বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
১ বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭
  • ♦ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শেয়ার বিজ
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ
➔ ই-পেপার
No Result
View All Result
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ
No Result
View All Result
শেয়ার বিজ
No Result
View All Result

মৌলিক সংস্কারকে উপেক্ষা করা হবে চরম আত্মঘাতী

Share Biz News Share Biz News
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬.৪:১৯ পূর্বাহ্ণ
বিভাগ - সম্পাদকীয় ➔ প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
A A
6
VIEWS
Share on FacebookShare on TwitterShare on Linkedin

রেজাউল করিম খোকন: একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, স্বপ্ন এবং তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল স্বৈরাচারী স্বেচ্ছাচারী দুঃশাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে। নতুন সরকারের কাছে সাধারণ মানুষের একধরনের আকাঙ্ক্ষা ছিল—বিদ্যমান দূষিত, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় নিমজ্জিত রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থার অবসান হবে বিভিন্ন স্তরে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে। ঐতিহাসিক চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সংস্কার। সংস্কার একটি ধীর ও চলমান প্রক্রিয়া, যাকে একটি যথাযথ পরিকল্পনা এবং দিকনির্দেশনার মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। বিভিন্ন উন্নত দেশের উন্নয়নের প্রক্রিয়ার দিকে তাকালে দেখতে পাই, তাদের রাজনৈতিক সংস্কার সময়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠিত হয়েছে। এখানে রাজনৈতিক মতভিন্নতাকে দেখা হয় সংস্কারকে আরও শানিত করার একটি প্রক্রিয়া হিসেবে, কেবল সস্তা বিরোধ তৈরির জন্য নয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংস্কারবিষয়ক আলাপের পুরো প্রক্রিয়াকে অন্তর্বর্তী সরকার যখন একটি অতি চর্চিত বিষয়ে পরিণত করেছিল, তখন আমরা আশ্বস্ত হতে চেয়েছিলাম যে নতুন নির্বাচিত সরকার এর ন্যায্যতার ওপর ন্যায়বিচার করবে। অর্থাৎ এ নিয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা দিয়ে একটি রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে, কোনো তাড়াহুড়া যেন সেই অধরা সংস্কারকে অধরাই না রেখে দেয়। সংস্কার বিষয়ে বিএনপির বেশ কিছু নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। নোট অব ডিসেন্ট থাকা মানে সেই বিষয়গুলো সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা নয়, বরং এই নোট অব ডিসেন্টের অর্থ হলো ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি দরজা খুলে রাখা। সেটি করা গেলেই আমরা একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উন্নীত হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাব। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি সংসদীয় ব্যবস্থায় রূপান্তর হলো বলেই যে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরে এলো, সেই আত্মতৃপ্তিতে ভুগলে কিন্তু একটা বড় ভুল করা হবে। কেননা যে দীর্ঘ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমাদের বিগত প্রায় দুই দশক পার হয়েছে, সেটি আমাদের সব রাজনৈতিক ও সামাজিক তথা আমাদের সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিক বিপর্যয় ঘটিয়েছে। এর প্রভাব আমাদের রাজনৈতিক জীবন থেকে শুরু করে সমাজজীবনের প্রতিদিনকার জীবনাচরণের প্রতিটি ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ।
আমরা একটি সংসদীয় ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছি, সংস্কারপ্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধিদের মধ্য দিয়ে জনগণের অংশগ্রহণও থাকবে, যা আমরা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেখতে পাইনি। যদিও সেই সরকারের অনেকেই মনে করতেন, তারা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং জনগণই তাদের সব ম্যানডেট দিয়েছে, যা নিয়ে নাগরিক সমাজে বিস্তর বিতর্ক হয়েছে এবং জনমনে জন্ম নিয়েছে নানা দ্বিধা । সেই দ্বিধা কাটিয়ে যখন নির্বাচন হলো এবং বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল, সেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা কিন্তু দলটিকে যা খুশি তা করার ম্যানডেটও দেয়নি । ভূমিধস বিজয় মানে সবকিছু পেয়ে যাওয়ার অধিকার নয় । এক্ষেত্রে আমাদের বিরোধী দলকেও একটি শক্তিশালী ও ইতিবাচক ভূমিকায় থাকতে হবে। এই দুইয়ের মধ্যে যদি একটি কার্যকরী সম্পর্ক না থাকে তাহলে সংসদীয় ব্যবস্থা একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ানোর আগেই ভেঙে পড়তে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিগত সময়ে আমরা যেমন বিরোধী দলকে দেখেছি কেবলই সরকারি দলের বিরোধিতাই করতে। বিরোধী দল মানেই যেন ছিল বয়কট, অনাস্থা ও সংসদ থেকে ওয়াকআউট বা বের হয়ে যাওয়া । ফলে আমরা দেখেছি, কী করে সংসদ একটি অচলাবস্থায় পর্যবসিত হয় এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোও নানাভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ে । তাই বিএনপিকে দুটি বিষয়ে সবসময় সচেতন থাকতে হবে—একটি হলো বিরোধী দলের অধিকারের প্রাপ্যতাকে যেন তারা সংসদে নিশ্চিত করে এবং সংস্কার বিষয়ে সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক থাকে। সংস্কার বিষয়ে বিএনপিকে পরিষ্কার অবস্থান নিয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। কেননা এ বিষয়ে বিএনপি ইতিবাচক থাকলেও তথ্যের ঘাটতি কিংবা পরিষ্কার অবস্থান না থাকলে বিরোধী দল বিএনপিকে সংস্কার পরিপন্থি একটি দল হিসেবে জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারে । এটি এরই মধ্যে কোনো কোনো বিরোধীদলীয় এমপিদের মুখে শোনা গেছে। সেটি বিএনপির ভূমিধস বিজয় কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে একভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদের সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি জোটের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা এখন দৃশ্যমান । একটা অস্বস্তিকর রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে ধাবমান হচ্ছে বাংলাদেশ। এটা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ আলোচিত একটি বিষয় হয়ে উঠেছে ইদানীং। সেই টানাপোড়েন থেকেই জনগণের একটা অংশ মনে করতে পারে বিএনপি আসলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে
গুরুত্বপূর্ণ কিছু সংস্কার থেকে নিজেদের দূরে রাখছে, যা তাদের নেতিবাচক ইমেজ তৈরি করবে। সাম্প্রতিক কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্য দিয়ে জনমনে সেই সংশয় দানা বাঁধছে, যা বিএনপি সরকারকে জনগণের সামনে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরতে পারে, যা সংস্কারকে কেন্দ্র করে তাদের ভাবমূর্তির সংকট তৈরি করতে পারে। প্রায় দুই দশক ধরে জোরালোভাবে পুলিশ সংস্কারের আলোচনা চলছে। ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি । অন্তর্বর্তী সরকারের সময় একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল । নানা পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সেই সম্ভাবনাও কাজে লাগানো যায়নি। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর পুলিশ কমিশন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পুলিশ সংস্কারের মূল প্রশ্নটি হচ্ছে পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে মামলা তদন্ত ও পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নির্দেশনার প্রভাব থাকলে পুলিশের প্রতি জন-আস্থা তৈরি হবে না । এখন দেশ গঠনে বিএনপির ইতিবাচক ভূমিকা পালনের জন্য সংস্কার নিয়ে তাদের বিশদ কর্মপরিকল্পনা পরিষ্কার করতে হবে। এখানে বিশেষ করে গুমের বিষয়টি খুব সংবেদনশীল একটি বিষয়, যা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা উচিত নয় । কেননা গুমের নানা নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে আমাদের অনেকের জীবনের গতিপথ নানাভাবে বদলে গেছে। অনেকেরই আরও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে । বিগত সময়ে এখানে লেখালেখির স্বাধীনতাকে নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হতো । কীভাবে হতো সেটা এখন সবাই জানে, কিন্তু সেই সময় এ নিয়ে কথা বলা ছিল ভয়ের, বিশেষ করে বলতে হয় গুমের ভয়। যে ভয়ের সংস্কৃতি আমাদের দেশে গড়ে উঠেছিল, সেই ভয়ের সংস্কৃতিতে আমরা আর ফিরে যেতে চাই না । গুমের বিষয়গুলো আমাদের মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত, সুতরাং এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত এই সরকার নিতে যাচ্ছে বা নিচ্ছে, সেটি যেন আবারও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গুম, খুন ও নিখোঁজের সুযোগ করে না দেয়, সেদিকে তাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, তাদের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে অসংখ্য নেতা-কর্মীও এই গুম-খুনের শিকার হয়েছেন অর্থনীতির স্বার্থে তথা দেশের স্বার্থে ব্যাংক খাত ও রাজস্ব খাতের সংস্কার খুবই জরুরি। কোনোভাবেই উভয় খাতের সংস্কারের উদ্যোগ থেকে পিছিয়ে আসা যৌক্তিক হবে না ।আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে চলমান ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে এসব সংস্কার সম্পর্কযুক্ত। যদি সম্পর্কযুক্ত নাও থাকত তবু দুই খাতের সংস্কার দরকার । রাজস্ব খাতের সংস্কার করা নিয়ে ঝামেলা ছিল । আমলাতান্ত্রিক বাধার মুখে পড়েছিল। সত্যি বলতে, আমলারা তা চাননি । কিন্তু আমরা সবসময়ই দেখে আসছি, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেকে কর দেন না। কর যারা আরোপ করেন, তারাই আবার শুনানি করেন এবং একপর্যায়ে তা মওকুফ করে দেন। এ ব্যবস্থা ঠিক নয়। ব্যবসায়ীরা তো খালি নিজেদের স্বার্থটা বড় করে দেখেন; শুধু বলেন—কর কমিয়ে দিন। কিন্তু কর কমালে সরকার চলবে কীভাবে? সরকারের বিভিন্ন ধরনের ব্যয়ের জন্য অর্থের সংস্থান হবে কোত্থেকে? ব্যাংক রেজোলিউশন অধ্যাদেশ করে পাঁচটি ইসলামি ব্যাংককে একটা করা হয়েছে। এ ছাড়া কোনো উত্তম বিকল্প ছিল না। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের আসন্ন বৈঠকে উভয় বিষয় নিয়েই কথা উঠবে । একটা জিনিস মনে রাখা দরকার, সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা পর্যালোচনা করে আইএমএফ। এ পর্যালোচনা প্রতিবেদনের সূচকগুলো ভালো থাকলেই বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ সব উন্নয়ন সহযোগীই অর্থ সহযোগিতা করে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ও নতুন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিপুল অর্থের দরকার । তাই এরই মধ্যে আইএমএফের সঙ্গে সাবধানে আলোচনা করতে হবে। দেশের অর্থনীতি একটা জটিল সময় পার করছে। সূচকগুলোর দিকে ভালোভাবে তাকানো যায় না। এর মধ্যে একটা সূচক বেশ ভালো । সেটা হচ্ছে প্রবাসী আয় । তবে এই ভালো নিয়েও চরম অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির কারণে। যুদ্ধ থেমে গেলেও সেখানকার বিপর্যস্ত অর্থনীতির কারণে দেশে ফিরতে হতে পারে ভেবে প্রবাসীরা পুরো সঞ্চয় পাঠিয়ে দিচ্ছেন কি না, সেটা খতিয়ে দেখতে হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বিলোপ করে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা নামে দুই বিভাগ করার যে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, তা ছিল রাজস্ব খাত সংস্কারের অংশ। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার চার শতাংশের কম। শোনা যাচ্ছে, আইএমএফ থেকে বাড়তি অর্থও চাওয়া হবে। চলতি মাসে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বৈঠকে একটা কথা বলে এসে, আর জুনে বাজেট করার সময় মত পাল্টে অন্য আরেকটা করে ফেলা হলে ঋণ কর্মসূচিটি ঝুলে যেতে পারে। কর্মসূচিটি চলমান থাকা দরকার । আর যেকোনো বিবেচনায় সংস্কারের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া দরকার। এটা কিন্তু ঠিক, সংস্কার করা না হলে অনেক বেশি মূল্য দিতে হবে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দুর্নীতি দমন কমিশন। আমরা বিগত সময়ে
দুর্নীতির আকাশচুম্বী বিস্তার দেখেছি, যেখানে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আমাদের দেশ থেকে পাচার করে ফেলা হয়েছে, মেগা প্রজেক্টের আড়ালে চলত দুর্নীতির মহোৎসব । তাই এগুলোসহ অন্যান্য অধ্যাদেশ এই মুহূর্তে সংসদে না তুলে আদতে তারা কতটা সংস্কার অর্জন করতে চায় এবং কীভাবে চায়, তার যথাযথ ব্যাখ্যা ও পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে দেশের মানুষকে এখনই পরিষ্কার ধারণা দিতে হবে। সেটি করতে না পারলে জনমনে সরকারের ভূমিকা নিয়ে দ্বিধা ও সংশয় তৈরি হবে এবং কেননা সরকারের এখন সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি অর্জন করতে হবে, সেটি হলো জনগণের আস্থা ও ভরসার জায়গা । সেই আস্থা ও ভরসার জায়গা তৈরি করতে হলে জনবান্ধব নীতি ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই । যেহেতু বিএনপি সরকার অধিকাংশ সংস্কার প্রস্তাব সংসদীয় ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিগ্রহণ করছে, এই অল্প কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত যেন সেই অর্জনগুলোকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত না করে, সেদিকে নজর দেওয়া উচিত। কেননা দেশ গঠনে জনগণের দেওয়া এই বিরাট সুযোগ বিএনপির উচিত সম্পূর্ণরূপে ব্যবহার করা ও আওয়ামী লীগের মতো ভুল না করা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধন ও গুম প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। অন্যদিকে গুম কনভেনশনে পক্ষ রাষ্ট্র হওয়ার কারণে গুম প্রতিরোধে আইন করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন, অ্যাকটিভিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীরাও আইন দুটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছিলেন । এছাড়া নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের অপশনাল প্রটোকল অনুযায়ী একটি জাতীয় প্রতিরোধব্যবস্থা গঠনের বিষয়টি মানবাধিকার আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যাতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন ঘটার আগেই প্রতিরোধ করা যায়। গুম আইনটিও এ-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির পক্ষ রাষ্ট্র হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছিল । ফলে এসব আইন শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা নয়, আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। এগুলো উপেক্ষা করা হলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা থেকে যাবে । রাজনৈতিক বাস্তবতায় এসব আইন পুরোপুরি বাতিল করা বর্তমান সরকারের পক্ষে হয়তো সহজ হবে না। বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী অতীতে গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। গুম প্রতিরোধ আইন না হলে মায়ের ডাকের সানজিদা কিংবা গুমের শিকার ইলিয়াস আলীর পরিবারগুলোকে কী উত্তর দেবে বিএনপি। এসব স্মরণ রেখে বিএনপি বরং অচিরেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের চেয়ে শক্তিশালীভাবে এসব আইন প্রণয়ন করবে বলে আশা করি । যদি গুম প্রতিরোধ আইন করা হয় বা মানবাধিকার কমিশনকে দুর্বল রাখা হয়, তবে তা অবশ্যই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার পরিপন্থি হবে । জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু বৈষম্যের কারণে নয়, বরং দীর্ঘদিনের গুম, খুন, নির্যাতন ও হয়রানির মতো অভিজ্ঞতার বিরুদ্ধে মানুষের জমে থাকা ক্ষোভ থেকেই বিস্ফোরিত হয়েছিল। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত আইনগুলো সেই আন্দোলনের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি শক্তিশালী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি নিজেই স্বৈরাচারী শাসনামলের বড় ভুক্তভোগী । তাই তাদের পক্ষে সংস্কারের বিরুদ্ধে থাকা স্বাভাবিক নয় । প্রশ্ন হচ্ছে, তারা কতটুকু সংস্কার চায় এবং সেটি জনগণের কাছে কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে পারছে। বিএনপি বলছে, কিছু সংস্কার এখন নয়, পরে করা হবে । কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতার কারণে জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। এটাই সমস্যার একটা কারণ। সাধারণত ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে আগের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে যেকোনো রাজনৈতিক সরকার। তবে বিএনপির সামনে এখন একটি বড় সুযোগ রয়েছে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরের মধ্যে সংস্কারের এমন অনুকূল পরিবেশ খুব কমই এসেছে। সংস্কার নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি, প্রস্তুতিমূলক বহু কাজও করা হয়েছে— সব মিলিয়ে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। আজ আমরা সেই শহীদদের স্মরণ করছি, যারা আত্মত্যাগ করে আমাদের নতুন বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতা উপহার দিয়েছেন । দুই হাজারের বেশি শহীদ হয়েছেন এবং ৪০ হাজারের অধিক আহত হয়েছেন। তাদের স্বপ্ন ছিল একটি নতুন, ন্যায়, ইনসাফ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু আমরা দেখছি, বিপ্লব-পরবর্তী নির্বাচিত সরকার শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ও জাতির সংস্কারের দাবি উপেক্ষা করছে। গণভোট, মানবাধিকার কমিশন, সাংবিধানিক ও বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া এবং রাষ্ট্র সংস্কারের অধ্যাদেশগুলো বাতিলের প্রস্তাব এসেছে। ১৬ বছর ধরে তৈরি ফ্যাসিবাদী কাঠামো আবার ফিরে আসার হুমকি দেখা দিচ্ছে, যা আমরা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারি না । আমাদের আকুতি হলো, সঠিকভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা, যাতে শহীদদের স্বপ্ন পূর্ণতা পায় এবং দেশে ন্যায্যতা, ইনসাফ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার, কলাম লেখক

প্রিন্ট করুন প্রিন্ট করুন
Previous Post

সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি থেকে রেমিট্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেল ব্র্যাক ব্যাংক

Next Post

বৈশাখী হাওয়ায় শেকড়ের ঘ্রাণ

Related Posts

সম্পাদকীয়

বাংলা নববর্ষ বাঙালির আত্মপরিচয়ের প্রকাশ

সম্পাদকীয়

বৈশাখী হাওয়ায় শেকড়ের ঘ্রাণ

সম্পাদকীয়

বাগেরহাটের দীঘিতে ডুবে যাওয়া আমাদের বিবেক

Next Post

বৈশাখী হাওয়ায় শেকড়ের ঘ্রাণ

Discussion about this post

সর্বশেষ সংবাদ

বর্ষবরণে রঙিন সারা দেশ, উৎসবে মাতোয়ারা বাঙালি

বর্ষবরণে রঙিন সারা দেশ, উৎসবে মাতোয়ারা বাঙালি

ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার ঝুঁকিতে পড়বে: আইএমএফ

ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার ঝুঁকিতে পড়বে: আইএমএফ

মন্ত্রীদের ছবিই যেন চাঁদাবাজির লাইসেন্স

মন্ত্রীদের ছবিই যেন চাঁদাবাজির লাইসেন্স

জ্বালানি মজুত রোধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন বাস্তবায়ন করব: প্রধানমন্ত্রী

সব জেনেও নিশ্চুপ বিএসইসি

সব জেনেও নিশ্চুপ বিএসইসি




 

আর্কাইভ অনুসন্ধান

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  

প্রকাশক ও সম্পাদক ✍ মীর মনিরুজ্জামান

তথ‌্য অ‌ধিদপ্ত‌রের নিবন্ধন নম্বরঃ ৪৮

একটি শেয়ার বিজ প্রাইভেট লি. প্রতিষ্ঠান

(প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রয়োজন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে)

সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

বিএসইসি ভবন (১০ তলা) ॥ ১০২ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ ॥ ☎ 01720123162, 01768438776

  • ♦ বাংলা টেক্সট কনভার্টার

Copyright © 2025 Daily Share Biz All right reserved. Developed by WEBSBD.NET

No Result
View All Result
  • ☗
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • সারা বাংলা
  • পত্রিকা
    • প্রথম পাতা
    • শেষ পাতা
    • পুঁজিবাজার
    • সম্পাদকীয়
    • ফিচার
  • রাজনীতি
  • তথ্য-প্রযুক্তি
  • স্পোর্টস
  • বিনোদন
  • শিক্ষা
  • স্বাস্থ্য
  • অর্থ ও বাণিজ্য
    • করপোরেট কর্নার
    • মূল্য সংবেদনশীল তথ্য
  • ফটো গ্যালারি
  • পুরনো নিউজ

Copyright © 2025 Daily Share Biz All right reserved. Developed by WEBSBD.NET