসছেন। যারা আসছেন তাদের ব্যবহার করার চেষ্টা করব। কিছু না কিছু ব্যবসা তো হবেই।
সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এসএবিসিসিআই) পরিচালক ও প্রাণ এগ্রো লিমিটেডের পরিচালক উজমা চৌধুরী বলেন, উজমা চৌধুরী বলেন, ২৫ বছর আমরা সৌদিতে পণ্য রপ্তানি করছি। কেবল পণ্য নয়, দক্ষ জনশক্তিও রপ্তানি করতে চাই। সৌদি আরবে দক্ষ নার্সের চাহিদা আছে। আইটি প্রকৌশলীসহ নানা পেশাজীবীর চাহিদা আছে। দক্ষ নার্সের চাহিদা মেটাতে নাটোরে আমজাদ খান চৌধুরী নার্সিং কলেজ কাজ করছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়িক ও বাণিজ্য সমস্যা সমাধানে এসএবিসিসিআই কাজ করবে। সামিটে সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা উঠে আসবে। এছাড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরবে। আমরা সমস্যাগুলো সমাধানের উপায় নিয়ে কাজ করব।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাউল আসিফ সিদ্দিকী।
প্রিন্ট করুন










Discussion about this post