নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যক্তি করদাতাদের জন্য ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এছাড়া অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে সমস্যা হলে করদাতাদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে কাগজে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগও বহাল রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল বৃহস্পতিবার এনবিআরের জারি করা পৃথক দুটি আদেশ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩৩৪ অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জনস্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেয়। সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে স্বাভাবিক ব্যক্তি ও হিন্দু অবিভক্ত পরিবার করদাতাদের ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষ তারিখ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬-এর পরিবর্তে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, করদাতাদের সময়ের চাপ কমানো এবং রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়াকে সহজ করতেই এই সময় বাড়ানো হয়েছে।
অন্য এক বিশেষ আদেশে এনবিআর জানিয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩২৮ অনুযায়ী বেশির ভাগ স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক থাকবে। এর আগে এ বিষয়ে ২০২৫ সালে একাধিক বিশেষ আদেশ জারি করা হয়েছিল। তবে অনলাইন নিবন্ধন বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে যারা অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন না, তাদের জন্য সীমিত সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিশেষ আদেশ অনুযায়ী, যেসব স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে অসমর্থ, তারা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করতে পারবেন। আবেদনে অনলাইনে রিটার্ন দিতে না পারার সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ উল্লেখ করতে হবে। এই আবেদন সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন পেলে ওই করদাতা কাগজে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।
এনবিআর মনে করছে, সময় বাড়ানো এবং সীমিত পরিসরে কাগজে রিটার্ন জমার সুযোগ রাখার ফলে ব্যক্তি করদাতাদের ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে অনলাইন ব্যবস্থার প্রতি করদাতাদের আগ্রহ ও অভ্যস্ততাও ধীরে ধীরে বাড়বে। রাজস্ব কর্মকর্তারা করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিলের আহ্বান জানিয়েছেন এবং অনলাইন ব্যবস্থায় সমস্যায় পড়লে সময়মতো আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এর আগে দ্বিতীয় দফায় অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছিল, যা ৩১ জানুয়ারি শেষ হচ্ছে। আয়কর আইন অনুযায়ী গত বছরের ৩০ নভেম্বর আয়কর রিটার্ন দাখিলের শেষদিন ছিল। পরে সময় বৃদ্ধি করে ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে দেশের প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখের বেশি কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। করযোগ্য আয় থাকলে টিআইএনধারীদের রিটার্ন দিতে হয়। এই পর্যন্ত ৩৪ লাখ টিআইএনধারী রিটার্ন দিয়েছেন।
এ বছর এনবিআর এক বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ৪ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ছাড়া বাকি সব স্বাভাবিক করদাতার ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ৪ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা হলেন-৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব ব্যক্তিগত করদাতা। তবে যারা এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন, তারাও ইচ্ছা করলে অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।
সব করদাতাকে রিটার্ন দিতে হলে এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে জমা দিতে হবে। এজন্য প্রথমে নিবন্ধন করে নিতে হবে। নিবন্ধনের পর পাসওয়ার্ড দিয়ে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে আপনি আপনার রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। অনলাইনে আয়কর রিটার্ন বা ই-রিটার্ন দিতে কোনো কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না। এসব কাগজের তথ্য দিলেই হবে। তবে যেসব কাগজের তথ্য দেবেন, তা সংরক্ষণ করবেন। কারণ, ভবিষ্যতে নিরীক্ষা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে কাগজপত্র চাইলে যেন তা দিতে পারেন।
অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার সময় ঘরে বসেই কর দিতে পারবেন। যেমন ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন।
প্রিন্ট করুন







Discussion about this post